‘দল ও জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন’
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০১
‘দল ও জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন’
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

টানা চার দশক ধরে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার পর দলে অভ্যন্তরীণ কলহ, বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা বেড়ে গিয়েছিল। দলের সেই দুঃসময়ে ১৯৮১ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফেরার ২১ বছর পর আন্দোলন, সংগ্রাম করে তারই নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা‘র জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর)। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে তাকে কাছ থেকে দেখেছেন টানা তিন বার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবউল আলম হানিফ। ২০১০ সাল হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ফিরে আসা এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহবুবউল আলম হানিফ। পাঠকদের জন্য তার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক সোহেল আহমদ।


বিবার্তা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের এক রাতে তার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছেন। এরপরও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল ও শক্তির জায়গা কোথায় বলে আপনি মনে করেন?


মাহবুবউল আলম হানিফ: শক্তির জায়গা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকন্যা। বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে, কাছে থেকে তার রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার কারাবন্দি হয়েছিলেন সেই সময়ে বঙ্গমাতার সঙ্গে শেখ হাসিনাও কারাগারে তাকে দেখতে যেতেন। বাঙালি জাতির প্রতি বঙ্গবন্ধুর প্রচণ্ড টান, দায়িত্ববোধ ছিল। তাকে দেখেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে উঠেছিলেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে দেশে আসার সুযোগ পেলেন। দেশে এসেই তিনি কিন্তু স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সংগ্রাম করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।


এই ৪০-৪২ বছর তাকে সংগ্রামী পথ চলতে হয়েছে। আর এই সংগ্রামী পথ চলতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন। তার প্রাণনাশের জন্য ১৯ বার হামলা করা হয়েছে। সরাসরি গুলি করা হয়েছে, গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে। এরপরও বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। দৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেছেন। তার দৃঢ় মনোবলের মূল শক্তি ছিলদেশের জনগণ এবং বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া রাজনৈতিক শিক্ষা।


বিবার্তা: বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ৪২ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ এবং প্রাচীন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দলের দুঃসময়ে দেশে ফিরে সংগঠনের হাল ধরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগে সাংগঠনিকভাবে কতটা পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন?


মাহবুবউল আলম হানিফ: সময়ে সময়ে দেশের সামাজিক, আর্থিক পরিবর্তন হয় এবং এসবের সাথে রাজনীতির একটা সম্পর্ক থেকে যায়। শেখ হাসিনা যে সময়ে দেশে এসেছিলেন তখন সংগঠন কঠিন অবস্থা অবস্থার মধ্যে ছিল। আওয়ামী লীগের নাম নেয়া কঠিন ছিল। ৭মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল, রণাঙ্গনের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ নিষিদ্ধ ছিল। তখন আওয়ামী লীগ করাটাই পাপ বা অপরাধ এর দিকে চলে গিয়েছিল।


আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলা, নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। শেখ হাসিনা সেই অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগকে ভাঙাচোরাঅবস্থা থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন। আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। এতে দুইটা বিষয় পরিষ্কার হয়, দলের মধ্যে শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এবং পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও শেখ হাসিনা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ১৯৮১ সালে যে অবস্থায় ছিলতার থেকে আওয়ামী লীগ এখন বহুগুণে শক্তিশালী।


বিবার্তা: বলা হয় পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলণ। এরপর ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন। তাহলে সেদিনই কি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের মোড় ঘুরে গিয়েছিল?


মাহবুবউল আলম হানিফ: ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসলেন। তাকে বরণ করে নেয়ার জন্য সেদিন আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে গিয়েছিল। মানুষের মধ্যে বাঁধভাঙাজোয়ার ছিল। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে রানওয়েতে গিয়ে মানুষ তাকে বরণ করেছে। সেদিন বৈরী আবহাওয়া ছিল। প্রতিকূল পরিবেশে তাকে নিয়ে যখন আমরা মানিক মিয়া এভিনিউতে আসলাম তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টি এর মধ্যেও লাখ লাখ মানুষ শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছিল। শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আশা, আবেগ ছিল। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে পাকিস্তানের আদর্শ, ভাবধারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মানুষ মনে করত বাংলাদেশ মনে হয় একাত্তরের আগের অবস্থায় আছে। মানুষের মাঝে নাভিশ্বাস উঠেছিল, জাতি মুক্তি চেয়েছিল। মুক্তির জন্য মানুষ শেখ হাসিনাকে পেয়ে তাকেই তাদের বাঁচার অবলম্বন, আশা-ভরসার জায়গা মনে করেছিল। এবং শেখ হাসিনা সেই জায়গা থেকে মানুষকে মুক্তি এনে দিয়েছেন।


বিবার্তা: বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। তারই জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। এই পথচলায় প্রধান চ্যালেঞ্জ কী বলে আপনি মনে করেন?


মাহবুবউল আলম হানিফ: একটা দেশের অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। বাংলাদেশেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলো মোকাবিলা করেই শেখ হাসিনার পথচলা। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। যদি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় তখন উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি করার চেষ্টা করেছে, বারবার সহিংসতা করেছে। যার ফলে তখন উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে স্থিতিশীলতা ছিলযার কারণে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।


তাই আমাদের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে দু’টি পক্ষ আছে। একটি স্বাধীনতার পক্ষের অন্যটি বিপক্ষের। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিএনপি-জামায়াত উন্নয়ন চায় না। যার ফলে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা চক্রান্ত করে যাচ্ছে, সেটাকে মোকাবেলা করা বড় চ্যালেঞ্জ।


বিবার্তা/সোহেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com