ষড়যন্ত্র করে হত্যা করতে পারবেন, ক্ষমতা পাবেন না: কাদের
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:৫১
ষড়যন্ত্র করে হত্যা করতে পারবেন, ক্ষমতা পাবেন না: কাদের
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই দেশে আন্দোলনে জিতলে নির্বাচনে জেতা যাবে। ষড়যন্ত্র করে কাউকে হত্যা করতে পারবেন, ক্ষমতা পাবেন না। সাড়ে ১৩ বছর ধরে কত মাস, সপ্তাহ, দিন আর পদ্মা মেঘনায় কত পানি দেখা গেল কিন্তু ফখরুল সাহেবদের আন্দোলনের সোনার হরিণ দেখা গেল না।


বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) অডিটরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে ‘পিতার শোক, কন্যার শক্তি বাংলার অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি’ শীর্ষক ব্যানারে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলােশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা।


এসময় ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গবেষক, চিন্তাবিদ ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। বিশষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।


ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন করবেন কিন্তু ব্যর্থ হলে দোষ আওয়ামী লীগের। কোথায় আন্দোলন? আন্দোলনে সোনার হরিণ দেখা না দিলে ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসন কোনোদিনও দেখা দিবে না। এদেশে আন্দোলনে জিতলে নির্বাচনে জেতা যাবে। ষড়যন্ত করে কাউকে হত্যা করতে পারবেন, ক্ষমতা পাবেন না। সাড়ে ১৩ বছর ধরে কত মাস, সপ্তাহ, দিন আর পদ্মা মেঘনায় কত পানি দেখা গেল কিন্তু ফখরুল সাহেবদের আন্দোলনের সোনার হরিণ দেখা গেল না! ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসন দিল্লি দূরস্থ এখনও অনেক দূরে। ফখরুল সাহেব কষ্ট প্রকাশ করে কি করবেন শেখ হাসিনাকে আল্লাহ ক্ষমতা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এদেশে একজনকে সৃষ্টি করেছেন স্বাধীনতার জন্য আরেকজনকে সৃষ্টি করছেন মুক্তির জন্য। শোককে শান্তিতে পরিণত করার জন্য মুক্তির আপোসহীন কান্ডারী শেখ হাসিনা।


তিনি বলেন, এই বাংলার ইতিহাস ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিষোধ নিতে পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড। একাত্তরে যে বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের সাথে ষড়যন্ত্র করেছে তারাই এই ষড়যন্ত্রে সামিল হয়েছে। ‘৭৫ আর ১৭৫৭ সাল মিলিয়ে দেখুন একই ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি হয়েছে এইদেশে।


কাদের বলেন, উপরে মুক্তিযোদ্ধা ভেতরে পাকিস্তান। সেটার বড় প্রমাণ সেনাপতি জিয়াউর রহমান। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে পরিচয় দিলেও অথচ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনায় বিভিন্ন বৈঠকে তিনি ছিলেন প্রধান পুরুষ। আমিও তো তো বলতে পারি, জিয়াউর রহমান জড়িত না থাকলে খুনিরা বঙ্গবন্ধু হত্যার সাহস পেত না। কিন্তু ফখরুল সাহেবরা তা বিশ্বাস করতে চায় না। তাহলে কারা এই খুনিদের বিমান দিয়ে থাইল্যন্ড পাঠালো নিরাপদে, বাংলাদেশের দূতাবাসে চাকরি দিল, সচিব পদে প্রমোশন দিল? এরচেয়ে জঘন্য কাজ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হবে না। আর সেই খুনি মোশতাক তিনমাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। কিন্তু এর বিচার হয়েছে। এই বাংলার মাটিতে যে বুলেট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম করেছে তা বেগম জিয়াকেও বিধবা করেছে। আমাদের এক কথার এক দাবি যেসব খুনিরা বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের ফেরত চাই।


প্রধান আলোচকের বক্তব্যে গবেষক, ইতিহাসবিদ ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার একটি তদন্ত কমিশন হোক এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করা হোক। সমস্ত তথ্য মিলে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। শ্বেতপত্র প্রকাশ একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রীতি। এটা এজন্য যে সাধারণ মানুষ যাতে জানতে পারে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে কী হয়েছিল এবং কেন হয়েছিল।


ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে ছাত্রলীগ চেয়েছিলেন তোমরা সেরকম ছাত্রলীগ হওয়ার চেষ্টা করো। তোমাদের হাতে বই, খাতা, কলম দেখতে চাই, তোমার উপস্থিতি দেখতে চাই শ্রেণিকক্ষে ও গ্রন্থাগারে।


সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি কিন্তু দেহের শেষ রক্ত বিন্দু থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শরীরে একটি ফুলের আঁচড়ও পড়তে দেবো না।


তিনি আরো বলেন, কিছুদিন পূর্বে পুরান ঢাকার ‘টিকটক বয়’ খ্যাত ইশরাক বলেছে সে নাকি ছাত্রলীগকে গোনায় ধরে না। ইশরাককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আরে বেটা তুই তো ছোট বাচ্চা। তোর মরহুম আব্বার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, তোর আব্বাকে জিজ্ঞেস কর ছাত্রলীগ কী জিনিস? তুই তো মূর্খ মানুষ। টিকটক বাদ দিয়ে মাঠে আয়। মাঠে খেলা হবে আর ঢাবি ছাত্রলীগ সেখানে স্ট্রাইকারের ভূমিকা পালন করবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে কোনো অপশক্তি যেন মাঠে এসে ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ তরুণদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এসময় তিনি বলেন, যে-ই ষড়যন্ত্র করবে তাকে মাঠেই প্রতিহত করা হবে।


বিবার্তা/সাইদুল/এসএফ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com