কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে: হানিফ
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২২, ২০:৩৬
কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে: হানিফ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।


তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সামনে রেখে শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি এখনো সোচ্চার। তারা দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের বাইরে লন্ডন, আমেরিকা থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দেশকে এগিয়ে যেতে হলে ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।


মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেট-এর ১১তম বর্ষপদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে, দুই লাখের বেশি মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। এই বাংলাদেশকে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না, পিছিয়ে থাকতে দিতে পারি না। যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী ছিলো না, স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি উন্নয়ন দেখলে তাদের কষ্ট হয়। তারা মনেপ্রােণে বাংলাদেশে মন্দা, ব্যর্থতা দেখলে খুশী হয়। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে। এ ধরণের স্বপ্ন জাতির জন্য হতাশাজনক। এসব স্বপ্ন যারা দেখছে জনগণের সামনে তাদের পরিচয় তুলে ধরা গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঠিক ইতিহাস গণমাধ্যম তুলে ধরবে- এমন প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, আগস্ট মাস জাতীয় শোকের মাস, স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমরা এই মাসে হারিয়েছিলাম। জাতির পিতাকে হারানোর মাস হিসেবে নয় আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কিত মাস হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীর সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনাটি এই মাসে ১৯৭৫ সালে ঘটেছিলো। গণমাধ্যম এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিশ্বাস করি।



আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা ১৩ বছরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে। এই সমযে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশে চরম দরিদ্র ছিলো, যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিলো। দুর্নীতিতে এক নম্বর, সন্ত্রাসীদের চারণভূমি, উগ্রবাদী মৌলবাদের ঘাঁটি হিসেবে বিশ্বে পরিচিত ছিলো। সেই বাংলাদেশ আজ বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে ঘুরে দাড়িয়েছে।


বাংলাদেশকে বিশ্বের মানুষ উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের বাংলাদেশ আজ শান্তির বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পরিচয় দিয়েছে। পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগের বাংলাদেশ ভাবার সুযোগ নেই।


হানিফ বলেন, মহামারি করোনার দুই বছরে পুরো বিশ্ব বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলো। এর ঢেউ লেগেছিলো বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দক্ষতার সাথে সেই সংকট মোকাবেলা করে জীবন জীবিকার সমন্বয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে যাচ্ছে। মুদ্রার মান বাড়ছে কমছে, পুরো বিশ্বে ভয়াবহ পরিবেশ। বিদেশি বাজারে ডিজেল, তেল ও গ্যাস অস্বাভাবিকভাবে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকট মোকাবেলার জন্য সরকার লোডশেডিং এর মতো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খরচ কমিয়ে অর্থনীতিতে চাপ কমিয়ে আনা আমাদের লক্ষ্য। এই সময়ে এসে একটি শ্রেণী বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। সঠিকভাবে তথ্য উপাত্ত তুলে ধরতে পারে।


তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের ঢেউ বাংলাদেশে লেগেছে। এসময়ে সংকটের সময়ে সরকারের পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও এর থেকে উত্তরণ গণমাধ্যমে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিবার্তা২৪ডটনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা রেখে তিনি বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। জাতি গঠনে সংবাদপত্রের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমে সরকারের দুর্বলতা উঠে আসে। এর পাশাপাশি জাতি সরকারের সফলতাও জানতে পারে। আমরা মনে করি গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। বিবার্তা সেই দায়িত্ব গত দশটি বছর পালন করে এসেছে।



জাগরণ টিভির প্রধান সম্পাদক এফএম শাহীন ও বিবার্তা২৪ডটনেটের সাহিত্য সম্পাদক সামিনা বিপাশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু, ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক (উপ-সচিব) ড. এম এম মাজেদুল ইসলাম, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মিতা রহমান, এনডিপির মহাসচিব মো. মঞ্জুনর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-(ডিআরইউ') সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নূরুল ইসলাম হাসিব, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজি মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সহ সভাপতি কাজী শহিদুল্লাহ লিটন, মজিবুর রহমান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হোসেন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, গণ যোগাযোগ উপসম্পাদক তানভীর আক্তার শিপন, কেন্দ্রিয় সদস্য আবু জাফর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মফিজুল হক সরকার, বাণিজ্য প্রতিদিনের সম্পাদক এ কে এম রাশেদ শাহরিয়ার, যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট কুহেলী কুদ্দুস মুক্তি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন বাবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাংবাদিক শাহনাজ আক্তার পলি।


এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিবার্তা২৪ডটনেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সহকারী গুলশাহানা ঊর্মি, গৌরব ’৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনি, ইসলামিক বক্তা মওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈফি, বাংলা জার্নালের প্রকাশক ও বিবার্তা২৪ডটনেটের বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান রোমেল, গৌরব ’৭১ এর সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুপমসহ অন্যরা।


উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বাণী ইয়াসমিন হাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে সম্পাদক হিসেবে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেট প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১০ বছর অতিবাহিত করে এগারো বছরে পা দিয়েছে ‘সারাবেলা সব খবর’ স্লোগান ধারণ করা এই অনলাইন গণমাধ্যমটি।


বিবার্তা/সোহেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com