শিথিল হচ্ছে চীনে পর্যটনের বিধিনিষেধ
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:২৯
শিথিল হচ্ছে চীনে পর্যটনের বিধিনিষেধ
পর্যটন ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ করে দিতে বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। দেশের পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ সহজতর করতে গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর)এ–সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা জারি করেছে চীন সরকার।


চীনের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, চীনের সীমান্ত এলাকায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে আয়োজিত ট্যুর গ্রুপগুলো নিজেদের ‘পছন্দমতো’ প্রবেশ ও বের হওয়ার বন্দর বাছাই করতে পারবে। তবে স্থান ও তারিখ নিয়ে এতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।


২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর চীন বিদেশি পর্যটকদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। তবে বৈধ ভিসা আছে শুধু এমন নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। করোনার অতি সংক্রামক অমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় কোভিড বিধিনিষেধ লক্ষণীয়ভাবে কঠোর করে চীন সরকার। সেপ্টেম্বরে একাধিক বৃহৎ শহরে পুরোপুরি কিংবা আংশিক লকডাউন দেওয়া হয়।


নতুন খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, সীমান্তের পর্যটন স্থাপনাগুলো ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বিদেশি পর্যটকেরা। তবে সেটা হতে হবে ট্যুর গ্রুপের মাধ্যমে।


এদিকে ভ্রমণকারীদের জন্য চীনের যে কোয়ারেন্টিন বাধ্যবাধকতা রয়েছে, পর্যটকদের ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে বিধিমালায় স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বর্তমান বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, চীনে গেলে এক সপ্তাহের হোটেল কোয়ারেন্টিন এবং তিন দিনের ‘হোম অবজারভেশনে’ থাকতে হয়।


চীন বিশ্বের একটি বৃহৎ শক্তি এবং এশিয়ার মহাদেশের একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তি।দেশটির প্রধান প্রধান নগর অঞ্চলের মধ্যে সাংহাই, কুয়াংচৌ, বেইজিং, ছোংছিং, শেনচেন, থিয়েনচিন ও হংকং উল্লেখযোগ্য।


চীনের আয়তন প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। স্থলভূমির আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের ৩য়/৪র্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র (বিতর্কিত)। সামগ্রিক আয়তনের বিচারে ও পরিমাপের পদ্ধতিভেদে এটি বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম এলাকা।


চীনের ভূমিরূপ বিশাল ও বৈচিত্র্যময়। দেশটির অনুর্বর উত্তরাংশে অরণ্য স্টেপ তৃণভূমি এবং গোবি ও তাকলা মাকান মরুভূমি যেমন আছে, তেমনি এর আর্দ্র দক্ষিণাংশে আছে উপক্রান্তীয় অরণ্যসমূহ। হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা, পামির মালভূমি ও থিয়েন শান পর্বতমালা চীনকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে ভৌগলিকভাবে আলাদা করেছে। ইয়াংসিকিয়াং নদী (বিশ্বের ৩য় দীর্ঘতম) ও পীত নদী (বিশ্বের ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম) তিব্বতের মালভূমি থেকে উত্‌সারিত হয়ে পূর্বের জনবহুল অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪,৫০০ কিলোমিটার (৯,০০০ মা)। বোহাই উপসাগর, পীতসাগর, পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর এর সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ করেছে।


চীনের উত্তরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া; উত্তর পূর্বে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া; পূর্বে চীন সাগর; দক্ষিণে ভিয়েতনাম, লাওস, মায়ানমার, ভারত, ভুটান, নেপাল; দক্ষিণ পশ্চিমে পাকিস্তান; পশ্চিম আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কির্গিজিস্তান ও কাজাকিস্তান। অর্থাৎ রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, মঙ্গোলিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমারসহ ১৪ দেশের সঙ্গে চীনের সীমান্ত রয়েছে। এই ১৪টি দেশ বাদে চীনের পূর্বে পীত সাগরের পাশে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান; দক্ষিণ চীন সাগরের উল্টো দিকে আছে ফিলিপাইন।


সূত্র: সিএনএন


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com