রাজনৈতিক সৌন্দর্য
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:৪৬
রাজনৈতিক সৌন্দর্য
এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন
প্রিন্ট অ-অ+

যেকোন সরকার দলের ওপর চাপ প্রয়োগ করার অনুশীলন পরখ করেছি। বিশ্বময় রাজনীতির প্রাণই তা। জনস্বার্থে ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো তা করতে পারলে রাজনীতিকে তখন উপভোগ করাও যায়। তাগিদ আসে তখন সরকার দলের। মনে হয়, আরো ভালো কিছু করতে হবে দেশের জন্য। মানুষের জন্য। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোর গণমুখী কর্মসূচী নেই।


আওয়ামী লীগের চাইতে বাংলাদেশের জন্য সেই সকল রাজনৈতিক দলগুলো উন্নত চিন্তা করতে পারেনি, পারছে না। যা তাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা। সেই কারণে সাধারণ মানুষ তাদের কথিত রাজনৈতিক আন্দোলনে রাস্তায় নেমে আসে না। জনশ্রেণি শেখ হাসিনায় আস্থা রাখে, তারা মনেই করে যে, ওনার বিকল্প নেতৃত্ব বাংলাদেশে অনুপস্থিত।


সমসাময়িক রাজনীতিতে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে কেউ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না। অথচ, আওয়ামী লীগ প্রত্যাশা করে, জনগণের দল হয়ে দেশের প্রায় চল্লিশটি রাজনৈতিক দল চাপে রাখুক। কিন্তু হতাশ হতে হয়। যা এখানে চলছে, তা হল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লক্ষ্যহীন লক্ষ্য এবং তা রাজনৈতিক অপশক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিতও।


রাজনৈতিক সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতেও আওয়ামী লীগ উদারতার অনুশীলনে যেতে পেরেছে। গেল বছর দেশের নামধারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশের সব বিভাগে রাজনৈতিক সমাবেশ করতে পেরেছে- যা গণতান্ত্রিক ধারায় সৌন্দর্য হয়ে সুবাস ছড়ালেও বিএনপি কাজে লাগাতে পারেনি। তারা কী কী জনস্বার্থে লড়ছে, তা প্রমাণ করতে পারেনি। সভাগুলোয় বক্তার অভাব ছিল এবং প্রধাণত, উদ্দেশ্য বিক্ষিপ্ত হওয়ায় বোঝাই গেছে তা ছিল লোক দেখানো কর্মসূচী।


বিএনপি আহুত সাম্প্রতিক সময়ের সমাবেশগুলোয় শুধুমাত্র তাদের শীর্ষনেতাদের মামলা থেকে মুক্তি দাবী করা এবং জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে কেয়ারটেকার সরকার প্রত্যাশা করার অহেতুক দাবী, তাদেরকে জনগণের দল হিসাবে দাঁড় করায়নি। বরং তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের চেয়েও অতি উন্নত কিছু চিন্তা করছে, তা তুলে ধরতে পারলে মানুষের প্রাথমিক বিশ্বাস অর্জন করার পর্যায়ে চলে যেতে পারত। কিন্তু তারা স্বাধীনতা বিরুদ্ধ শক্তির সমর্থকদের দ্বারা সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ করার পর পুরোনো এবং যুক্তিহীন কুতর্ক করেছে মঞ্চে। যে মঞ্চ থেকে তারা গণতন্ত্রের জন্য লড়বে বলে দাবী করলেও নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র নেই, তাও ভুলে গেছে।


আওয়ামী লীগ গেল ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে দলের শীর্ষ নেতাকে বেছে নিয়েছে। অথচ বিএনপি তাদের দণ্ডিত দুই শীর্ষ ব্যক্তি দ্বারাই দল পরিচালনা করছে, যা নিজেদের কথিত আন্দোলনের প্রকৃতি ও পরিধিকে খর্ব করে। দেশের জন্য গণতন্ত্র চাইতে হলে আগে নিজ দলের মধ্যেও গণতান্ত্রিক অনুশীলন করতে হবে। তাদেরকে একটি ক্রেডিবল কাউন্সিল করে দল পুনর্গঠন করাও উচিত।


আমি বিশ্বাস করি, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তেমন উদ্যোগে যাবেও। তবে দলটি লন্ডন ভিত্তিক হওয়ায় পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক অপশক্তির মত করে আচরণ করছে। যেখানে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সম্ভাব্য আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত প্রধান সম্বল হতে পারে----তেমন বাস্তবতায় খোশমেজাজে আছে দেশের বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি। উপরন্ত, দেশের সুবিধাভোগী সুশীল সমাজ ও পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের কতিপয় উদ্যোক্তা বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় বি-রাজনীতিকরণ ধরা দিক তেমন স্বপ্নে বিভোর হওয়ায়, সার্বিক চিন্তায় আওয়ামী লীগ পরিবেষ্টিত আছে।


রাজনীতির সোজা পথে পথিক হয়ে রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো মানবকণ্ঠ নেই- যা দেখতে পারলে প্রীত হওয়া যেত। বাঁকা রাস্তায় হেটে প্রতিবিপ্লবের গাঁথায় ভর করে ওদের শাসক হতে চাওয়াকে ঔদ্ধত্য বলে। দার্শনিক প্লেটোর মতে সেই নিকৃষ্ট শাসক, যারা জোর করে শুধু ক্ষমতা চায়, জনগণের জন্য পরিকল্পনা থাকে না যাদের। উদাহরণ রাখতেই বলছি, তারা কথিত রাষ্ট্র মেরামতের জন্য যে ২৭ দফা প্রদান করল, তার ফলোআপ সভা কিংবা সেমিনার কোথায়? অর্থাৎ তুমি দেশের জন্য যা যা করতে চাও, তা দিনের পর দিন তুলে ধরতে সংগ্রাম আবহে কর্মসূচী দিচ্ছো না কেনো? এর অর্থ হল, তা শুধুই মানুষকে দেখানোর একটি ছল জাতীয় রাজনৈতিক সূচী ছাড়া আর কিছু নয়। তারা যদি প্রত্যহ ওই ২৭ দফা নিয়ে মেতে থাকত, তখন আমি নিজেই খণ্ডন করে বলতে পারতাম, তোমাদের ওই ২৭ দফায় কী কী ভুল আছে, কোন দফা নিজেদের উপযোগী শাসনব্যবস্থা কায়েমে অনুপযুক্ত সম্ভাব্য প্রথা---কিংবা, কোন দফাগুলো যুক্তিযুক্তও বটে ! সেখানেই তো রাজনৈতিক সৌন্দর্য।


খুব স্পষ্ট করে বললে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইস্যুতে ২০২৩ সালেও কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। চ্যালেঞ্জ আছে বাংলার মানুষের জন্য। কিভাবে বাংলার মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব, সেই প্রশ্নে। বিশ্বসেরা নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের অনন্য বিকাশে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভার রেখে এগিয়ে যাবেন, এমন পরিপূর্ণ বিশ্বাস দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের আছে। তাঁর সাংস্কৃতিক পথচলার গভীরতা প্রখর হওয়াতে বাংলাদেশ দিকভ্রষ্ট হবে না, পথ হারাবে না।


লেখক: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।


বিবার্তা/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com