বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার: প্রচারণার অভাবে বঞ্চিত হচ্ছে প্রবাসীরা
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:১৪
বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার: প্রচারণার অভাবে বঞ্চিত হচ্ছে প্রবাসীরা
সানজিদা আক্তার
প্রিন্ট অ-অ+

বিদেশগামী ও বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের সাময়িক আবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য চালু করা বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার। প্রচার-প্রচারণার অভাবে সুফল পাচ্ছেন না প্রবাসী কর্মীরা।


বিমানবন্দর এলাকায় এ নিয়ে কথা হয় কয়েকজন প্রবাসীর সাথে। যাদের প্রায় সবাই সাময়িক আবাসন সুবিধাসহ এই সেন্টারের কথা জানেন না বলেই জানান বিবার্তাকে। 


৫ জানুয়ারি সৌদিগামী কুমিল্লার একজন প্রবাসী সাথে কথা হয় বিবার্তার। যিনি একদিন আগেই বিমানবন্দর এলাকায় চলে আসেন- যাতে ভোরের ফ্লাইট কোনোভাবেই  মিস না হয়। 


রুহুল আমিন নামে ওই প্রবাসী জানান, তিনি ২০০০ টাকা ভাড়া দিয়ে হোটেলে অবস্থান করেছেন। ‘আসলে যে সুবিধার কথা বলছেন তা আগে জানলে ভালো হতো। আমরা প্রবাসীরা কত কষ্ট করে বিদেশ যাই সেটা আমরাই জানি। কত ধার-দেনা করতে হয় আমাদের। যেকোনো ভাবেই হোক যা সুবিধা পাব তাই আমাদের জন্য উপকার।


সেবাগ্রহণকারী সুজন আহমেদ বিবার্তাকে বলেন, আরো গোছাতে হবে সেন্টারটিকে। সবচেয়ে বড় অসুবিধা আমার সাথে আসা আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ব্যবস্থা ছিল না। তারা আলাদা হোটেলে থেকেছে।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই বরুয়া লঞ্জনীপাড়ায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের সামনেই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ হয় সুজন আহমেদ নামের ওই প্রবাসীর সাথে।


‘আসলে এটা আবেগের ব্যাপারও বটে। বিদায়বেলায় অনেকে থাকতে চায়, না করা যায় না। বাধ্য হয়ে তাদেরকে সাথে আনতেই হয়,’ তিনি বলেন।


ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে সাময়িক আবাসন সুবিধা চালু করে। যা নামমাত্র মূল্যে ভাড়া দেয়া হয়।



সুবিধা পেতে বিদেশগামী ও বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীরা ১০০ টাকা ফি দিয়ে সরাসরি কিংবা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সেন্টারে অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমন-পাসপোর্ট ও এয়ার টিকিটের কপি, বহির্গমন ছাড়পত্র/মেম্বারশিপ সনদের কপিসহ সংশ্লিষ্ট কাগজ লাগবে। একজন কর্মী একটি সিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একজন প্রবাসী প্রতিবার সর্বোচ্চ দুই রাত অবস্থান করতে পারবেন।



তবে বাংলাদেশ হাইকমিশন, ব্রুনাইয়ের সাবেক ওয়েল ফেয়ার অফিসার মো. জাকির হোসেন বিবার্তাকে বলেন, একজন প্রবাসীকর্মী শুধু নিজে এই সেন্টারে অবস্থান করতে পারবে, এই বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। কারণ বাস্তবতা হচ্ছে, বিদেশগামী প্রবাসীরা একা কখনই দূর জেলা হতে রাজধানীতে আসেন না। তাদের নিরাপত্তা, বিদায় বা অন্য সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক আত্মীয় বা বন্ধু আসেন। সে জন্য প্রবাসীর সাথে আত্মীয়-স্বজন আসলে তাদের থাকার অনুমতি না থাকায় প্রবাসীগণ এই সেন্টার থেকে কতটুকু উপকৃত হবে বা ব্যবহার করবেন তা ভবি‌‌‌ষ্যতই বলে দেবে।


আমার উপদেশ বা প্রস্তাব হচ্ছে প্রবাসীর সাথে আসা নূন্যতম ২ জন আত্মীয়কে থাকার অনুমতি দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে আত্মীয়দের ফি ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা যেতে পারে।


বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী) আতিকুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, এই সেন্টারে প্রবাসীরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে পরিবহন সুবিধার জন্য। নিজস্ব পরিবহন দিয়ে প্রবাসী কর্মীদের এয়ারপোর্টে থেকে পিক এবং ড্রপ সেবাটি তাদের কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠছে। তাছাড়া এই সেন্টারের নিরাপত্তা অনেক ভালো। সেন্টারের ভিতরে খাবারের ক্যান্টিন আছে। যার জন্য কর্মীদের খাবার নিয়ে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। সর্বোপরি এটি একটি প্যাকেজ সুবিধা।


তিনি আরো জানান, এখনও সব সিট প্রতিদিন পূর্ণ হয় না। খুব শীঘ্রই এর চাহিদা আরো বেড়ে যাবে। যখন প্রবাসীরা এর সম্পর্কে জানতে পারবে।


কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদককে জানান, সেন্টারটিতে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবারের ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের রিইন্টিগ্রেশন (পুনঃএকত্রীকরণ) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বা করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং দেওয়া হয়।


পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বিবার্তাকে আরো বলেন, কর্মীদের জন্য সেন্টার থেকে বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য পরিবহন সুবিধাসহ সেফ লকারে লাগেজসহ মূল্যবান মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা, টেলিফোন সুবিধা, ইন্টারনেট ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা হয়েছে। এছাড়া কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত বছরের প্রবাসী কর্মীদের সেবায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার উদ্বোধন করেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।


প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় প্রবাসীদের পাশে রয়েছে। তাদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে সরকার এই সেন্টার স্থাপন করেছে।


মন্ত্রী আরো বলেন, কর্মীদের জন্য এখানে আপাতত একটি থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে অনেক কম মূল্যেই তারা থাকতে এবং খেতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের অনেক কষ্ট লাঘব হবে। 


এই সেন্টার তৈরি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ১৪০ কাঠার বেশি জায়গায় নির্মিত সাময়িক এ আবাসস্থলে প্রবাসীরা রাতযাপন করতে পারবেন মাত্র ২০০ টাকায়। এ সেন্টারে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেন্টারটিতে আপাতত ৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।


বিবার্তা/সানজিদা/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com