‘যতবার পদ্মা পাড়ি দেবো, ততবার প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানাবো’
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২২, ২১:০৮
‘যতবার পদ্মা পাড়ি দেবো, ততবার প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানাবো’
বিবার্ত ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর নামকরা এক স্কুলের শিক্ষক তাসলিমা সুমি স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পদ্মা সেতুর বিষয়ে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যতবার পদ্মা পাড়ি দেবো, ততবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্যালুট জানাবো, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবো।’


সুমি জানান, টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখার জন্য সকাল থেকেই আজ সাংসারিক কোনো কাজ হাতে রাখিনি মুগ্ধ হয়েই তারা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখেছেন। এতবড় কর্মযজ্ঞ শেষ করা এবং চলাচলের জন্য খুলে দেয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হাজারবার স্যালুট জানিয়েছেন।


তাসলিমা সুমির মতো দেশের কোটি মানুষের মনে আজ আনন্দের ঝিলিক এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর, এই সেতু আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। এই সেতুকে ঘিরে নানা মানুষের নানান প্রতিক্রিয়া।


রাজধানীর পল্টনে জুতা সেলাই এবং পালিশ করেন রাম দাস। পদ্মা সেতু নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এতো বড় একটা কাজ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, সেতুটি দেখার খুবই ইচ্ছা রয়েছে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি, একবার এই সেতু দেখতে যাবোই।’


রাজধানীর ফকিরাপুল কাঁচাবাজারে তরকারি বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়ি খুলনা, গ্রামের বাড়ি যাওয়া-আসার সময় ফেরিতেই কাটাতে হতো কয়েক ঘণ্টা। অনেক সময় সকালে রওয়ানা দিলে গন্তব্যে পৌঁছুতে রাত হয়ে যেত। এখন আর এই সময়টা লাগবে না। চাইলে সকালে ঢাকায় এসে আবার বিকেলের মধ্যেই বাড়ি চলে যাওয়া যাবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা।’


রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর টেইলারিং শপের কর্মচারী স্বপন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই পদ্মা আমার ভাইকে কেড়ে নিয়েছে। লঞ্চ দুর্ঘটনায় তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আরও আগে যদি এই পদ্মা সেতু হতো, তাহলে আমাকে ভাইহারা হতে হতো না।


তিনি জানান, তার বড় ভাই মাখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। লঞ্চ দুর্ঘটনায় সে তার ছোট দু’টি সন্তান, স্ত্রী আর বৃদ্ধ মা-বাবাকে রেখে পরপারে চলে গেছেন। এরপর অভাবের সংসারের পড়াশোনা ছেড়ে পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তাকেই তুলে নিতে হয়েছে। এই সেতু আগে হলে হয়তো তাদের পরিবারকে এই দুর্দিন দেখতে হতো না।


ভারতের একটি রাজ্যে পড়াশোনা করা এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘পদ্মা সেতু সম্পর্কে আমার ছেলে গত রাতে আমাকে ফোন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় তার আনন্দের সীমা নেই। কারণ এই সেতু উদ্বোধনের ফলে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় সে কলকাতা থেকে ঢাকা চলে আসতে পারবে।’


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৫ জুন) সকালে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করেছেন। তিনি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মুক্ত করেন।


রবিবার (২৬ জুন) থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ সরাসরি সড়ক পথে ঢাকায় যেতে পারবেন। এর মধ্যদিয়ে তারা ফেরি ঘাটের যন্ত্রণাদায়ক দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। তারা এখন এ সেতুর ওপর দিয়ে মাত্র ছয় মিনিটে পারাপার হবেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com