বাইশশত পঞ্চাশ (পর্ব ১)
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২২, ২০:৫৯
বাইশশত পঞ্চাশ (পর্ব ১)
সঙ্গীতা ইয়াসমিন
প্রিন্ট অ-অ+

ঘড়ির কাঁটা সাড়ে সাতটা ছুঁলে পশ্চিমের বারান্দায় মিথিলার পায়চারীর গতি দশগুণ বেড়ে যায়। আধাঘণ্টার বেশি ধরে সে একটা রিক্সা খুঁজছে, এই ভরা ভাদরে খালি রিক্সা পাওয়া হাতে চাঁদ পাওয়ার সামিল। তাই ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তার উৎকণ্ঠাও। যদিও সব বিষয়েই তার উৎকণ্ঠা একটু বেশিই। সব কাজে একশতে একশ পেতে হবে সারাজীবন। এমনই খুঁতখুঁতে স্বভাব তার।


রাজশাহী থেকে ফিরে আজই প্রথম অফিস। গত তিনটা দিন বন্ধুদের সাথে গল্প, আড্ডাবাজি, হই হুল্লোরে এতোটাই মেতেছিল যে এই দুই পয়সার কেরাণীগিরির কথা মগজের ডিস্ক থেকে পুরোই উধাও হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা ফিরেই আপন নিয়মে ডিস্ক আবার সচল হয়ে উঠেছে। কিছুতেই বসের সেদিনের রূঢ় আচরণের কথা ভুলতে পারছে না। অফিস যেতেও আজ খুব একটা ইচ্ছে করছে না। এই হাড়ির ভাত যে বেশিদিন আর পেটে সইবে না সেটা বুঝতে পেরেছে।


রিক্সা অভিযানে সফল হতে এবার চারতলা থেকে নিচে নামলমিথিলা। ফোল্ডিং ছাতায় ফ্যাশান যতটা চলে, বৃষ্টি সামলানো তার সিকিভাগও হয় না। অগত্যা সেই কম্বলখানি সম্বল করেই ছাতার নিচে অর্ধেক শরীর গলিয়ে দিয়ে প্রায় হাঁটু পানিতে নেমে পড়ল। প্রথমটায় এই নোংরা পানিতে পা দিতেই গাঘিনঘিন করে উঠেছিল, কিছুক্ষণ হাঁটার পরে অতটা খারাপ লাগল না বরং ছোটবেলায় বাড়ির আঙিনায় বন্যার পানিতে গামছা দিয়ে মাছ ধরার কথা মনে পড়ল।



হঠাৎ একটা রিক্সা দেখতে পেয়ে একটু চেঁচিয়ে রিক্সাওয়ালাকে ডাকলমিতি,
-এই রিক্সা মামা, বাসস্ট্যান্ড যাবেন?
রিক্সা মামার বড্ড তাড়া, জবাব না দিয়েই হন হন করে চলে গেল। অগত্যা বিফল মনোরথে আবার হাঁটা শুরু করল মিথিলা। কিছুক্ষণ পরেই আবার সেই রিক্সাওয়ালা ঘুরে এসে বললেন,
-মামা দশটা টেহা বাড়াইয়া দিয়েন, আহেন, বহেন। আপনে ভিজ্যা যাইতেছেন দেইখ্যা মায়া করলাম। মিথিলা ঝটপট রিক্সায় উঠে পড়ল। রিক্সা মামা ভাঁজ করে রাখা নীল পলিথিনটা মিথিলার হাতে দিলে সেটি পায়ের দিকে ছড়িয়ে হুডের সাথে গুঁজে নিল সে।



দ্রুত প্যাডেল করে মিনিট পাঁচেকেই বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে গেল। স্টপেজে বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই খানিকটা স্বস্তি পেল। যদিও তার মধ্যে তিল ধারণের ঠাই নেই। নব্বুইয়ের দশকের ঢাকা শহরের বেশিরভাগ বাসই ছিল মুড়ির টিন। আর ভীড়ও ছিল রেসকোর্সের ময়দানের মতো। স্বল্প আয়ের মানুষেরা মুরগীঝোলা, বাদুড় ঝোলা হয়েই সেসব বাসে যাতায়াত করত। সেসব বাসে মেয়েদের চলাচল ছিল আরও কঠিন। তবে, একলা জীবনে যেকোনো মেয়েকে নিজেকে রক্ষার কৌশল জানতে হয়। মিতিও ভীড়ের বাসে জনারণ্যে আত্মরক্ষার কৌশল রপ্ত করে নিয়েছে।


নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ স্টপেজ থেকে নিউ এলিফেন্ট রোডের মুখে যেতে খুব বেশি সময় লাগল না। বাস থেকে নেমে সোজা রিক্সা করে ৪ নং বাড়ি, নিউ এলিফ্যান্ট রোডের ফাহ-রা প্রিন্টিং প্রেসের অফিস। অতিবৃষ্টি আর অতি ভীড় ঠেলেও আজ যথাসময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারায় মস্তিস্কের বাড়তি চাপটা একটু হাল্কা বোধ করল সে।


দ্বিতল ভবনের এল প্যাটার্নের এই আলিশান বাড়িটির নাম ‘সুচেতনা’। বাড়ির নামটা দেখে প্রথম দিনই মনে হয়েছিল, বাড়ির ভেতরে যারা থাকেন তাঁরা নির্ঘাত চেতনাবাজ না হয়ে যায় না। আর যা-ই হোক নামকরণে রুচি আছে। তবে, বাড়ির নাম ফলকে শ্বেত পাথরে ইটালিক স্টাইলে ‘কুকুর হইতে সাবধান’ লেখা দেখে সুচেতনার চেতনায় বুঝি বা খানিক হতাশ্বাসের সুর ভেসে এল। সারমেয় সংক্রান্ত সাবধানী তথ্যে সহজেই অনুমেয় যে, এ বাড়ির বাসিন্দারা আভিজাত্যে সাধারণের তুলনায় কিঞ্চিৎ ওপরেই অবস্থান করেন।


নব্বই দশকের ঢাকা শহরে ৪৫০০ বর্গফুটের গাউসিয়া মার্কেট এলাকায় এমন বিশাল পাঁচিল ঘেরা বাড়িগুলো নিজগুণেই স্বনামধন্য সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাড়িটি একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলার, যিনি বর্তমান বাসিন্দার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাড়ির নিচতলাটা কর্মচারীদের থাকা আর প্রেসের কারখানা হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। ওপরে পুরোটাই মালিকের আবাসন কাম প্রেসের অফিস। বাড়িটির ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও হোম ডেকোরসসহ অন্যান্য ফিটিংসই বলে দেয় এখানে রুচির যেমন ছাপ আছে, তেমনি আছে পয়সা খরচের বিলাসীতাও। এই অফিসে এক সামান্য কেরাণি মিথিলা হক মিতি।


অধ্যাপক সৈয়দ মর্তুজা হোসেন, একাধারে সুলেখক, সুশিক্ষক, আধুনিক মনস্ক প্রগতিশীল মাওবাদী কমিউনিস্ট। এক কথায় পর্বত সমান উচ্চতার এক বিশাল মানুষ। কলেজ থেকে অবসর নেবার পরে মুদ্রণ ব্যবসা শুরু করলেন। যদিও রাজনীতিই ছিল একসময়ে তাঁর নেশা এবং পেশা। আজ সেসব বহুত পুরানি বাত! স্ত্রী বিশাখা হোসেন মেরি, সুদর্শনা, বুদ্ধিমতী, সুকন্ঠী, বাংলাদেশ বেতারের বি গ্রেডের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। পাণ্ডিত্যে-বুদ্ধিতে ভদ্রলোক যত উচ্চতায় থাকুন না কেন এই তন্বী তরুলতা স্ত্রীই মূলত মর্তূজা হোসেনের প্রধান চালিকাশক্তি।


এই দম্পতির আরেকটি পরিচয় হল তারা রীতার অতি প্রিয় মেজপা-মেজদুলাভাই। ক্যাম্পাস জীবনে রীতা ছিল মিতির একমাত্র প্রিয় সহচর। রীতার কাছে রাত জেগে জেগে রূপকথার এই রাজা-রাণীর প্রেমের গল্প শুনেছে বহুদিন। গল্পের সারমর্ম ছিল এমন, মিতি যদি এই জীবনে অন্তত একবারও ওদের সাথে দেখা না করে তবে জীবনে অষ্টম আশ্চর্য দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যাবে। এমন ভাল মানুষ হাতে গড়ালেও পৃথিবীতে বিরল বলেই রীতার বিশ্বাস। মিথিলার তাঁদের সাথে দেখা করার সত্যিই একটা আগ্রহ জন্মেছিল। ভাগ্যচক্রে সেই সুযোগ হাতের মুঠোয় এসে গেল।


রীতা ঢাকায় এসেই মিথিলাকে মেজ’পার বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেছিল। তখনকার সময়ে সবার হাতে হাতে সেল ফোন ছিল না, ল্যান্ডফোনেও খুব অল্প পরিবারের অভিগম্যতা ছিল, সুতরাং পত্রই ছিল বন্ধুত্বের একমাত্র মেলবন্ধন হাতিয়ার। কথানুযায়ী একদিন মিথিলা হাজির হয়ে যায় রীতার মেজপা-দুলাভাইয়ের বাসায়। বসার ঘরে পা দিতেই একটু ঝাঁকুনি খেল মিতি। এমন দামী আসবাব, টার্কিস কার্পেটে মোড়ানো মেঝে, বাঘের চামড়ার হরিণের শিংয়ের দেয়াল ডেকোরসহ হীরকোজ্জ্বল ঝারবাতি দেখে ওর একটু ইতস্তত বোধ হল; আমার পোশাক আশাকের যা ছিরি! এত্ত দামী সোফায় বসলে সেগুলো নোংরা হয়ে যাবে না তো! ওরা যে খুব পয়সাওয়ালা মিতি আগে থেকেই জানত। তবুও ঐশ্বর্য্যের ঝলমলানিতে মিতির চিরদিন দম বন্ধ হয়ে আসে।


সিঁড়িগুলো শ্বেত পাথরের মোজাইকে জ্বলজ্বল করছে। এত বিলাস ব্যসনের মধ্যেও বাসায় ঢোকার মুখে বারান্দায় কিছুটা মলিন পোশাকে সতেরো-আঠারো বছরের একটি তরুণীকে দেখল, যার চকচকে উজ্জ্বল চোখ আর শ্যামবর্ণের সলাজ উজালা রূপ মিতির নজর এড়াল না। কী সুন্দর টিকোলো নাক আর হাসি! দাঁতগুলো মুক্তোর মত সাদা। দু’পাশে দুটো গজ দাঁত সেই হাসিতে বাড়তি মায়া ছড়িয়েছে। মাথা ভর্তি কোঁকড়ানো চুল কোমর অব্দি ছেয়ে আছে। হঠাৎ দেখে কেমন সারল্যে ভরা মুখখানি, রবীন্দ্রনাথের নায়িকার মত মনে হল।



মেয়েটার চলা-বলা, চাহনী একটু আলাদা রকম মনে হল। ওকে ঠিক গৃহপরিচারিকার মত কিছু ভাবতে ইচ্ছে হয়নি মিথিলার। রীতাকে জিজ্ঞেসই করে ফেলল -কে রে মেয়েটা? একদম হাতে গড়ানো মাটির পুতুল! ওর নাম রেণুকা, হামিদা খালার নাতনী। রীতা জবাব দিল।



অল্পক্ষণের মধ্যে রেনুকা এসে নাস্তা দিয়ে ভেতরে চলে গেল। সেদিন সবকিছু ছাপিয়ে রেণুই মিতির মনে গেঁথে রইল। হামিদা খালা এই পরিবারের সুখ- দুঃখের সাথে জড়িয়ে আছেন প্রায় বিশ বছর। অকালে মেয়েটাকে হারিয়ে তিনি পাগল প্রায়, মা মরা রেণুকে বুকে আগলে নিলেন এই নানি। রেণু ছাড়া তিনকুলে আর কেউ নেই তার। রেণুকে এরা নিয়ে এসেছেন সেই আট বছর বয়সে। ওকে এঁরা সন্তান স্নেহে মানুষ করছেন জেনে এই পরিবারের প্রতি মিতির শ্রদ্ধা দশগুণ বেড়ে গেল।


মর্তুজা-বিশাখা দম্পতি একটিমাত্র পুত্র সন্তানের গর্বিত জননী। রাজীব পড়াশুনা, খেলাধূলা, গান বাজনায় অলরাউন্ডার। দুর্দান্ত মেধাবী, পড়ছে এ লেভেলে। রেণু এ বাড়িতে আসায় রাজীবই সবচেয়ে বেশি খুশি। রাজীব ওর পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়েছে সেই শৈশবেই। সেবার রেণুকা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এস এস সি পরীক্ষা দেবে, রাজীবের সাহায্য ছাড়া সেটা সম্ভব ছিল না।


অনেকদিন পরে দুই বন্ধুর দেখা হলেও রীতার চিরকালীন চাপা স্বভাবের কাছে মিথিলার খলবলানি থমকে যায় আজ। রীতা আজ কোনো কারণে একটু বেশিই চুপচাপ। ওদের গল্পেরা খুব একটা জমি পায় না হাত ধরাধরি করে হাঁটবার। দু’চার কথার পরেই দুলাভাই মর্তুজা হোসেন ড্রয়িং রুমে ওদের সাথে যোগ দিলেন।


দুলাভাই মিতিকে জিজ্ঞেস করলেন,
-মিতি কী করবে এখন? পড়াশুনা তো শেষ। এখন কী ঢাকায় থাকার প্ল্যান?
-মিতির সোজা সাপ্টা জবাব, হ্যাঁ। একটা কাজ, যেকোনো একটা কাজ চাই আগে। আমার থাকা খাওয়ার খরচাটা যোগাতে, তারপর অবশ্যই বিসিএস!
-মর্তুজা হোসেন চোখ গোল গোল করে মিতির চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে নিয়ে বললেন, যেকোনো কাজ? তার মানে তুমি কাজকেই প্রাধান্য দিচ্ছ, স্ট্যাটাস নিয়ে কনসার্ন নও? এটা খুব ভালো। চিন্তাভাবনায় তুমি রীতার তুলনায় অনেক আধুনিক, বলেই হো হো করে হেসে উঠলেন।


রীতা দুলাভাইয়ের কথার রাশ টেনে নিয়ে বলল,
ও শুধু আধুনিকই নয়, খুব মেধাবীও, ওর ডাবল ফার্স্ট ক্লাশ, অনার্সের রেজাল্টও খুব ভালো। কবিতা, গান লেখে, আবৃত্তিও করে। আমি নিজেকে ওর সাথে তুলনাও করি না দুলাভাই। নিজের প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে! তবুও রীতার এমন প্রশস্তিতে মিতি বিব্রত হয়ে বন্ধুকে বলল এবার আপনি থামবেন না কি দুই টাকার হরিণ চাই! এটা শুনে রীতা হেসে ফেলল, মিতির মজা করার এই ধরনটাও মর্তুজা সাহেবের মনে ধরল।


রীতার সার্টিফিকেট পেয়ে মর্তুজা হোসেনের আস্থার পারদটা উপরে উঠে গেল। মেয়েটা মেধাবী এতে সন্দেহ নেই। একে দিয়ে মার্কেটিংয়ের কাজ করানো যাবে ভেবে মিথিলাকে একরকম পছন্দই করে ফেললেন অফিসের জন্য। কিছুক্ষণ পরে মর্তুজা হোসেন গল্পের আসর থেকে উঠে গেলেন। মিথিলাকে আজ এখানে ডিনার করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। যদিও মিথিলার এত জাকজমকপূর্ণ লঙ্গরখানা অব্দি যাবার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। তথাপিও সে রাতে মোঘলদের সাথে খানা খেয়ে বিদেয় হয়েছিল, অনুরোধের ঢেঁকি গিলে।


মিথিলা বাসায় ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই রীতার ফোনকল। এ পারে মিতি হ্যালো বলতেই রীতা খুশি খুশি গলায় বলল, হারে মিয়া তোমার চাকরি তো হয়ে গেল, এবার আমাকে কী খাওয়াচ্ছ তাই বল। মিথিলা যেন আকাশ থেকে পড়ল! চাকরি হয়ে গেল-মানে কী? রহস্যের জট খুলে রীতা বলল, মেজ দুলাভাই তাঁর অফিসের জন্য তোমাকে পছন্দ করেছেন। তুমি রাজী কিনা জানতে আমি কল দিলাম। তুমি ইয়েস বললেই তিনি বিস্তারিত আলাপ করবেন তোমার সাথে।


পশ্চিম রাজাবাজারে দু’কামরার এক ছোট্ট বাসা নিয়ে মিতির বাল্য বন্ধু রিমির ভাই সপরিবারে বসবাস করেন। ভাইয়ের চার সদস্যের পরিবারে রিমিও থাকে। একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছে। এই বিশাল ঢাকা শহরে রিমি ছাড়া মিতির আর কোনো আশ্রয় নেই। আশৈশব দুটিতে হরিহর আত্মা, মিতি নিসংশয়ে তাই রিমির ভাইয়ের বাসায় থাকার সুযোগ পেয়ে গেল।


সকাল হলে রিমি অফিস বেরিয়ে যায় আর মিতি যায় চাকরির সন্ধানে। দিনশেষে একজন কর্মক্লান্ত অফিস ফেরতা আরেকজন ঘর্মক্লান্ত স্বপ্নবাজ। তবুও দুটিতে সারাদিনের জমানো কথার ঝাঁপি খুলে কবুতরের মত বাক বাকুম করতে থাকে। রিমি স্বল্পভাষী হলেও মিতির বকবকানি শোনে মনোযোগ দিয়ে। বন্ধুত্ব এমনই, যেখানে পরিমিতিবোধের প্রয়োজন নেই। বন্ধুর সান্নিধ্যই নির্মল আনন্দ, বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে থাকাই বড় কথা।


রীতার প্রস্তাব শুনে মিথিলা মনে মনে বলল এ যে মেঘ না চাইতেই জল। বিনা যোগাযোগে একটা চাকরি সে তো সোনার হরিণ। রাজী মানে আমি একশবার রাজী। মিথিলা তক্ষুনি সম্মতির কথা জানিয়ে দিল।



সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় ফেরত স্বাধীনচেতা একটি মেয়ে যে বাবার কাছে হাত না পাতার পণ করে বাড়ি ছেড়েছে; অন্যের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে, তার জন্য তখন যেকোনোএকটি কাজ মহার্ঘ্যসম। টাকার অঙ্কের চেয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া এমন গুণীজনদের সান্নিধ্য পাবার আনন্দটাও কম লোভনীয় নয়! চূড়ান্ত হল বেতন সাকুল্যে ১৫০০/-টাকা, পদের নাম- পাবলিক রিলেশন অফিসার।



পরের সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার মিথিলার প্রথম অফিস, দিনব্যাপি ওরিয়েন্টেশন। যার মূল বিষয় কোড অব কন্ডাক্ট, অর্থাৎ “বস ইজ অলওয়েজ রাইট! ইফ বস ইজ রঙ, সি রুল নাম্বার ওয়ান।”


চলবে...


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com