রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষের শুভারম্ভ আজ
প্রকাশ : ২২ মে ২০২২, ১৪:৪১
রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষের শুভারম্ভ আজ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

উনবিংশ শতাব্দীর বাংলা তথা ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের (Social Reformer Raja Ram Mohan Roy) সার্ধদ্বিশতবর্ষের শুভারম্ভ আজ, ২২ মে ২০২২। অর্থাৎ আজ তাঁর ২৫০ তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের নবজাগরণের পথিকৃৎ, সমাজ সংস্কারক ও লেখক। তাঁর জন্মদিন আজ। তাঁর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২ মে (মতান্তরে ১৭৭৪ সালের ২২ মে) হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে। তিনি সামাজিক পুনর্গঠন, ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ও ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি দার্শনিক।


বাংলার নবজাগরণের ইতিহাসে রামমোহনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মেও হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তিনি।


নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায় প্রথম ভারতীয় ধর্মীয়-সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি দার্শনিক। স্বপ্ন দেখেছিলেন এক নতুন ভারতের। শুধু স্বপ্ন দেখেননি, কাজ করে শুধরে দিয়েছেন। নতুন জাগরণে দিক্ষিত করেছেন। ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর লর্ড বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহনের সঙ্গে একমত হয়ে সতীদাহ আইন করে বন্ধ করলেন। এই কাজ যত সহজ মনে হচ্ছে ততটাই ছিল কঠিন। কারণ যে কারো কাছেই প্রথা ভাঙা ভীষণ কঠিন।রামমোহন রায়ের উদ্যোগে বন্ধ হয়েছিল কুসংস্কারের অনল সতীদাহ প্রথা, মুক্তি পেয়েছিল নারী।


রামমোহন রায় কলকাতায় আগস্ট ২০, ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই ব্রাহ্মসমাজ এক সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন এবং বাংলার পুনর্জাগরণের পুরোধা হিসাবে কাজ করে। রামমোহন রায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি পূজার বিরোধী ছিলেন। এই বিশ্বাস থেকে তিনি ব্রাহ্মসমাজ ও ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন।


রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আচরণীয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মানতেন না এবং সেটা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেন। রামমোহন রায় বেদের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করেন। ১৮১৫ থেকে ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয় বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, কেনোপনিষদ, ঈশোপনিষদ, কঠোপনিষদ, মাণ্ডূক্যোপনিষদ ও মুণ্ডকোপনিষদ।


সমাজের রক্ষণশীল ব্যক্তিরা কার্যত একরোখা হয়ে ওঠেন রামমোহন রায়ের ওপর। সকলে একাত্ম হয়ে তাঁর লেখার প্রতিবাদ করতে লাগলেন। তবে রামমোহন প্রতিবাদ করলেন যুক্তি দিয়ে এবং ভদ্রভাষায়। প্রতিবাদ-কর্তারা থেমে গিয়েছিলেন। প্রতিবাদ-কর্তাদের মধ্যে প্রথম ও প্রধান ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, এঁর গ্রন্থের নাম 'বেদান্তচন্দ্রিকা'।


রামমোহন ১৮০৫ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কয়েক বছর পর তিনি চাকরি ছেড়ে কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হন এবং প্রকাশ্যে তাঁর সংস্কার প্রচেষ্টা শুরু করেন। বাংলা ভাষায় বেদান্তের তিনিই প্রথম ভাষ্যকার। এই সঙ্গে একেশ্বর উপাসনার পথ দেখাতে ‘আত্মীয়সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন (১৮১৫)। এ সভাকেই পরে তিনি ‘ব্রাহ্মসমাজ’ নাম ও রূপ দেন (১৮২৮)। তিনি ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে নিজ ব্যয়ে ১৮২৩ সালে স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিস্টলের শহরতলি স্টেপলটনের বিচহাউসে মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজা রামমোহন রায় পরলোকগমন করেন ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর।


রামমোহন রায়ের প্রাক সার্ধদ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উত্তর কলকাতার বিধান সরণির সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের সভাকক্ষে শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রামমোহন রায় মিউজিয়াম ও রামমোহন কলেজের উদ্যোগে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।


রাজা রামমোহন রায়ের ২৫০ তম জন্মবার্ষিকীতেই হেরিটেজ ফলক বসবে তাঁর বসতভিটেতে। খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক কর্তৃপক্ষের তরফে রামমোহন রায়ের বসতভিটেতে বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, বেচারাম মান্না থেকে জেলার বিধায়ক ও সরকারি আধিকারিকেরা। তার আগে রামমোহনের জন্মদিন পালন ঘিরে ভেদাভেদ প্রকট হয়েছে খানাকুলে।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com