ইতিহাস সৃষ্টি করার দিন, ১৭ মে ১৯৮১
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২২, ২৩:০৩
ইতিহাস সৃষ্টি করার দিন, ১৭ মে ১৯৮১
মো. শফিকুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ১৭ মে, ২০২২ তারিখে তাঁর ৪২তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিন উদযাপন করতে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪১ তম বার্ষিকী আজ। বাংলাদেশকে আজ ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত করা হয় কারণ শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব। তিনি বিভিন্ন বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের "সোনার বাংলাদেশ" গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং যা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দূরে থাকা অবস্থায় তাকে সভাপতি নির্বাচিত করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও নেতাদের সর্বদা ধন্যবাদ দিয়ে থাকেন।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করার সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা দেশের বাইরে ছিলেন। বিদেশে থাকায় তাঁরা ঐদিন জীবনে বেঁচে যান। যা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। ১৭ মে, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। তাঁরা বিদেশে থাকায় হত্যাকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। ঘাতকদের প্রতি তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। একক কার্যকরী নেতার কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে; এমনকি অন্য জাতিও বাংলাদেশের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে আগ্রহী।


এ হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতকগোষ্ঠী। বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে অনুপস্থিত ছিলেন; তখন তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। যখন তাকে নির্বাচিত করা হয়,তাকে একটি বিশাল দায়িত্ব দেয়া হয়। সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তনে বাধাগ্রস্ত করায় তিনি তার পরিবারসহ ফিরতে পারেননি। তবে শেখ হাসিনাকে থামানো যায়নি।


পরিবর্তে, ১৯৮১ সালের ১৭ মে, সামরিক শাসকের নেতিবাচক চিন্তা এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা তার প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। ছয় বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ফলশ্রুতিতে, দেশটি সমৃদ্ধশালী এবং জাতির পিতাকে যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য মানুষ গর্বিত। দেশ ফিরে পায় নতুন প্রাণ, আর জনগণ জাগ্রত হয় নতুন উদ্দীপনায়।


সেদিন মিছিলের নগরীতে রূপান্তরিত হয় রাজধানী ঢাকা। মিছিল ও প্রতিবাদের চিৎকারে সারাদিন ঢাকায় মুখরিত হয়। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও যখন জনতা শহরের চারপাশে মিছিল করেছে, তখন ঢাকা সম্পূর্ণ নতুন মহানগর হিসাবে আবির্ভূত হয়। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে একনজর দেখতে বাংলাদেশের মানুষ ঢাকায় যাত্রা করেছিল। বিখ্যাত স্বাধীনতার শ্লোগানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে ভরে ওঠে বাংলা। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম, পিতৃ হত্যার বদলা নেব’, ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।


শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর থেকে ৪১ বছর ধরে কার্যকরভাবে বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে চারবার দলকে জয়ের দ্বারস্থ করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা হাসিনাকে অনেক চ্যালেঞ্জিং পথ ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। বিভিন্ন দুর্গম রাস্তা পার হওয়া সহজ কাজ নয়। এটা প্রশংসনীয় যে তিনি বিপদের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে এখন যেখানে নিয়ে যেতে পেরেছেন। যা অবশ্যই সাংগঠনিক ভাবে প্রশংসিত এবং গ্রহণযোগ্য। সফলভাবে তার নেতৃত্বের কারণে আওয়ামী লীগ চারবার নির্বাচনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয় এবং আজও ক্ষমতায় রয়েছে, দেশের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হারে এগিয়ে চলেছে।


জাতিকে এখন যেখানে আছে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ লড়াই এবং অসংখ্য ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে, কিন্তু শেখ হাসিনা অধ্যবসায় করেছেন। সৌভাগ্যবশত বেঁচে থাকা সত্ত্বেও তাকে হত্যার একাধিক চেষ্টা হয়েছিল। ২১ আগস্ট, ২০০৪-এ তার বিরুদ্ধে হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হলেও আল্লাহ তাঁকে জীবিত রাখেন। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।


বাংলাদেশে দল ও সরকারের শেখ হাসিনার নেতৃত্ব জাতিকে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে দিয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাতবায়নের পথে। যা খুলে দেয়া যাবে এই বছরের জুন মাসে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ও কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। তার নির্দেশনার ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি নতুন রূপ নিয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির জন্য তার প্রচেষ্টা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। শেখ হাসিনার জন্য বেশ কিছু প্রশংসা রয়েছে, যিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তার স্পষ্টবাদী মতামতের জন্য বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এর বদৌলতে আমরা বিশ্বে নতুন পরিচয় পেয়েছি।


বাংলাদেশে ফিরে আসার পর, তিনি দেশের নতুন সরকারের কাছে দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতাকা উপস্থাপন করেন। তাঁকে নির্বাচন করা বা পছন্দ করা সঠিক এক সিদ্ধান্ত ছিল। এটি আজ প্রমাণিত। ১৭ মে,১৯৮১ শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে নিয়ে যাওয়া হয়,যেখানে লাখো মানুষের সমাগমে শেখ হাসিনা এক কণ্ঠে বলেন, "আমি সব হারিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপানদের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত চিন্তাধারা বাস্তবায়ন করে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চাই।


"ক্ষমতা বা দায়িত্ব কোনোটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেদিন বলেন। আমার ছোট ভাই রাসেল সহ আমার পুরো পরিবারের মৃত্যুর পর আমি আপানদেরকে সেবা করতে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।শেখ হাসিনা হলেন যিনি সবসময় দেশের দুঃখী ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জাতি সঠিক পথে চলেছে কারণ তাকে বিশ্বাস করা যায়।


আমি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, জাতি ও মানবতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ গড়ার জন্য আপনারা কাজ করবেন। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়ন করবেন। করোনা মহামারীতে তাঁর নেতৃত্বে দেশ করোনা প্রতিরোধে সফল হয়েছে। আমরা করোনভাইরাস সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা আরো বৃদ্ধি করি। অন্যদেরও সমস্ত অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুসরণ করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ করোনা কিন্তু এখনও সম্পূর্ণভাবে বিদায় নেয়নি।


আজ দেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে পরিচিত লাভ করছে এবং দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন উচ্চতায়। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আজ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আপনি দীর্ঘজীবী হোন এবং আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি এটাই আজকের দিনের প্রত্যাশা।


লেখকঃ সাবেক সভাপতি, শিক্ষক সমিতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com