আম বেশি খেলেও বিপদ! কীভাবে তাড়াবেন আপদ?
প্রকাশ : ২০ মে ২০২২, ০৮:৩১
আম বেশি খেলেও বিপদ! কীভাবে তাড়াবেন আপদ?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ফলের রাজা আম। একবাক্যে এই কথা স্বীকার করে নিবেন সবাই। কেন? স্বাদে, গুণে, রূপে জুড়ি মেলা ভার এই ফলের। এদিকে, এটা জানা কথাই যে, অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো নয়, অতিরিক্ত কোনো বিষয়ই সুফল বয়ে আনে না। সেক্ষেত্রে, অতিরিক্ত আম খেয়ে বিপদে পড়বেন সেটা অস্বাভাবিক নয়। চলুন, পাকা আম খাওয়াপর্ব শুরুর আগেই জেনে নেই কী সমস্যায় পড়তে পারেন অতিরিক্ত আম খেয়ে—


পাকা আমে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন। আবার রয়েছে উচ্চমাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেড ও গ্লাইসেমিক। পাশাপাশি পাকা আমে ফিনোলিকস জাতীয় উপাদান থাকার কারণে এ ফলটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেরও ভালো উৎস। কিন্তু এক গবেষণায় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাকা আম খাওয়া ভালো, তবে পরিমাণে বেশি নয়। নিচে চিকিৎসকদের সে মতগুলো তুলে ধরা হলো।


★ আম ফ্রুকটোজ উপাদানে ভরপুর। অর্থাৎ, পাকা আমে চিনির পরিমাণ অত্যধিক থাকে বলে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণ। যাদের সুগারের সমস্যা আছে, আম তাদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সুগারও বেড়ে যায়। আম ব্লাড সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়। তাই যাঁরা ডায়াবিটিসের রোগী, তাঁদের পক্ষে আম বড় বিপদ হয়ে দেখা দিতে পারে।


★ অতিরিক্ত আম খেলে আরও বড় যে সমস্যা হয় সেটি হল হজমের সমস্যা। রোজ বেশি পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তির উপর তার প্রভাব পড়ে। তাই পরিমাণ বুঝে আম খান।


★ এখন বহু আমই কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়। ক্যালশিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয় আম পাকাতে। সেই আম বেশি খেলে এই রাসায়নিকগুলি জন্য শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর থেকে শরীরে ক্লান্তি, আলস্য ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।


★ আমে ভিটামিন সি ও ক্যালরি দুইয়েরই পরিমাণ বেশি। মাঝারি সাইজের আমে থাকে ১৩৫ ক্যালরি। কিন্তু যারা ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছেন এবং ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাঁদের পক্ষে আম স্বাস্থ্যকর নয়। তাই পরিমাণ বুঝে আম খান।


★ অনেকে আমের জুস করে খান। কিন্তু এতে আমের মধ্য়ে অবস্থিত ফাইবারগুলি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সেই ফাইবারের গুণগুলি শরীরে কাজে লাগে না। উল্টে পেটের সমস্য়া বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


★ আম খাওয়ার সময়ে যদি আমে লেগে থাকা আঁঠা কোনও ভাবে মুখে লেগে যায়, তার থেকে মুখে চুলকানি, জ্বলুনি হতে পারে। বেশ কয়েকদিন এর দাগও থেকে যায়। তাই আম খাওয়ার সময়ে এই আঁঠা যাতে না লাগে সেদিকে নজর দিতে হবে।


★ আর্থাইটিস বা বাতের ব্যথায় যাঁরা ভোগেন তাঁরা আম এড়িয়ে চলুন। আম খেলে ব্যথা বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


★ আম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমল পানীয় খেলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আম আর কোমল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় রক্তে ব্লাড সুগারের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভীষণ বিপদের কারণ হতে পারে।


★ আমে বিদ্যমান ফিটোকেমিকেল কম্পাউন্ড তথা গ্যালিক অ্যাসিড, ম্যাঙ্গফেরিন, কোয়ার্নেটিন এবং টেনিন বা কষজাতীয় উপাদান শরীরের ক্ষতি করে।


★ পাকা আম অ্যাজমা বাড়িয়ে দেয়। কিডনির রোগীদের সংক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। ওজন বেড়ে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে। ডায়েরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


★ যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের অ্যালার্জির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। চুলকানির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।


★ পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে। হজমে গোলযোগ সৃষ্টি করে।


★ আর্থ্রাইটিস ও সাইনোসাটিসের রোগীদের রোগকে বাড়িয়ে দেয়।


তাহলে কি আম খাবো না?


★ আমে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস উপাদান রয়েছে, যা কোলন , স্তন , প্রস্টেট , লিউকেমিয়া প্রভৃতি ক্যানসার থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে।


★ আমে থাকা প্রচুর পরিমানে ফাইবার , পেকটিন , ভিটামিন সি কোলেস্টেরল লেভেলের ভারসাম্য বজায় রাখে।


★ ত্বকের জন্য আম খুবই উপকারী। ব্রণ এবং ত্বকের অন্যান্য অনেক সমস্যা প্রতিরোধ করে আম।


★ পাকা আমে থাকে ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি’, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন ‘এ’ বা বিটা ক্যারোটিন, উচ্চমাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেট, গ্লাইসেমিক ইত্যাদি। পাকা আমে ফিনোলিকসজাতীয় উপাদান থাকায় তা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো উৎস।


তাই এই আমের মৌসুমে আম খান পরিমিত। অর্থাৎ মন ভরে আম খাবেন, পেট ভরে নয়। বিশেষ করে রোগীরা আম খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। ভালো থাকুন।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com