সাক্ষাতকার
বাজার সিন্ডিকেটের সাথে সরকারের রাঘববোয়ালরা জড়িত: শহীদুল ইসলাম বাবুল
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২২, ২০:১৭
বাজার সিন্ডিকেটের সাথে সরকারের রাঘববোয়ালরা জড়িত: শহীদুল ইসলাম বাবুল
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

শহীদুল ইসলাম বাবুল। কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এরআগে তিনি ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর শহীদুল ইসলাম বাবুল সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি তৃণমূল থেকে কৃষকদলকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।


দ্রব্যমূল্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যসহ নানা বিষয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন শহীদুল ইসলাম বাবুল। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক কিরণ শেখ।


বিবার্তা: গত কয়েক বছর ধরে দ্রব্যমূল্যের দাম বেশ ওঠানামা করছে, এর কারণ কি?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: দ্রব্যমূল্যের দাম ওঠানামা করছে না, শুধু উঠছে। মানুষের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে। সরকারের কতিপয় কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া বাংলাদেশের কোন মানুষই আসলে ভালো নাই। আর বাংলাদেশের কৃষি এবং কৃষকদের অবস্থা আরো শোচনীয়। কারণ এই সরকার মানুষের সরকার না। মানুষের ভোটেরও তাদের প্রয়োজন হয় না। এই কারণে মানুষের দিকে তাদের কোন নজর নেই।


বিবার্তা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষিজাত পণ্যসহ তাদের কাছ থেকে আমদানিকৃত জিনিসপত্রের দাম অস্থিতিশীল। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: এটা একটা কারণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বেই পড়েছে। এটা তারাই কাটিয়ে উঠতে পারছে যাদের পরিকল্পনা ছিলো, যাদের সক্ষমতা ছিলো এবং যাদের অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত ছিলো। কিন্তু লুটেরা, দুর্বৃত্তায়ন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাদের বসবাস, তাদের পক্ষে এটা সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি। সেটাও স্পষ্ট হচ্ছে।


বিবার্তা: বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের করণীয় কি হতে পারে?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কিছু করণীয় থাকে না, এই কথাগুলো ঠিক না। দেখছেন যে, অংসখ্য কালোবাজারি ও মজুদদার। এই সিন্ডিকেটের সাথে কারা জড়িত? সরকারের সব রাঘববোয়ালরা জড়িত। আর জ্বালানী-বিদ্যুৎ সেক্টরটা হচ্ছে- মহা ‍লুটপাটের জায়গা। জ্বালানী সেক্টরে মহা দুর্নীতি হচ্ছে। তারা একটা দুর্নীতির খনি পেয়ে গেছে। এগুলো হচ্ছে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। এই যে সামগ্রিক লুটপাটের বাস্তবতা, এগুলো এখন এসে মানুষের ঘাড়ে পড়ছে। এ কারণে দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে পারছে না।


বিবার্তা: কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য কৃষকদের কি কি করা উচিত?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: আমাদের দেশে কৃষক সমাজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং নিপীড়িত। বাংলাদেশের কোন অ্যাওয়ার্ড যদি পেতে হয়, সেটা কৃষকদের পাওয়ার কথা। এখনো আমাদের অর্থনীতির যে মূল চালিকা শক্তি তা কৃষি থেকেই আসে। কিন্তু যারা খাদ্য উৎপাদন করে তাদেরকে আমরা সেই মর্যাদা দিচ্ছি না, কখনো দেই নাই। আর এদের কোন কার্যক্রমও নেই। অন্যরা হরতাল, ধর্মঘট এবং অবরোধ করতে পারেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশের কৃষকদের বলবার মতো কোন জায়গা নেই। সেজন্য আমরা কৃষকদেরকে তৃণমূল থেকে সংগঠিত করছি। এর মধ্যে দিয়ে একটা কৃষি আন্দোলন গড়ে তোলবার জন্য চেষ্টা করছি।


বিবার্তা: বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষকের বড় সমস্যা কি?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: বাংলাদেশে কৃষকদের বড় সমস্যা হচ্ছে, এদের কোন জোট নাই। একসাথে কথা বলবার মতো কোন প্লাটফর্ম নাই। এটা যদি করতে পারতো তাহলে অবশ্যই তাদের দাবি আদায় করতে পারতেন। আমরা সেই কাজটাই করছি। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, আধুনিক যে কৃষি যন্ত্রপাতি আমাদের এখানে থাকার কথা ছিলো, আমরা সেটা সেভাবে করতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। আর কৃষিকে আরো আধুনিকায়ন করা এবং কৃষিবান্ধব দেশ তৈরী করা। কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। এর সঙ্গে পণ্যে উৎপাদনের যা যা প্রয়োজন, সেগুলো রাষ্ট্রের সহযোগিতা করাসহ কৃষকদের পাশে থাকা খুবই দরকার।


বিবার্তা: কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু প্রভাব পড়বে।


শহীদুল ইসলাম বাবুল: আমাদের দেশে এখনো ৬৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে। সুতরাং যদি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় তাহলে যে পরিমাণ খাদ্য আমদানি করতে হবে সেই সাধ্য ও সামর্থ্য বাংলাদেশের মানুষের এখনো নাই। সেজন্য এই বিষয়টি ছেলেখেলার মতো দেখা কোন বাস্তবতা না।


বিবার্তা: কৃষিখাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ে আপনার মতামত কি?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: চাঁদাবাজি এবং মধ্যস্বত্বভোগী। কৃষক যে পণ্য উৎপাদন করে, যে আলু আমি বগুড়া থেকে ১০ টাকায় কিনি, সেই আলু ঢাকায় ২৫ টাকায় কিনতে হয়। এই যে মাঝেখানে ১৫ টাকা, এই টাকা কোথায় যায়? মানে পথে পথে চাঁদাবাজি এবং মধ্যস্বত্বভোগী। এ বিষয়গুলো যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরাহা করা যায়, তাহলে খুবই ভালো হবে বলে আমি মনে করি।


বিবার্তা: সরকার চাল-গম মজুদের জন্য সাইলো স্থাপন করেছে, কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছে। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: সরকার কিভাবে এবং কােথায় ভর্তুকি দিচ্ছে, তা আমি জানি না। তারা বলেছিল, বিনামূল্যে সার ও বীজ দেবে। কিন্তু এই সার কেনার মতো কৃষকের সামর্থ্য নাই। আর কৃষির যে খরচ, সেই খরচের সাথে উৎপাদিত পণ্যের দামের সাথে কোন সামঞ্জস্যতাও নাই।


বিবার্তা: প্রতি বছর বন্যা, খরা ও সাইক্লোনে কৃষির ক্ষতি পোষাতে করণীয় কি?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: রাজনৈতিক দল আর কি করতে পারে? কিন্তু এরপরও আমাদের সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। কিন্তু এটা অপ্রতুল। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এখানে সরকারের দায়িত্ব অনেক ব্যাপক। তবে আমরাও কাজ করছি এবং কৃষকের পাশে আছি। আমারা সাধ্যমতো সহযোগিতা করছি। কিন্তু এখানে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।


বিবার্তা: সরকারের ওএসএম, টিসিবি ও ভিজিএফ সেবা বিষয়ে কিছু বলেন?


শহীদুল ইসলাম বাবুল: এগুলো খুবই অপ্রতুল। গ্রামে মানুষের হাহাকার। আমাদের কিছু রেমিট্যান্স এবং গার্মেন্টস আছে, সেই কারণে এখনো আমরা টের পাচ্ছি না। আর কৃষি পণ্যও উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু অবস্থা আসলে ভয়াবহ।


বিবার্তা/কিরণ/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com