সাক্ষাতকার
ইন্টারনেট সেক্টরকে এগিয়ে নিতে মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে: মো. ইমদাদুল হক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২২, ১০:১৯
ইন্টারনেট সেক্টরকে এগিয়ে নিতে মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে: মো. ইমদাদুল হক
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

মো. ইমদাদুল হক। ১৯৯৬ সালে একটা বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যারিয়ার জীবনের শুরু। তারপর পাঁচ বছর চাকরি করেছেন। পরে অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে চেষ্টা ও শ্রম দিয়ে ইন্টারনেট সেক্টরে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেড এর মাধ্যমে। শুরু হয় উদ্যোক্তা জীবন। সময়ের পালা-বদলে তিনি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সদস্য হন। পরে কার্যনির্বাহী পরিষদে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চার মেয়াদে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১-২২-২৩ সাল মেয়াদে প্রাণের সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।


সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের কার্যালয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সাথে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এবং আইএসপিএবির সভাপতি মো. ইমদাদুল হক। একান্ত আলাপে উঠে এসেছে, ইন্টারনেট সেক্টরের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, এলাকাভিত্তিক অবৈধ আইএসপিগুলো বন্ধের পরামর্শসহ বিবিধ বিষয়। আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


বিবার্তা: ইন্টারনেট সেক্টরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই।


মো. ইমদাদুল হক: সারাদেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, ব্যাংক, ফ্রিল্যান্সার যেখানেই যে কাজ করছেন, সব কাজেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। মোবাইল ইন্টারনেট দিয়ে অনলাইনে তাৎক্ষণিক কিছু কাজ করা যায়। কিন্তু ওয়েবসাইটে ভারি কাজগুলো করতে গেলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। ইন্টারনেট এখন মানুষের প্রতিদিনকার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ফলত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের পেনিট্রেশন মাত্র ৭%। এটা যদি মোবাইল অপারেটরদের মতো চিন্তা করেন তাহলে পেনিট্রেশন হবে ২৮%। মোবাইল অপারেটরদের মতে, একজন গ্রাহকের কাছে চারটা সিম, মানে চারটা কাস্টমার। আমাদের হিসাব ভিন্ন। একটা কানেকশন, একজন কাস্টমার। একটা বাসায় একটা কানেকশন থেকে রাউটারের মাধ্যমে কম করে চারজন ব্যবহার করে। ওই হিসেবে সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এটাকে চার দিয়ে গুণ করলে হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ। আমি ওই হিসেব করতে চাই না। একটা বাসায় একটা কানেকশনকেই ধরে পেনিট্রেশনটা হিসেব করি। এখনও আমরা পেনিট্রেশনটা ১০% নিতে পারিনি। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সারাদেশে প্রতি মাসে ৩৫শ গিগাবাইট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ৫৫% ব্যান্ডউইথ কনজিউম করি আমরা আইএসপিএবিরা। বাকি ৪৫% কনজিউম করে ১৩ কোটি গ্রাহকের মোবাইল অপারেটরা। ৪৫% ব্যান্ডউইথ কনজিউম করে যে রেভিনিউ হয়, আমাদের তাদের হাজার ভাগের এক ভাগ। তারা হয়তো বলবে আমাদের ইনভেস্টমেন্ট বেশি। তাদের ইনভেস্টমেন্টটা ক্যালকুলেটিভ, খাতায় আছে। আামদের ইনভেস্টমেন্ট খাতায় নাই, কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট আছে।


বিবার্তা: এই সেক্টরের সম্ভাবনা কেমন?


মো. ইমদাদুল হক: ইন্টারনেট সেক্টর একটা সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান সেক্টর। এখানে ব্যবসার অনেক সুযোগ আছে। ব্রডব্যান্ডই একমাত্র মাধ্যম, যাতে ব্যবহারকারীরা সঠিক পরিমাণে ব্যান্ডউইথ পায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটা গবেষণা আছে, ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন যদি ১০% বাড়ে, তাহলে জিডিবিতে ১% প্রবৃদ্ধি হয়। আমাদের ছোট্ট দেশে অনেক মানুষের বাস। আমাদের জিডিটাল জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কোন বিকল্প নেই। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের নেপথ্যে যারা কাজ করছেন তারা হলেন এই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধাররা।



বিবার্তা: আপনার দৃষ্টিতে এ সেক্টর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কোন বাধা রয়েছে কী?


মো. ইমদাদুল হক: আজ থেকে ১৩ বছরের আগের কথা। ২০০৯ সালে সরকার সিদ্ধান্ত নিলো দেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নেটওয়ার্কিং লেয়ারের (ইনফাস্ট্রাকচার লেয়ার) জন্য আলাদা একটি লাইসেন্সিং করা হবে। তখন নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে ফাইবার অ্যাট হোম। পরে আবেদন করে সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড। সরকার এই দুই কোম্পানিকে এনটিটিএন লাইসেন্স দেয়। ওই সময় আমাদের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচশ প্রতিষ্ঠান আইএসপি লাইসেন্সধারী ছিল। এর মধ্যে ১২০ জন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক-এর লাইসেন্স ছিল। আমি বলবো এই ১২০ জনের মধ্যে ৫০-৬০ জনের মতো ছিল সামর্থ্যবান। আর শর্ত হিসেবে বলা হলো আইএসপি লাইসেন্সধারীদের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য কোন লাইসেন্স দেয়া হবে না। আমাদের আবেদন করার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। মাঝখান থেকে নতুন দুটি কোম্পানি এসে এনটিটিএন লাইসেন্সটা নিয়ে গেল। এরপর তারা ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইইজি) লাইসেন্স নিলো। নামে, বেনামে তারা আইএসপি লাইসেন্সও নিলো। অন্যদিকে ইন্ডিয়া থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্সও নিলো। এখন দেখেন, দুটা কোম্পানির কাছে যদি সবগুলো লেয়ারের লাইসেন্স থাকে, আর আমাদের কাছে শুধু একটা লেয়ারের লাইসেন্স আছে, তাহলে তাদের সাথে আমরা কোনভাবে কি প্রতিযোগিতা করে পারবো? দীর্ঘদিন সংগ্রাম করার পর বাহন লিমিটেডকে এনটিটিএন লাইসেন্স দেয়া হয়। আমরা ২ হাজারের বেশি আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান আছি। এখান থেকে যারা নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের সামর্থ্যবান, তাদের মধ্য থেকে আরো ৫টা প্রতিষ্ঠানকেও যদি দেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লাইসেন্স দেয়া হতো, তাহলে মার্কেটে প্রতিযোগিতা তৈরি হতো। যেখানে প্রতিযোগিতা থাকে, সেখানে কাজের মানও ভালো হয়। সারাদেশের ইন্টারনেট খাতে অবকাঠামো তৈরির কাজটা আরো গুণগতমানসম্পন্ন হতো। পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে প্রত্যেকটা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের ইন্টারনেট সেবার অবকাঠামো আরো টেকসই হতে পারতো।


এই সেক্টরের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈষম্য। সারাদেশের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কে মনোপলি ব্যবসা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের মে মাসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে দরপত্রের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সে অনুসারে দরপত্র জমা দেয় সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং ফাইবার অ্যাট হোম। রাজস্ব ভাগাভাগিভিত্তিক চুক্তিতে কোম্পানি দুটিকে এই কাজ দেয়ার বিষয়ে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দেয়। চুক্তি অনুসারে, নেটওয়ার্ক তৈরি, ব্যবস্থাপনাসহ সকল কাজ করতে হবে কাজ পাওয়া কোম্পানি দুটির। এর জন্য তারা নিজস্ব জনবল নিয়োগ করে সেবা দেবে। ১ হাজার ৩০৭টি ইউনিয়নে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফাইবার অ্যাট হোমকে সরকার দেবে ১৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সামিট কমিউনিকেশনস ১ হাজার ২৯৩টি ইউনিয়নের জন্য পাবে ১৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। নেটওয়ার্ক স্থাপনের পর ২০ বছর এগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও থাকবে দুই এনটিটিএন। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দেবে। এর আগে ইনফো সরকার-২ এর কাজও করেছে এই দুটি কোম্পানিই।



এই সেক্টরের মনোপলি ব্যবসার প্রাকটিসটাকে ভাঙতে হবে। এটা ভাঙতে না পারলে একটা সময় দেখা যাবে যে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাগুলো আর থাকবে না। এই সমস্যা সামাধানে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো শুধু উপস্থাপন করতে পারি। সেগুলোর সমাধান সরকারকেই দিতে হবে।


বিবার্তা: এই বাধা অতিক্রম করতে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?


মো. ইমদাদুল হক: এই বাধা অতিক্রম করা তেমন কোন কঠিন বিষয় না। সরকার একটু উদ্যোগ নিলেই অতিক্রম করা সম্ভব। আমরা যারা সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলি, আমরা তো শুধু সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারি। কিন্তু এর সমাধান সরকারই দিতে পারেন। যেমন, সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার জায়গাটাতে আইএসপি লাইসেন্স দিতে সরকার যেমন উন্মুক্ত, তেমনি ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স দেয়ার জায়গাটা উন্মুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স না দিয়ে ডিভিশনাল ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স দেয়া যেতে পারে। সেটা না হলে জেলাভিত্তিক লাইসেন্সও দেয়া যেতে পারে। তিনটা কোম্পানিকে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। আমরা চাই আরো চার-পাঁচটা কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয়া হোক। মার্কেটে প্রতিযোগিতা আসবে। তখন কাজের মান যাচাই করতে সুবিধা হবে। আর একটা বিষয় হলো, যার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের লাইসেন্স থাকবে, তার নামে-বেনামে, তার পরিবারের কারো নামে আইএসপি, আইটিসি, আইইজি ও সাবমেরিন এই চারটি লাইসেন্স থাকতে পারবে না। এটা হলো আমাদের চাওয়া। এ বিষয়টা নিয়ে নীতি নির্ধারকদের কাজ করতে হবে। তাহলে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ব্যবসায় মনোপলি হবে না। তারাও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের ব্যবসা করবে। ইন্টারনেট সেক্টরকে এগিয়ে নিতে মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।


বিবার্তা: গত ২০ বছরে ইন্টারনেট সেক্টর কতদূর এগিয়েছে?


মো. ইমদাদুল হক: ১৯৯৬ সালে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ছিল দুইটার। সারাদেশে এই দুইটা অপারেটর ইন্টারনেট সার্ভিস দিতো। আর এখন লাইসেন্সধারী ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২১শ। এখন ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়েছে। প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। সার্ভিস কোয়ালিটি উন্নতি হয়েছে। এক সময় ডায়ালআপ কেবিপিএস বিক্রি করতাম। এখন বিক্রি করি এমবিপিএস। কয়দিন পর একজন ব্যবহারকারীকে দিবো গিগ ব্যান্ডউইথ। আমরা পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশে ইন্টারনেট সম্প্রসারণে এই যে বিপ্লব ঘটেছে, এখানে সরকারের সুদূরপ্রসারী কিছু পরিকল্পনা কাজ করেছে। এর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিতে চাই। বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারকে। এইব্যক্তিগণ আমাদের যেকোন সমস্যায় পাশে ছিলেন ও আছেন। যেকোন বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমাদের সাবমেরিন ক্যাবলটা কানেক্ট হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল ফাইভ চলে আসছে। সিক্স ও সেভেন কানেক্ট করার চেষ্টা করছে সরকার। আমাদের ক্যাপাসিটি মোটামুটি ফিলাপ হয়ে গিয়েছিল। সেটিও আপডেট করা হয়েছে।


বিবার্তা: সাবমেরিন ক্যাবল সম্প্রসারণ সেবায় আমরা কী সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি?


মো. ইমদাদুল হক: সরকারের পক্ষ থেকে সাবমেরিন ক্যাবল সম্প্রসারণে চেষ্টার কোন কমতি নেই। সাবমেরিন ক্যাবলে সমস্যা হলে জরুরি ভিত্তিতে কানেক্টিভিটি দিতে আমাদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) কানেক্টিভিটিও দেয়া হয়েছে। টেরেস্ট্রিয়াল কানেক্টিভিটি হিসেবে ইন্ডিয়া থেকে লিংকের মাধ্যমে আমাদের জন্য আইটিসি কানেক্টিভিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা একদিকে ভালো। একটা জায়গায় আমার মনে হয়েছে যে, ইন্ডিয়া থেকে যে কানেক্টিভিটিগুলি আমরা নিচ্ছি, এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে তাদের উপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের নিজেদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। এখন প্রাইভেটেও সাবমেরিন ক্যাবল দেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এই জায়গাগুলিতে সরকারের অনেক হস্তক্ষেপ ছিল। যার কারণে আমরা ব্যান্ডউইথ ক্রাইসিসে পড়িনি। হয়তো ভবিষ্যতেও পড়বো না।