সাক্ষাতকার
‘ওয়ালটনের হয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করতে চাই’
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২২, ১১:১৭
‘ওয়ালটনের হয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করতে চাই’
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সারাদেশের স্কুল-কলেজ, জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট, ফুটবল বা ভলিবলসহ সবধরনের খেলাধুলায় স্পন্সর করে ওয়ালটন। আমরা চাই, দেশের খেলাধুলা সমৃদ্ধ ও উন্নত হোক। জেলা, উপজেলা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে খেলাধুলার আয়োজনে স্পন্সর হিসেবে ওয়ালটন থাকার চেষ্টা করে। স্কুল-কলেজের খেলাধুলাও আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকি। আমাদের লক্ষ্য তরুণ ও যুবকদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা এবং দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নত করা।


সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের ওয়ালটন কমপ্লেক্সে বিবার্তার সাথে একান্ত আলাপে এসব কথা বলেন ওয়ালটন গ্রুপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন) রবিউল ইসলাম মিলটন। আলাপে উঠে আসে দেশে বিজ্ঞাপন শিল্পের প্রথম দিকের কথা, ওয়ালটন গ্রুপের ক্রিকেট স্পন্সরশিপ ও ব্র্যান্ডিংয়ের হালচালসহ বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিং শিল্পের নানান দিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার প্রধান প্রতিবেদক উজ্জ্বল এ গমেজ


বিবার্তা: আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর কথা জানতে চাই। ওয়ালটনের সঙ্গে কখন কীভাবে যুক্ত হলেন?


রবিউল ইসলাম মিলটন: ২০০০ সালের শুরুর কথা। সবেমাত্র ঢাকায় এসেছি। জীবনের প্রয়োজনে কিছু একটা করতে হবে। ভালোলাগার জায়গা থেকে ভর্তি হই থিয়েটারে। টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সচেতনামূলক পথনাটক করি। একটা শিপিং কোম্পানিতে পার্টটাইম জবও নিই। বছর তিনেক এভাবে চলার পর কয়েকজন পরিচালকের সাথে নাটক, বিজ্ঞাপন বানানোর কাজ শুরু করি। সহকারী পরিচালক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন বানাতে শুরু করি। পরবর্তীতে নিজেও নাটক-বিজ্ঞাপন বানিয়েছি। সেইসঙ্গে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করেছি। এ থেকে যে আয় হত, তাতে আমার পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ বেশ ভালোভাবে চলে যেত। বিজ্ঞাপনে কাজের সূত্রে পরিচয় হয় শাহীন সরকার নামের এক বড় ভাইয়ের সাথে। ২০০৭ সালের দিকে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন টেলিভিশন ও ফ্রিজের দুটি বিজ্ঞাপন তৈরির কাজে শাহীন ভাইকে সহযোগিতা করেছিলাম। তখনও আমার পড়াশোনা শেষ হয়নি। পরিচয়ের দুই-তিন বছর পর একদিন তিনি কল করে বললেন, তুমি আমার সাথে একটু দেখা করো। তখন তিনি ওয়ালটনে জয়েন করেছেন। বললেন, তোমার তো পড়াশোনা শেষ। তুমি ওয়ালটনে জয়েন করো। বললাম আমাকে এক সপ্তাহ সময় দেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছু না জানালে ২০ দিন পর ভাই আমাকে কল করে বলেন, তোমাকে একটা সুযোগ দিলাম, তুমি কোনো যোগাযোগই করলা না। চাকরিটা না করলে জানাতে পারতে। তখন আমি মিডিয়াতে মোটামুটি ভালো অবস্থানে ছিলাম। বিজ্ঞাপন, নাটক বানানো নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছিল। তারপরও মিডিয়াতে ভবিষ্যত দেখছিলাম না। তাই কোনো একটা ক্যারিয়ারে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে মিডিয়া ছেড়ে ব্যাংকে চাকরির জন্য চেষ্টা করছিলাম। একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির বিষয় মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েও যায়। কিন্তু কেনো যেন গতানুগতিক চাকুরির প্রতি ছোটোবেলা থেকেই অনাগ্রহ ছিলো। কাজের মধ্যে বৈচিত্র থাকবে এমন প্রফেশনে যুক্ত হতে চাচ্ছিলাম।



এরমধ্যে একদিন শাহীন ভাই বললেন, তুমি আগামীকালই সিভি নিয়ে আসো। আর কাজ শুরু কর। সময়টা ২০১০ সাল। তখন ওয়ালটন কেবল বড় বড় প্রজেক্টে ইভেন্টের কাজ শুরু করছে। ওয়ালটন বেশ বড় বাজেটের বিজ্ঞাপন বানাচ্ছিল। ক্রিকেটের মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং শুরু করেছিল। আমি ওয়ালটনে ট্রায়াল বেসিসে কাজ শুরু করি। তখন বড় পরিসরে করা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজ্ঞাপনের কাজগুলো এনজয় করতে শুরু করি এবং বৈচিত্র খুঁজে পাই। সময়ের সাথে সাথে কাজের স্রোতের সাথে মিশে যাই। সেই যে শুরু, আজ ১২ বছর ওয়ালটনে কিভাবে যে কেটে গেলো বুঝতেই পারিনি। এখন ওয়ালটন আমার পরিবার। ভালোবাসার জায়গা।


বিবার্তা: আপনি ওয়ালটন গ্রুপে ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আপনার কাজের ধরণটা কেমন? কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।


রবিউল ইসলাম মিলটন: চাকরির শুরু থেকে নানামুখী কাজের সাথে জড়িত ছিলাম। যখন যে ইভেন্ট হত, তখন তাতেই কাজ করেছি। পাশাপাশি ডেস্ক জব তো ছিলই। দেশে অনলাইন নিউজপোর্টালের জয়যাত্রা শুরু হলে অনলাইন মিডিয়াতে ফোকাস করে ওয়ালটন। ২০১২ সাল থেকে দেশের অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোর সঙ্গে মিডিয়া কমিউনিকেশনের দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে। বর্তমানে মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন বিভাগের আওতায় ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেকশনের ইনচার্জ হিসেবে আছি। অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোতে বিজ্ঞাপন ও প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং এবং প্রতিষ্ঠানের এডিটর, মার্কেটিং, রিপোর্টারসহ সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কাজ করছি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলো যেমন, ডিআরইউ, প্রেসক্লাব, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, সিএমজেএফ, বিএসজেএ, বিএসজেসি, বিএসপিএসহ সকল সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় সব বিষয়গুলো দেখভাল করছি।