‘ঢাকা-৪ এ আওয়ামী লীগকে মনে হয় বিরোধী দল’
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২২, ২১:১১
‘ঢাকা-৪ এ আওয়ামী লীগকে মনে হয় বিরোধী দল’
মো. তাওহিদুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা- ৪ নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। জাতীয় পার্টি আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের জেলখানা থেকে ছাড়িয়ে এনে জাতীয় পার্টির নেতা বানিয়েছে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ৪ আসন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা- ৪ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগকে মনে হয় বিরোধী দল। জাতীয় পার্টির এমপি বিএনপি-জামায়াতের সাথে সখ্যতা করে এলাকা চালাচ্ছে। ফলত সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামী লীগের অবস্থা দিনকে দিন দুর্বল হচ্ছে।


কথাগুলো বলেছেন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও দুইবারের সাবেক সফল সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম।


ঢাকা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা, দলের জাতীয় কাউন্সিল এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক মো. তাওহিদুল ইসলাম।


বিবার্তা: দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী। শ্যামপুর-কদমতলীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কী অবস্থা?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ঢাকা- ৪ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। বিএনপির প্রার্থীর সাথে আমার ভোটের পার্থক্য ছিল প্রায় ৫০ হাজার। আমি দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে ঢাকা- ৪ আসনে কাজ করেছি। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আমিই দ্বিতীয়বারের মতো নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক কারণে জাতীয় পার্টিকে আমাদের সমর্থন করতে হয়েছিলো। এই জন্য আমাদের নেত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি। ফলে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দশম সংসদে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত করেন। ওই ৫ বছরও আমি শ্যামপুর-কদমতলীতে কাজ করেছি। তখনও সাধারণ জনগণ আমার কাছেই আসতো প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আমরা জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিয়েছি। জাতীয় পার্টিকে আসন ছেড়ে দেয়ায় এই এলাকায় আমাদের সংগঠন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। দল ক্ষমতায় কিন্তু ঢাকা- ৪ এ দলীয় সংসদ সদস্য নেই। জাতীয় পার্টি আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের জেলখানা থেকে ছাড়িয়ে এনে জাতীয় পার্টির নেতা বানিয়েছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ৪ আসন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা- ৪ নির্বাচনী এলাকায় মনে হয় আমরা বিরোধী দল। জাতীয় পার্টির এমপি বিএনপি-জামায়াতের সাথে সখ্যতা করে এলাকা চালাচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগ সংগঠনিকভাবে এখানে দুর্বল হয়েছে। ভবিষ্যতে ঢাকা- ৪ আসনে জাতীয় পার্টিকে আর ছাড় দেওয়াটা ঠিক হবে না বলে মনে করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার বিনীত আবেদন থাকবে, সংগঠন বাঁচাতে ঢাকা- ৪ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হোক।




বিবার্তা: ঢাকা বিভাগে বেশ কয়েকটি জেলায় এখনো সম্মেলন হয়নি। এসব জেলার সম্মেলন প্রস্তুতি কতদূর?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: ঢাকা বিভাগে আমাদের অনেকগুলো সম্মেলন হয়েছে। এখনো বেশ কিছু সম্মেলন করা বাকি আছে। ঢাকা জেলার ২/৩ টা উপজেলা বাকি রয়েছে। বাকি সম্মেলগুলো পার্টি থেকে যেই সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে সেই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবো। আমাদের সাংগঠনিক টিমের টার্গেট হচ্ছে জুলাই মাসের মধ্যেই সব সম্মেলন শেষ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করা।


বিবার্তা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। বিদ্রোহীদের বিষয় দলের ভাবনা কী?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: আমাদের দলের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়টা পরিস্কার করে দিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ বিষয়ে বলেছেন, দলের বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।


বিবার্তা: কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের বাধাঁর সম্মুখিন হয়েছেন কিনা। হলে তা কী ধরণের?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: কাজ করতে গেলে বাঁধা বিপত্তি তো থাকবেই। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দলে হাইব্রিড ঢুকেছে। আমরা তাদের সনাক্ত করছি। দলকে যারা ধারণ করে না তারা দলে থাকতে পারবে না। আমি ১০ বছর এমপি ছিলাম। এই সময় আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। ওই সময় বৃহত্তর ডেমরা থানায় কোনো সরকারি হাই স্কুল ছিল না। আমি জুরাইনে, জুরাইন শেখ কামাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার সময়ে ঢাকা সিটিতে প্রথম বুড়িগঙ্গার পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মধ্যে নির্বাচনী সার্ভার স্টেশন, জুরাইন কবরস্থানের দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মসজিদ নির্মাণ, মোহাম্মদবাগে কলেজ নির্মাণ, পোস্তগোলা মহাশ্মশানের দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছি। ঢাকা- ৪ নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। আমি সংসদ সদস্য না থাকার পরেও লোকজন কিন্তু আমার কাছেই আসছে। আমি চেষ্টা করছি উন্নয়নমূলক কাজে বিএনপি-জামায়াত বা জাতীয় পার্টি যাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে। নানা অপকর্ম করার চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পার্টি তা করতে পারেনি। ঢাকা-৪ আসনের বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপির কাজ হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতকে সাথে নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করা। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা হতে দিবে না, হতে দিতে পারি না।




বিবার্তা: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢাকা বিভাগে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের আগে আমাদের জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলন এবং পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই দুটাকে লক্ষ্য করেই আামরা আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করছি। সংগঠন শক্তিশালী হলে কোনো অপশক্তি নাই যে, গায়ের জোরে কিছু করতে পারবে। সংগঠন শক্তিশালী হলে আমাদের আগামী নির্বাচন সহজ হবে।


বিবার্তা: দেশ কী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে হাঁটছে?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: অবশ্যই। দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথেই রয়েছে। গত ১৪ বছর টানা ক্ষমতায় থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিরন্তর চেষ্ট করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন করতে।


বিবার্তা: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কেমন দেখতে চান?


অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম: আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রধান টার্গেট হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বর্তমানে আমাদের দেশে সকল সেক্টর তরুণদের পদচারণা মুখর। তরুণ প্রজন্মকে দেশের সত্য ইতিহাস জানাতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।


বিবার্তা/তাওহিদ/রোমেল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com