‘যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে কিশোর এবং যুবারা’
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২২, ২২:৫৭
‘যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে কিশোর এবং যুবারা’
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

একসময় প্রচলিত প্রবাদ ছিল `যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা’। তখন যক্ষ্মার জন্য কার্যকর কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি ও উপযুক্ত ওষুধ ছিল না। তাই যার যক্ষ্মা হত, তার মৃত্যু ছিল অবধারিত। তখন যক্ষ্মা মানে মৃত্যুর প্রহর গোনা।


রাজধানী শ্যামলীর ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতালের নিজ কার্যালয়ে বিবার্তার সাথে একান্ত আলাপে এসব কথা বলেছেন হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ও ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী।


তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের নেওয়া জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বা এনটিপির কারণে এখন যক্ষ্মা নিয়ে ভয়ের তেমন কারণ নেই। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিনামূল্যে যক্ষ্মার চিকিৎসা রয়েছে।


বিবার্তার সাথে আলাপকালে উঠে আসে দেশে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিসহ চিকিৎসা খাতের সমসাময়িক নানা বিষয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রধান প্রতিবেদক উজ্জ্বল এ গমেজ।


বিবার্তা: যক্ষ্মা বা টিবি রোগ কেনো হয়? শরীরের কোন কোন অংশে এই রোগ আক্রমণ করে?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: যক্ষ্মা একটি পুরানো, দীর্ঘস্থায়ী ও সংক্রামক রোগ। ১৮৮২ সালে ২৪ মার্চ ডা. রবার্ট কচ যক্ষ্মা রোগের জীবাণু মাইক্রোব্যাটেরিয়াম টিউবারকিউলসিস আবিষ্কার করেন। ইংরেজিতে যক্ষ্মাকে বলা হয় টিউবারকিউলোসিস। সাধারণত যাকে আমরা টিবি বলে জানি। মাইকোব্যাকটেরিয়াল টিউবারকিউলোসিস নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে মানুষের শরীরে যক্ষ্মা হয়ে থাকে। ‘যক্ষ্মা’ শব্দটা বাংলা ‘রাজক্ষয়’ শব্দ থেকে এসেছে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীরা খুব রোগা হয়ে পড়েন। যক্ষ্মায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ফুসফুস। এছাড়া হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশি ও থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়া শরীরের যেকোন অঙ্গেই যক্ষ্মা হতে পারে। এমনকি কিডনি, মেরুদণ্ড অথবা মস্তিষ্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। জীবাণু শরীরে ঢুকলেই কিন্তু যক্ষ্মা হয় না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে যক্ষ্মা হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। যক্ষ্মা রোগীর কাছাকাছি থাকেন এমন ব্যক্তি, যেমন- পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, নার্স বা সেবাদানকারীর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। পরিবেশ দূষণ, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, মাদকাসক্তি, বার্ধক্য, অপুষ্টি ইত্যাদি যক্ষ্মার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। যাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম, যেমন- এইডস রোগী, দীর্ঘ মেয়াদে স্টেরয়েড বা ইমিউনোথেরাপি ওষুধসেবীরাও যক্ষ্মার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মাথার চুল থেকে শুরু করে সর্বাঙ্গেই যক্ষ্মা হতে পারে। তবে শতকরা ৮৫ ভাগ যক্ষ্মা ফুসফুসেই হয়ে থাকে। ফুসফুসে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।



বিবার্তা: আমাদের দেশে কোন বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করেন?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিদিন যক্ষ্মায় মারা যান ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ। যক্ষ্মায় আক্রান্ত মোট রোগীর দুই-তৃতীয়াংশ যে আটটি দেশে আছে, তারমধ্যে বাংলাদেশ একটি। আবার যক্ষ্মা যে শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হয়, তা কিন্তু নয়। সবার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। বিশেষত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ে। রোগ কিংবা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসেও আক্রমণ করতে পারে যক্ষ্মার জীবাণু। ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ, অপুষ্টি, মদ্যপান, মাদক সেবন, ধূমপান-এসব যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ায়। গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি, কেমোথেরাপি কিংবা দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণ করছেন এমন ব্যক্তি ও এইচআইভি আক্রান্ত মানুষেরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। তবে ১৫-২৫ বছরের কিশোর ও যুবকদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়াও ঝুঁকির তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে করোনা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে অনেকেরই যক্ষ্মার ঝুঁকি বেড়েছে।


বিবার্তা: রোগটি সাধারণত কীভাবে ছড়ায়?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: শুরুতেই বলেছি যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। এ রোগ সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়ায় এবং দেহে প্রবেশ করে প্রথমে ফুসফুসে আশ্রয় নেয়। যক্ষ্মায় আক্রান্ত সব রোগীর কাছ থেকেই কিন্তু যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ায় না। যাদের থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তাদের হাঁচি-কাশি, এমনকি কথা বলার সময়ও বাতাসে যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ায়। এ জীবাণু বেশ কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে এই জীবাণু। এভাবেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। অপরিশোধিত দুধ পানের মাধ্যমেও যক্ষ্মার জীবাণু ছড়াতে পারে। ঘনবসতি বা আবদ্ধ স্থানে এ জীবাণু অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।


বিবার্তা: যক্ষ্মার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই।


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: এখন চিকিৎসায় যক্ষ্মা সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়। যক্ষ্মা প্রতিরোধ করার জন্য ভ্যাকসিন রয়েছে। সদ্যোজাত শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিকারের জন্য বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ইপিআইয়ের অংশ হিসেবে এ টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তা ছাড়া বয়সভেদে সঠিক মাত্রার, সঠিক সময়ে, সঠিক ওষুধ সেবন করলে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব। কিন্তু যক্ষ্মার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। দুই ধরনের ক্যাটাগরিতে যক্ষ্মার চিকিৎসা দেওয়া হয়। একটি ক্যাটাগরিতে ছয় মাস ধরে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। অপর ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে ৮-৯ মাস ধরে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। তবে অনেক সময় দুই থেকে তিন মাস ওষুধ খাওয়ার পর আক্রান্ত রোগী একটু ভালো অনুভব করলে, ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। এটি একদমই ঠিক নয়। যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ নিয়মিত পূর্ণ মেয়াদে সেবন করতে হয়। না হলে আবার যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং এরকম ক্ষেত্রে আগের ওষুধ কোনো কাজে আসে না। তৈরি হয় মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবি এবং এক্সট্রিম ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবি, যার চিকিৎসা খুবই দুঃসাধ্য এবং ব্যয়বহুলও বটে।


যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীকে যথাযথ পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। শ্লেষ্মায় জীবাণুবাহী যক্ষ্মার ক্ষেত্রে রোগীকে অন্তত ২ সপ্তাহ আলাদা রাখতে হবে। রোগীর মুখে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে রোগীকে নিয়মিত ফলোআপে রাখা জরুরি। সাধারণত চিকিৎসার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে জ্বর কমে যায়, খাবারে রুচি আসে এবং ওজনও বাড়তে থাকে। এ ধরনের উন্নতি দিয়ে বোঝা যায়, রোগী চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। যক্ষ্মার ওষুধে কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যেমন- জন্ডিস, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা, পায়ে শিরশির করা ও অবশতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


বিবার্তা: সারাদেশে যক্ষ্মা চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা কেমন?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: একসময় প্রবাদ ছিল `যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভাবনীয় উন্নতি, বিশেষ করে সরকারের নেয়া জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বা এনটিপির কারণে এখন যক্ষ্মা নিয়ে আর কোনো ভয় নেই। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিনামূল্যে যক্ষ্মার চিকিৎসাব্যবস্থা করেছে সরকার। উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, পোশাক কর্মীদের চিকিৎসা কেন্দ্র, তা ছাড়া ব্র্যাক থেকে বিনামূল্যে যক্ষ্মার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিবি প্রোগ্রামের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মার কারণে ৯০ শতাংশ মৃত্যুহার ও ৮০ শতাংশ প্রকোপ কমিয়ে আনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাহায্য ছাড়াও দেশজুড়ে বিনামূল্যে যক্ষ্মারোগ নির্ণয়, রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অঙ্গসংগঠন, মেডিকেল কলেজ, গ্রাম, উপজেলা, থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাজ করে আসছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে টিবি বা যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে, যা প্রশংসনীয়। উপমহাদেশের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম এমডিআর যক্ষ্মার দ্রুত চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ সাফল্য লাভ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে, আশা করা যায় একসময় যক্ষ্মামুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বাংলাদেশ।



বিবার্তা: দেশে হাসপাতালগুলিতে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে কিনা?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: যক্ষ্মা রোগ শনাক্তের জন্য বাংলাদেশে উন্নত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সহায়তায় উন্নত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জিন এক্সপার্ট মেশিন, এলইডি মাইক্রোস্কোপি, লিকুইড কালচার, এলপিএ, ডিজিটাল এক্সরে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়েছে। জিনএক্সপার্ট ৪৯০টি, যার মধ্যে করোনাকালীন সময়ে ২৩০টি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও মাইক্রোস্কোপ এক হাজার ১১৯টি ও ডিজিটাল এক্সরে স্থাপন হয়েছে ১৭৮টি। এসব পদ্ধতিতে ড্রাগ সেনসিটিভ ও ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট উভয় প্রকার যক্ষ্মার প্রায় ৮৩ শতাংশ রোগী শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। এছাড়া একটি ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ও ৫টি রিজিওনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত করা হয়। সারাদেশে সরকারি ৪৪টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, ৭টি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আন্তবিভাগ-বহির্বিভাগ এবং এনজিও ক্লিনিকে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।


বিবার্তা: চিকিৎসাসেবা খাতের সীমাবদ্ধতা আছে কী?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: দেখুন, সব সেক্টরেই সীমাবদ্ধতা থাকে। কখনও কোনকিছুই পরিপূর্ণ হয় না। কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। আমাদের চিকিৎসাসেবা খাতও এর ব্যতিক্রম না। যেমন দেশের হাসপাতালগুলিতে যে পরিমাণ রোগী রয়েছে, সে তুলনায় কিন্তু আমাদের ডাক্তার, নার্স নেই। এই সংকট বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রয়েছে। তেমনিভাবে আমাদের দেশেও এই সংকট রয়েছে। এই সীমিত জনবল মানে প্রয়োজনের তুলনায় কম ডাক্তার, নার্স দিয়েই আমরা গত দুই বছর করোনার সময়ে যুদ্ধ করে দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করেছি। এছাড়াও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশে সরকারি-বেসরকারি ভাবে অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এসব হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরানো কিছু হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি অভাব রয়েছে। চিকিৎসাসেবা খাতে এগুলো আমাদের সীমাবদ্ধতা। সীমাবদ্ধতাগুলি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মর্কতারা অবগত আছেন। পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরিই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।



বিবার্তা : দেশের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে আপনার মতামত কেমন?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলবো যে, উন্নত ও প্রযুক্তি সফল দেশের চিকিৎসাসেবার তুলনায় আমাদের দেশের চিকিৎসার মান, চিকিৎসকদের সক্ষমতা, দক্ষতা, প্রতিভা অনেক ভালো। আমার কাছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি মানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার উন্নতি। মানুষ যাতে সহজে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে। আমাদের দেশে ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাস। দেশে চাহিদার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। এখন পর্যন্ত এই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক সারাদেশে যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন, এটা পৃথিবীর কোন দেশেই সম্ভব না। এটা থিওরিটিক্যাল নয়, প্র্যাকটিকেল বিষয়। এককথায় বলবো আমাদের দেশের চিকিৎসাসেবার মান অনেক ভালো। সারাদেশের মানুষ এই অল্পসংখ্যক চিকিৎসকদের কাছ থেকে যে চিকিৎসাসেবাটা পায়, সেটা পৃথিবীর কোন দেশেই পাবে না। বলতে পারেন খুবই উন্নত মানের চিকিৎসা।


বিবার্তা: একটু স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন অথবা কেউ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে পশ্চিমাবিশ্বসহ থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ভারতে চলে যায়, কেনো?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: আমাদের দেশের ডাক্তাররা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা করে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। আমাদের চিকিৎসাসেবার মান বিশ্বমানের। এখানে সব ধরনেরই চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের অনেক সফলতার গল্পও আছে। বর্তমানে দেশে কিডনি, হার্ট, লিভার প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ক্যান্সার, বোনমেরুর মতো জটিল চিকিৎসাও দেশে করা হচ্ছে। তবে দেশে এখনো কিছু জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। সেকারণে কিছু সংখ্যক স্বচ্ছল মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যান। এছাড়া অরেকটি কারণ হলো কিছু মানুষ দেশের চিকিৎসাসেবায় এখনও ভরসা রাখতে পারছেন না। বিদেশে গেলেই ভাল মানের চিকিৎসা পাবেন- এমন মনোভাবের কারণেও তারা দেশের বাইরে যান।


বিবার্তা: চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাইছেন?


ডা. আয়েশা আক্তার শিল্পী: করোনাভাইরাস মোকাবেলা যুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এবং সারা বিশ্বে পঞ্চম। আমাদের চিকিৎসা সেবার মানটা অবশ্যই ভালো বলে আমরা এই অবস্থানে আছি। আমরা আস্তে আস্তে এমডিজি থেকে এসডিজিতে আগাচ্ছি। এটা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। একজন চিকিৎসক সেবা দিয়ে একজন মৃত্যু পথযাত্রীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন জীবন দেন। মানুষের বিশ্বাস চিকিৎসকরা জটিল রোগ থেকে সুস্থ করে তাদের নতুন জীবন দিবেন। মানুষের এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসকদের কাজ করতে হয়। আর সব চিকিৎসক যেনো হৃদয় থেকে ভালোবেসে এ মহান পেশাটাকে গ্রহণ করেন- তাহলেই দেশের চিকিৎসাসেবা উন্নতির চরমশিখরে পৌঁছবে। দেশের সব চিকিৎসক হয়ে উঠুক আদর্শবান। দেশের স্বাস্থ্যখাত আরো নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠুক, এমনটাই প্রত্যাশা।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com