আ.লীগ সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত: বি এম মোজাম্মেল হক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২২, ১১:৫৬
আ.লীগ সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত: বি এম মোজাম্মেল হক
মো. তাওহিদুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে। জনগণের মধ্য থেকেই এই দলের সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে।


কথাগুলো বলেছেন, শরীয়তপুর-১ আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক।


স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শরীয়তপুরের বি এম মোজাম্মেল হক। ১৯৬৯ সালে নবম শ্রেণিতে স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইউনিয়ন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। খাদ্য সংগ্রহসহ যাবতীয় সহযোগিতা করেন মুক্তিযোদ্ধাদের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছিলেন ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ছিলেন বৃহত্তর লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। পরে সভাপতি। দায়িত্ব পালন করেন অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দপ্তর ও সাংগঠনিক সম্পাদকের। পরপর দুইবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০২ সালে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য করেন। পরে কাউন্সিলে দলটির উপ-দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৯ সাল থেকে টানা চারবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। ছিলেন দুইবার জাতীয় সংসদের সদস্য। খুলনা ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে খুলনা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।


খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন বি এম মোজাম্মেল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক মো. তাওহিদুল ইসলাম।


বিবার্তা: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে খুলনা বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?


বি এম মোজাম্মেল হক: সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব হল ওই বিভাগের অর্ন্তগত জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ভেঙে নতুন কমিটি করা। ২০১৯ সালের কাউন্সিল ডিসেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখে হওয়ার পরে জানুয়ারি মাসে পুনরায় আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দেশে করোনা। করোনার জন্য আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। তারপর ২০২০ সালে করোনা যখন কমে আসছিলো তখন আবার নির্বাচন হলো। এই নির্বাচনের সময় আমি গিয়ে সভা করেছি, প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছি। মেয়াদোত্তীর্ণ অসামাপ্ত উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোকে তাগিদ দিয়েছি। তারা কাউন্সিল করেছে। আমাদের কাজ চলমান আছে। আমরা সময়ের মধ্যেই খুলনা বিভাগের সকল কাউন্সিল শেষ করতে পারব।


বিবার্তা: চলতি বছরের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে খুলনা বিভাগের সকল কাউন্সিল শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?


বি এম মোজাম্মেল হক: জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যেই খুলনার কাজ সব সম্পন্ন হয়ে যাবে। আমাদের খুলনা বিভাগের সকল জেলার কাজ চলমান। আমরা জুনের মধ্যেই সকল সম্মেলন শেষ করতে পারব।


বিবার্তা: দলের বিভিন্ন ইউনিট কমিটিতে হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম দেখা যায়। হাইব্রিড এবং এর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আপনারা কী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন?


বি এম মোজাম্মেল হক: দলে হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম সব সময়, সব কালেই কিছু কিছু দেখা গেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরাই কখনও কখনও দলে প্রবেশ করে একটা বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। এরাই প্রকৃত হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারী। এদের সাথে আমাদের কোনো আপোষ নাই। এদের দলে কোনো স্থান নাই। আওয়ামী লীগ কাজ করে দেশের জন্য, মানুষের জন্য। বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্যই ছিলো এ দেশের মানুষকে স্বাধীন করা। সুতরাং এই দলে হাইব্রিড-অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী মতলববাজদের কোনো স্থান নাই।


বিবার্তা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। খুলনা বিভাগের সম্মেলনে বিদ্রোহীদের বিষয়ে দলের অবস্থান কী?


বি এম মোজাম্মেল হক: বিদ্রোহীদের দলে কোনো জায়গা নাই। গত ৭ মে মিটিংয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন- সে যদি থানা বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও হয়ে থাকেন, তাহলে ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করে সম্মেলন করা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা। আবার আরেকটি কন্ডিশন আছে, যদি কাউন্সিল হয় এবং কাউন্সিলে ভোট হয়, আর এই ভোটে যদি বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচিত হয় তাহলে তারা নেতৃত্বে আসতে পারবে। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, এটা মনে রাখতে হবে।


বিবার্তা: বিএনপি বলছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তাদের দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?


বি এম মোজাম্মেল হক: বিএনপি এ পর্যন্ত অনেক কথা বলেছে। ২০১২-১৩ সাল থেকে বিএনপি কথা বলা শুরু করেছে। তারা জামাত, স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদী শক্তিকে সাথে নিয়ে এদেশে জ্বালাও পোড়াও করেছে। ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত লাগাতার নিরপরাধ, নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা, বোমাবাজি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়া তাদের কোনো কাজ নাই। গণতান্ত্রিক আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে পারেনি। বিএনপির নেতারা বলছে, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতারা বাঁধা দিবে সেখানেই তাদের পিটাও, ভাঙচুর করো। সেখানেই খুন করো। এটা কি কোনো গণতন্ত্রের ভাষা? ২০১৪ সালে তারা নির্বাচনে আসে নাই কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি তারা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা তো প্রার্থীতাই ঠিক করতে পারেনি। কোথাও তিনজন, কোথাও একজন। একই আসনে তিনজন প্রার্থীকে একজন করতে পারে নাই। বিএনপির তারেক রহমান লন্ডন থেকে চাঁদাবাজি করছে। কোটি কোটি টাকা নিচ্ছে। সে টাকা নিয়ে তিনজন প্রার্থীর নামই দিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের প্রচেষ্টাটাই করে নাই তারা। এখনও তাদের প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে আছে। তারা তো নির্বাচন প্রত্যাখান করে নাই। আবার এখন বিএনপি বলতেছে নির্বাচনে যাবে না। একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। এদেশের মানুষ কি এটা মেনে নিবে? দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের কথা ছাড়া এদেশের জনগণের জন্য বিএনপি কী করেছে?


বিবার্তা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?


বি এম মোজাম্মেল হক: আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ একটা নির্বাচনী দল। জনগণের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি গণতান্ত্রিক দল। ক্যান্টনমেন্টের সামরিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয় নাই। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে বারবার। কোনো ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে নাই।


বিবার্তা: বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়েছে। দেশ কী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের পথে হাঁটছে?


বি এম মোজাম্মেল হক: বঙ্গবন্ধুকে যদি নির্মম হত্যার শিকার না হত, আমরা যদি ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে না থাকতাম, তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ২০২৫ সালে মধ্যেই হয়ে যেত। যে বাংলাদেশ ছিল অভাব, দুর্ভিক্ষ, দারিদ্রতার। যে দেশে শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ তিন বেলা পেট ভরে খেতে পারত না। সেই বাংলাদেশে আজ দারিদ্রতা নাই, ক্ষুধা নাই, এখন কেউ খালি পায় থাকে না, প্রত্যেকের পায়ে স্যান্ডেল আছে। বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সব কিছুই দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। একটি উন্নত জীবন, উন্নত দেশের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।


বিবার্তা/তাওহিদ/রোমেল/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com