‘ভয়কে জয় করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেই এগিয়ে যাবে নারী’
প্রকাশ : ১০ মে ২০২২, ১২:১৫
‘ভয়কে জয় করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেই এগিয়ে যাবে নারী’
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

সামাজিক বাধাগুলো অতিক্রম করার দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে একজন নারীর। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হলে চলবে না। নিজের মধ্যে পেশাদারিত্ব থাকতে হবে। নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। সামনে এগুনোর পথ কেউ তৈরি করে দেবে না। কাজের মধ্যে সমস্যা আসবেই। সমস্যার কথা চিন্তা না করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভয়কে জয় করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলে নারীরা এগিয়ে যাবে।


বিবার্তা২৪ডটনেটের সাথে একান্ত আলাপকালে কথাগুলো বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল।


ড. লাফিফা জামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ঢাবি'র শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্ত আছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিয়ে গঠিত সংগঠন বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিওব্লিউআইটি) এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ফ্লাইং ল্যাবস-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশে রোবট অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সহ-সভাপতি। ড. লাফিফা জামাল বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।


দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নারীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই রোবট গবেষকের সাথে দীর্ঘ আলাপের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে বিবার্তা। পাঠকদের জন্য আজ রয়েছে তার শেষ পর্ব।



বিবার্তা: সারাদেশে রোবট নিয়ে কাজ করা তরুণ উদ্ভাবকদের অবস্থা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ জানতে চাই?


অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল: শুরুতে আমি বলেছিলাম রোবটিক্স আমাদের দেশে নতুন একটা বিষয়। এটা জেনেও দেশের মেধাবি ও সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম চ্যালেঞ্জ হিসাবে বেছে নিচ্ছে রোবটিক্স ও মেকাট্রনিক্সের মতো অ্যাডভান্স সব বিষয়। এটা খুবই আশার কথা। অনেকে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আবার অনেকে দেশে বসেই বেশ ভালো কাজ করছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশে রোবটিক্স, অ্যাম্বেডেড সিস্টেম, অটোমেশন ও আইসি ফ্যাব্রিকেশনের জন্য এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি নেই। যে কারণে চায়না, জাপান, কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে আমদানি করতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রোডাক্ট। নিজস্ব ডিজাইন তৈরি করে তা ম্যানুফাকচার করতে হয় চায়না থেকে, যা অনেক ব্যয়বহুল। সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবনী ও আইডিয়া ফান্ড থেকে এসব কাজে অনুদান দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অনুদানের পরিমাণ অনেকের গবেষণা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।


বিবার্তা: ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জপদক অর্জন করছে। এই সাফল্যে আপনার অনুভূতি কেমন?