সাম্প্রতিক সময়কার বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ফেসবুক গবেষকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২২, ১৯:৪১
সাম্প্রতিক সময়কার বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ফেসবুক গবেষকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বিদ্যুৎ এমন একটি আবিষ্কার যা সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ এর ওপর ভর করে বিভিন্ন বিপ্লব সাধিত হয়েছে। সভ্যতার আলোক জ্বালানো হয় বিদ্যুৎ দিয়ে। কিন্তু এই বিদ্যুৎ তৈরি হয় কিসের দ্বারা?


বিদ্যুৎ তৈরির স্থাপনাগুলো কয়লা/গ্যাস/তেল ইত্যাদির মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও সমুদ্রের ঢেউ, বাতাসের গতি বা সৌরশক্তির মাধ্যমেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন এবং চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে সৌর বা বাতাসের গতিচালিত ব্যবস্থা দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সারাবিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনাগুলোতে তেল/গ্যাসের ব্যবহার অধিক পরিমাণে হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।


প্রাকৃতিক সম্পদের দিক দিয়ে আমরা যেহেতু অনুন্নত একটি দেশ তাই আমাদের প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ পণ্য আমদানি করতে হয়। বিভিন্ন পণ্য আমদানির মতো তেল/গ্যাসও আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকি। আর তেল/গ্যাসের এই দাম কখনও নির্দিষ্ট থাকে না। প্রতিঘন্টায় মুল্য উঠা-নামা করে।


বর্তমান অস্থিতিশীল এই বিশ্বে অন্যান্য পণ্যের মতো তেল গ্যাসেরও দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই ঊর্ধ্বমুখী মুল্যের সাথে তালমিলিয়েই আমাদের চলতে হয়। যেহেতু আমাদের পণ্যগুলো আমদানির ওপর নির্ভরশীল। যদি উচ্চমুল্যে তেল/গ্যাস আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তবে বিদ্যুৎ এর ইউনিট প্রতি দাম বৃদ্ধি পাবে। আর দাম বৃদ্ধি পেলে তা সহনীয় করতে সরকারকে দুইটি পদক্ষেপ নিতে হয়ঃ


১) ভোক্তা পর্যায়ে মুল্যবৃদ্ধি
২) ভর্তুকির মাধ্যমে দাম সহনীয় করা


***এখন প্রথমে ভোক্তা পর্যায়ে মুল্য যদি বৃদ্ধি পায় তবে জনঅসন্তুষ্টি সৃষ্টি হবে। জনগণ তা মানতে চাইবে না। কারণ মহামারীর পর সবারই আয়ের উৎস কমে গিয়েছে। আর বিরোধীরা সতীনের দোষ ধরায় ব্যস্ত থাকবে।


*** দ্বিতীয়ত, যদি ভর্তুকি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করে তবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন ঝুঁকিতে পড়বে। এতে করে সরকারকে অধিক পরিমাণে ঋণ নিতে হবে। ফলে মাথাপিছু ঋণের বোঝা আরো বাড়বে।


তাহলে আমাদের করণীয় কি?


সাধারণ জনগণ হিসেবে আমাদের ফেসবুক কমেন্ট যুদ্ধা না হয়ে আমাদের একটু মিতব্যয়ী হতে হবে। আগে যেখানে ফ্যানের সাথে এসি চলতো এখন সেখানে শুধু ফ্যান চালনা করতে হবে। আগে থেকে অপচয় রোধ করতে হবে। একটু সহনশীলতা বাড়াতে হবে। কারণ আমরা যদি একটু মিতব্যয়ী হই তবে উৎপাদনশীল খাতগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।


বিঃদ্রঃ- সামনে বৃষ্টিপাতের সময় এবং শীতকাল। তখন বিদ্যুৎ এর চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বদাঅভ্যাসটা আমাদের পরিবর্তন করতে হবে তা হলো ফেসবুক গবেষণা বন্ধ করা। যেহেতু জালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল তাই এটা সরকারের নিজস্ব ইচ্ছার ওপর সবকিছু হবে তা ভাবা বোকামি। সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা মেনে চলে নির্দিষ্ট সময়ে দোকানপাট বন্ধ করতে হবে।


বিঃদ্রঃ- পরিস্থিতি না বুঝে সরকারবিরোধী পোস্ট বা মন্তব্য করলেই আধুনিক হওয়া যায় না। আধুনিকতা অর্থ হলো পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলা।


-আল আমিন মহিদ পালোয়ান, ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


বিবার্তা/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com