‘একটা সভ্য দেশে কথায় কথায় সাংবাদিক গ্রেফতার হতে পারেন না’
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২২, ১৫:২৪
‘একটা সভ্য দেশে কথায় কথায় সাংবাদিক গ্রেফতার হতে পারেন না’
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

একটা সভ্য দেশে কথায় কথায় সাংবাদিক গ্রেফতার হন না। তাও শতভাগ সত্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য যে প্রতিবেদনের সত্যতা পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তেও উঠে এসেছে। সাংবাদিকদের এমন গ্রেফতারের ঘটনায় দেশের মান বাড়ে না। এই যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাঙামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে গ্রেফতার করা হলো, তাতে এই রাষ্ট্রের এই সরকারের লাভটা কী হলো? আর কী অপরাধেই তাকে গ্রেফতার করা হলো?


ফজলে এলাহী পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে নিজ জেলায় গিয়ে তিনি সাংবাদিকতা করছিলেন। জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, এনটিভি ও ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর জেলা প্রতিনিধিও তিনি।


পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি শহরের এডিসি হিলের বাসা থেকে ফজলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কোতোয়ালী থানার ওসি কবির হোসেন জানান, ‘দুপুরে ওয়ারেন্ট আসার দুই ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’


কিন্তু কী এমন অপরাধ করলো যে এতো দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে? ঘটনা হলো, ডিসি পার্কের অনিয়ম নিয়ে ফজলে এলাহী গত বছর একটা প্রতিবেদন করেছিলেন। এই ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা চিনু এবং তার মেয়ে নাজনীন আনোয়ারের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে থানায় দুটি অভিযোগ দেয়া হয়।


শুনে অবাক লাগে পুলিশ অভিযোগ দুটি তদন্তের অনুমতি চাইলে আদালত প্রমাণ না পাওয়ায় খারিজ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা বলে কথা! ফিরোজা বেগম রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সাবেক এই এমপি এবং তাঁর কন্যা এরপর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। ওই মামলতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।


আচ্ছা এই গ্রেফতারের সরকারের লাভ কী? রাষ্ট্রের লাভ কী? ফজলে এলাহী তো মিথ্যা কিছু লিখেননি। পুলিশের গোপন প্রতিবেদন বলছে, সাংবাদিক ফজলে এলাহীর প্রতিবেদন ১০০ ভাগ সত্য। এমনকি জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও এর সত্যতা মিলেছে। প্রশ্ন হলো শতভাগ সত্য সংবাদ করার পরেও একজন সাংবাদিককে কেন জেলে যেতে হবে? আচ্ছা এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কী বাংলাদেশের সম্মান বাড়াচ্ছে। এর আগে আইনমন্ত্রী কিন্তু বলেছিলেন, মামলা হলেই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা যাবে না। তারপরেও কেন সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হলো?


সাংবাদিক ফজলে এলাহীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বোধ থাকলেই বোঝা যায় এটি ‘হয়রানিমূলক’ মামলা। শুরু থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের কাছে অনুরোধ, এসব নিপীড়নমূলক আইন বাতিল করুন।


শরিফুল হাসান
লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট-এর ফেসবুক থেকে নেয়া।


বিবার্তা/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com