কুড়িগ্রামে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:৫৫
কুড়িগ্রামে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কুড়িগ্রামের উলিপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের রোগী দিয়ে তাদের কাছ থেকেও কমিশন আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


অসহায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তারা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও করেছেন। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রোগী পরিবহনে জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক মমিনুল ইসলাম মন্টু প্রায় এক যুগ থেকে উলিপুরে কর্মরত রয়েছেন। সরকার নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২০ টাকা।


তবে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া ২০ টাকা। সে হিসাবে উলিপুর থেকে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার এবং এর ভাড়া আসে ৩৬০ টাকা। অথচ অ্যাম্বুলেন্স চালক মমিনুল ইসলাম মন্টু আদায় করছেন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।


এদিকে, উলিপুর থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজের দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার, যার ভাড়া ১ হাজার ২ শত টাকা অথচ আদায় করছেন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এ ঘটনায় পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।


উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সোহেল নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার আত্বিয় গুরুত্বর ভাবে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। উলিপুর থেকে তাকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ড্রাইভার মমিনুল আমার কাছে ১ হাজার ৮০০ টাকা দাবি করেন। আমি ১ হাজার ৪০০ টাকা দিতে চাইলেও ড্রাইভার তা গ্রহন করেনি। এসময় ড্রাইভার রোগী আটকিয়ে জোরপূর্বক আমার কাছে ১ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করেন।


পৌরসভার আব্দুল মান্নান মিয়া নামের একজন বলেন, আমার শিশুবাচ্চা গুরুত্বর অসুস্থ্য হলে তাকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যোগে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ড্রাইভারকে ভাড়া বাবদ ৪০০ টাকা দিতে চাইলেও নিতে চায়নি পরে বাধ্য হয়ে ৮০০ টাকা দেই।


তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্ল্যা এলাকার এরশাদ নামের এক রোগীর ছোট ভাই বলেন, আমার বড় ভাই আব্দুর রহমান গুরুত্বর অসুস্থ্য হলে তাকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাই। এরপর ড্রাইভার আমাদের কাছে ১ হাজার ৯০০ টাকা ভাড়া আদায় করেন।


ধামশ্রেনী ইউনিয়নের হাসান আলী নামের এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, আমার এক ভাই ট্রলিতে দূর্ঘটনার শিকার হন। তাকে উলিপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে কুড়িগ্রামে নেয়ার জন্য বলেন। এসময় আমি অ্যাম্বুলেন্স চালককে ৪০০ টাকা ভাড়া দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। পরে বাধ্য হয়ে অসুস্থ্য রোগীকে অটোযোগে কুড়িগ্রামে নিয়ে যাই।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের চালক বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মমিনুল ইসলাম আমাদের রোগী দিলে তাকে কুড়িগ্রামের জন্য ১০০ টাকা ও রংপুরের জন্য ২০০ টাকা করে প্রতি ভাড়ার জন্য কমিশন দিতে হয়।


এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মমিনুল ইসলাম মন্টু বলেন, আমাদের তেলের পারমিশন উলিপুর থেকে নেই। আমার হিসাব হয় কুড়িগ্রাম থেকে। তাই কুড়িগ্রামের ভাড়া ৭০০ টাকা ও রংপুরের ভাড়া ১ হাজার ৮০০ নেয়া হয়। কমিশন ও জোরপূর্বক টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন অ্যাম্বুলেন্স চালক মমিনুল।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেশকাতুল আবেদ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/সেলিম/জামাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com