নওগাঁয় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে যাত্রী ও শ্রমিকরা
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:৪৭
নওগাঁয় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে যাত্রী ও শ্রমিকরা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মহাসড়কে ত্রি-হুইলার বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালীন পরিবহন ধর্মঘট।


বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) থেকে জেলার বাসস্টান্ড গুলো থেকে অভ্যন্তীরন ও দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এতে গন্তব্যে যেতে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। শনিবার (৩) ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাস মালিকদের এ ধর্মঘট বলছেন বিএনপি নেতা ও পরিবহন শ্রমিকরা। তবে এই ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোন সম্পর্ক নেই বলছেন পরিবহন নেতারা।


সরেজমিন শহরের ঢাকা বাসস্টান্ড ও বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ করে দূর-পাল্লা ও অভ্যন্তীরন রুটে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তীতে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। অভ্যান্তরীন বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা ও ইজিবাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে দুর পাল্লার বাস না চলায় ঢাকাগামী যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বাসস্টান্ডে বসে অনেকে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। পরিবহন শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন গাড়ী ধোঁয়া মুছার কাজে।


শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্টান্ডে এসেছেন ঢাকাগামী যাত্রী মরিয়ম আক্তার। তিনি বলেন, ১২ বছর ও ১ বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরে থাকি। সেখানে একটি গার্মেন্টস-এ শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। হঠাৎ বাবা অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় রাণীনগরে গ্রামের বাড়িতে দেখতে এসেছিলাম। এদিকে বড় মেয়ের ৭ম শ্রেণীর পরীক্ষা শুরু শনিবার। এখন যদি গাজীপুর না পৌঁছাতে পারি মেয়ে আর পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না।


ঢাকা বাসস্টান্ডে আসা আরেক যাত্রী বাবু হোসেন বলেন, ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করি। জরুরী কাজে ছুটি নিয়ে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর গ্রামের বাড়িতে এসেছিলাম। শনিবার ঢাকায় অফিসে গিয়ে যোগদান করতে হবে। এখন বাসস্টান্ডে এসে দেখছি সব বাস বন্ধ। সময়মতো অফিসে না পৌঁছালে চাকুরীচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন তিনি।



শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ডে আসা যাত্রী মোবাশ্বের হোসেন বলেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ালেখা করি। বাসা থেকে সামান্য পরিমাণ টাকা দেয় হাত খরচের জন্য। জরুরী কাজে বাড়িতে যাবো। এজন্য মহাদেবপুরের বাসে উঠার জন্য এসেছিলাম। বাস বন্ধ থাকায় সিএনজিতে যেতে হবে। সিএনজি ভাড়া ৬০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা দাবী করছে চালকরা। সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেলো।


নওগাঁ-সাপাহার রুটে চলা নওগাঁ-ট্রাভেলস এর বাস চালকের সহকারী কেটু সরদার বলেন, মালিক ও পরিবহন শ্রমিক নেতারা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই ধর্মঘট করছেন। বিএনপির সমাবেশ শেষ হলেই আবার বাস চালু করে দিবে। মাঝখানে আমরা শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বাস চললে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ টাকা মজুরী পেতাম। এখন জমানো টাকা শেষ করে খাবার খেতে হচ্ছে।


নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি সহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন, চালকের সঙ্গে কেন বাস মালিকের বিরুদ্ধে মামলা, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করাসহ ৯ দফা দাবিতে সরকারকে একটা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। ২৬ নভেম্বর নাটোর জেলায় রাজশাহী বিভাগীয় মোটর মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আমরা দুই মাস আগে থেকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে আসছি। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট চলছে। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের সঙ্গে এ ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই।


নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শফিউল আজম রানা বলেন, সারাদেশে যেখানেই বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ, সেখানেই পরিবহন ধর্মঘট করাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমাদের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের আগেও এমনটি হবে এটা আগে থেকেই জানা ছিল। এজন্য পূর্ব প্রস্ততি নিয়ে জেলা বিএনপির সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা আগেই রাজশাহীতে পৌঁছে গেছে। জেলার ১১টি উপজেলা থেকে ইতিমধ্যে ২০ হাজার নেতাকর্মী রাজশাহীতে পৌঁছেছে। সমাবেশে কমপক্ষে জেলার ৩০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নিতে আসবেন বলেও জানান তিনি।


বিবার্তা/আব্দুর রাকিব/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com