হিলি সীমান্তে দুই দেশের দর্শনার্থীদের ভিড়
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৩
হিলি সীমান্তে দুই দেশের দর্শনার্থীদের ভিড়
হিলি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) মহানবমী। এ উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের দুই পাশে দুই দেশের দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ এসেছেন ভারতীয় প্রতিমা দেখতে, কেউবা বাংলাদেশি প্রতিমা দেখতে।


অনেকে দীর্ঘদিন দেখা না হওয়া ওপারের স্বজনদের দেখতে এসেছেন। যদিও দেখা করার সুযোগ নেই, তারপরও দূর থেকে হাত নেড়ে কথা বলে ফিরে যাচ্ছেন তারা। দুই দেশের দর্শনার্থীদের পদচারণায় মিলন মেলায় পরিনত হয়ে যায় হিলি সীমান্তের জিরো পয়েন্ট চেকপোস্ট এলাকা।


প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় প্রতিদিন সকাল-বিকাল ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিলি সীমান্তে আসেন দর্শনার্থীরা। বিজিবি-বিএসএফের অনুমতি না মেলায় সীমান্তে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ফিরছেন তারা। প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন হিলি সীমান্তে।


বাংলাদেশে বসবাসরত স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে হিলি সীমান্তে আসেন ভারতীয় নাগরিক বাসন্তী রানী।


তিনি বলেন, ভাই ভাতিজা, দাদা-বউদি সবাই আমাদের সঙ্গে দেখা করতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে এসেছে। আমাদের বাড়ি বালুরঘাটের কুচিলায়। ১৫ বছর ধরে তাদের সঙ্গে সেভাবে দেখা হয়নি। পূজার সময় সীমান্তে নাকি দেখা করতে দেয়। এজন্য আজ এসেছি। বিএসএফ ও বিজিবিকে অনেক অনুরোধের পর তাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি। এতদিন পর দেখা হয়ে খুব ভালো লাগছে।


হিলি সীমান্তে আসা দর্শনার্থী অনুপ কুমার বসাক জানান, আগে শুনেছিলাম সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ মেলে। এ জন্য হিলি সীমান্তে এসেছি। কিন্তু বিজিবি আমাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় তো যেতেই দিচ্ছে না। তাই সীমান্তের পাশে রেললাইনের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে চোখের দেখা দেখে এবং সবাই মিলে ছবি তুলে ফিরে যাচ্ছি।


হিলি সীমান্তে ভারতীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা দীপংকর শাহা রিপন বলেন, সীমান্তে এসেছিলাম ভারতীয় প্রতিমা দেখতে এবং ভারতে থাকা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু এখানে তো ওইরকম কোনও সুযোগ নেই। ওপারে যাওয়ার ও তেমন কোনও সুযোগ নেই। সীমান্তের ভারত অংশে অনেক মানুষ এসেছে, তারা দাঁড়িয়ে এপাশে থাকা স্বজনদের দেখছে, ইশারায় কথা বলছে।


তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, পূজার সময় অন্তত একটা দিন অথবা কিছু সময়ের জন্য হলেও সীমান্ত খুলে দেয়া হোক। সীমান্তের ওপারে আমাদের অনেক স্বজন রয়েছে। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখা হয়নি। একটু সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে দেখা করে মন খুলে কথা বলতে পারতাম। এটা যদি একটা শৃংখলার ভেতরে বা কোনও সেক্টরের ভেতরে হতো তাহলেও অসুবিধা হতো না।


বিজিবির হিলি আইসিপি চেকপোস্ট ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার ইয়াসিন আলী জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ হিলি সীমান্তে আসছেন। কেউ ভারতে তাদের স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, আবার কেউবা সীমান্তের শূন্য রেখা ঘুরতে আসছেন। তবে অনুমতি না থাকায় কাউকে শূন্য রেখায় যেতে দেয়া হচ্ছে না। তারপরও মানবিক দিক বিবেচনা করে দু-একজনকে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।


অনেকেই সীমান্তের শূন্যরেখার পাশে রেললাইনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সীমান্ত পরিদর্শন ও স্বজনদের দেখছেন।


বিবার্তা/রব্বানী/ইমরান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com