সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধি, তীব্র নদীভাঙন
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৫
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধি, তীব্র নদীভাঙন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। গত তিনদিনে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুরে ৬৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিলীন হচ্ছে বাড়ী-কৃষি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সদর উপজেলার পাঁচ ঠাকুরী এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বন্যার শুরু থেকেই এ অঞ্চলে নদীভাঙন চলছে। বিশেষ করে সিমলা এলাকায় পাউবোর স্পার বাঁধটি নদীতে বিলীন হওয়ার ফলে নদীভাঙন অব্যাহত ছিল। গত কয়েকদিন ধরে দ্রুতগতিতে যমুনায় পানি বাড়ার ফলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে।


স্থানীয়রা বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই ভাঙনের ব্যাপকতা বেড়েছে। শনিবার সকালে বাঁধের মাথায় থাকা জামে মসজিদটিও সম্পূর্ণরূপে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।


তারা জানান, এর আগে সিমলা ক্রসবারটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পরো এ এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। এর আগে ২৪ ও ২৫ জুলাই ভয়াবহ ভাঙনে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত মানুষগুলো এখনো বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকাতে বালিভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করে আসছে। কিন্তু কোন কিছুতেই ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। ভাঙনের মুখে থাকা মানুষগুলো ধীরে ধীরে তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।


পাউবো সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই যমুনায় তীব্রগতিতে পানি বাড়ছে। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজিপুর পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, সিমলা স্পার দেবে যাওয়ার পর থেকেই এ অঞ্চলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানি হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি সময় ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। আমরা জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছি। পাঁচ ঠাকুরী জামে মসজিদটি রক্ষায় আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ এলাকায় নদীর গভীরতা এতো বেশি যে কোন কিছুতেই ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। এ কারণে মসজিদটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করে এ অঞ্চলের মানুষকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।


তিনি আারো বলেন, গত তিন/চারদিন ধরে দ্রুতগতিতে পানি বাড়লেও শনিবার থেকে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। রবিবার থেকে পানি কমতে পারে।


বিবার্তা/এনকে

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com