প্রবাসী আজিজের বদলে অন্য আজিজ জেলে!
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২১
প্রবাসী আজিজের বদলে অন্য আজিজ জেলে!
যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

আবদুল আজিজ কাতারে তিন বছর ধরে অবস্থান করছেন|দেশে তিনি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টুভুক্ত আসামি|গ্রাম, বাবার নাম ও নিজের নামের সঙ্গে মিল থাকায় পুলিশ আরেক আজিজকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে|ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামে।


আসামি আব্দুল আজিজের বর্তমান বয়স ৪০ বছর হলেও গ্রেফতার আব্দুল আজিজের বয়স ৬১ বছর।


এদিকে আসামি আব্দুল আজিজের পিতা আহাদ আলী কারিগর জীবিত থাকলেও গ্রেফতার আব্দুল আজিজের পিতা মৃত। আসামি আজিজের মায়ের নাম মর্জিনা বেগম হলেও গ্রেফতার আজিজের মায়ের নাম মৃত খাদিজা।



চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, ২০০৯ সালের মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে নাম, বাবার নাম একই হওয়ায় আবদুল আজিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তারা কিন্তু বলেনি, এই মামলার আসামি নয়। তার নামে অন্য মামলা আছে। সেজন্য তারাও মনে করেছে ওয়ারেন্ট হতে পারে। আদালতে হাজির করলেও বলেনি। পরবর্তীতে আদালতের নথিতে জানা যায় এই আবদুল আজিজ, সেই আসামি নয়। আমরা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেবো ‘ভুল হয়েছে’।


তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট নাম ঠিকানা দেখেই আসামি গ্রেফতার করা হয়। যাচাই করার সুযোগ থাকে না।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে লোহিত মোহন সাহার ছেলে নবকুমার সাহার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর নবকুমার সাহা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। বাঘারপাড়া থানায় যার নম্বর ছিল ১২। তারিখ ২৩/১০/০৯ ইং। মামলাটি আদালতে গেলে নম্বর হয় জিআর-১২৭/০৯। মামলা দায়েরের পর ২০১১ সালে ৩০ মার্চ তৎকালীন বাঘারপাড়া থানায় কর্মরত এসআই গাজী আব্দুল কাইয়ুম লুটতরাজ ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩(ক) ধারায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ৯ আসামির মধ্যে ৭ নম্বর আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি (মাঠপাড়া) গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে (জাতীয় আইডি কার্ডে আছে আজিজুর রহমান)।



চার্জশিটে যার বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর। মামলায় ৮ ও ৯ নং আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার টেঙ্গুরপুর গ্রামের তসলিমের ছেলে হাশেম আলী ও নুর ইসলামের ছেলে শাহাজানকে। চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি বদলি করে যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে মামলাটির নম্বর হয় এসটিসি ৬১/১২। আদালত পলাতক আসামি আব্দুল আজিজসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশ ২০১২ সালের ১ মার্চ তারিখে আব্দুল আজিজকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালত আব্দুল আজিজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আব্দুল আজিজ ২০১২ সালের ৫ মার্চ তারিখে জামিনে মুক্তি পান। আসামি আব্দুল আজিজের আইনজীবী ছিলেন যশোর বারের সাবেক সম্পাদক শাহানুর আলম শাহিন। সেই থেকে আহাদ আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেন। তবে তিন বছর আগে আসামি আব্দুল আজিজ কাতারে চলে যান। প্রবাসে চলে যাওয়ায় আসামি আব্দুল আজিজ আদালতে গরহাজির থাকেন। ফলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আবারো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানার ভিত্তিতে ৯ ডিসেম্বর রাতে চৌগাছা থানার এএসআই আজাদের নেতৃত্বে পুলিশ প্রকৃত আসামি আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে বাদ দিয়ে মৃত আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে (একই গ্রামের দফাদারপাড়ার বাসিন্দা) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।


জজ আদালত শীতকালীন অবকাশে থাকায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আব্দুল আজিজকে তোলা হলে তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে নিরপরাধ আব্দুল আজিজ কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।


চৌগাছা থানার এএসআই আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, আসামির নাম ঠিকানা সঠিক থাকার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আব্দুল আজিজের পরিবার থেকেও জানানো হয়নি যে তিনি মামালার আসামি না।


বিবার্তা/তুহিন/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com