বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৮
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ইসলামপুরে এসএমএআর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।


অভিযোগে জানা যায়, ইসলামপুর পৌর শহরের এসএমএআর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য সম্প্রতি ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এসএমএআর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদুজ্জামানের অভিযোগ, এ কাজের ব্যাপারে তিনি বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে কোনো মিটিং বা রেজুলেশনও করেননি।


কাজের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকাকে কমিটির সভা আহবান করতে বললেও প্রধান শিক্ষিকা সভা না করে মনগড়াভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের এ উন্নয়ন কাজে আমার স্বাক্ষর ও সদস্য মারফুজার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া রেজুলেশন বানিয়ে মেসার্স আমজাদ ফার্নিচার মাঠ নামে ৯৬ হাজার ৯০০ টাকা, ভাই ভাই মেশিনারীজ অ্যান্ড হার্ডওয়ার স্টোর থেকে ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা, মেসার্স সবুজ এন্টারপ্রাইজ ৬ হাজার ৭৫০ টাকা, মেসার্স উজ্জল এন্টারপ্রাইজ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।


টলি মালিক মো. রাশে মিয়া নামে- ৪ হাজার ৯৫০ টাকা, রাজ মিস্ত্রি জালাল মিয়া নামে ৪ হাজার, রংমিস্ত্রি আলাল মিয়া নামে ১৩ হাজার ও ট্রাক্টর মালিক আজিজ মিয়া নামে ৩১ হাজার টাকার নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে কাজ দেখিয়ে অগ্রিম কাজের বিপরীতে অতিরিক্ত ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে এ বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে দায়সারা ভাবে কিছু কাজ করে সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করছেন। এসব মেরামত কাজের ভুয়া ভাউচারের কাজের মান যাচাই না করে পারসেন্টন্স ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে স্বাক্ষর করে বিল পাশ করে দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।


অভিযোগ উঠেছে, একইভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসলামপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে মেরামতের টাকার অগ্রিম ভাউচার বানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধানদের যোগসাজশে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের মেরামতের কাজের লাখ লাখ টাকা লুটপাট করছেন।


বৃহস্পতিবার এসএমএআর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত কাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ হাজার টাকা ভাউচার দেখিয়ে যে ১০টি কাঠের ব্রেঞ্চ বানানো হয়েছে তা অত্যান্ত নিম্নমানের। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জনৈক কাঠ মিস্ত্রি জানিয়েছেন ১০টি ব্রেঞ্চ তৈরি করতে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা খরচ পড়তে পারে। একইভাবে ভাউচারে অতিরিক্ত টাকা তুলে একটি স্টিলের ফাইল ক্যাবিনেট ও আলমারি বানানোসহ মেরামতের অন্যান্য খাত দেখানো হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে মেরামতের নামে অতিরিক্ত টাকার ভাউচারের আত্মসাতের সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।


এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা শিরিনা পারভীন উপরোক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করিনি। গত ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদুজ্জামান নবাব আবু বক্কর এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে বলে প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত প্রকল্প কাজের জন্য টাকা আনতে অনেক খরচ হয়েছে। তাই তারা আমার কাছে টাকা দাবী করে। এ টাকা না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার করছে।


এব্যাপারে বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালীন সময়ে ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সাথে অফিসে কথা বলেতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/ওসমান/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com