ভোলায় খাদ্য অধিদফতরে টেন্ডারে কোটি টাকার দুর্নীতি
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ২২:১২
ভোলায় খাদ্য অধিদফতরে টেন্ডারে কোটি টাকার দুর্নীতি
ভোলা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ভোলা জেলা খাদ্য অধিদফতরের পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্রে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র দাখিলের পূর্বে ও পরে সরকাফা যেই সকল নীতিমালা মানার কথা রয়েছে তার কোনোটাই মিল নেই। সিডিউল কাটার মানি রিসিট কেটেও ঠিকাদারদের সিডিউল ফরম দেয়া হয়নি।


জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ৫নংওয়ার্ড ভোলা পৌর কাউন্সিলর এফরানুর রহমান মিথুন মোল্লার একক খাম খেয়ালি ও দখলদারি সিন্ডিকেট করে এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী খাদ্য পরিবহন ঠিকাদাররা।


জানা যায় , গত ২৫ জুলাই খাদ্য অধিদফতরে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডার আহবান করেন ভোলা জেলা খাদ্য অধিদফতর। জেলায় মোট ২৮টি লাইসেন্সের মধ্যে দরপত্র ড্রপিং হয়। এরমধ্যে ভোলা সদর উপজেলা খাদ্য অধিদফতরে মাত্র ৪ লাইসেন্সে দরপত্র ড্রপিং করা হয় এরমধ্যে কাউন্সিলর মিথুন মোল্লার লাইসেন্স রয়েছে। তাদের জোর ও ক্ষমতার দাপটে অন্য কোনো লাইসেন্স বা ঠিকাদারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন ভোলার খাদ্য কর্মকর্তা।


ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ টেন্ডার ফরমের জন্য ট্রেজারি চালান ফরম কাটার পরেও খাদ্য কর্মকর্তার অফিস টেন্ডার ফরম দিতে অস্বিকৃতি জানিয়েছেন। খাদ্য কর্মকর্তা কয়েক লাখ টাকার উৎকোচের মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন বলে তারা দাবি করছেন তারা।


সূত্র আরো জানায়, ভোলা সদর খাদ্য অধিদফতর ১৭-১৮ এবং ১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে মের্সাস ফারিয়া ট্রেডার্সকে ৫ টাকা ১৯ পয়সা দরে ২ বছরের জন্য হেন্ডেলিং বা পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ দেয়। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মত। কিন্তু ১৯-২০ এবং ২০-২১ অর্থ বছরের জন্য মের্সাস হক এন্ড ব্রাদাসকে ১৯ টাকা ৭০ পয়সা দরে ঠিকাদার নিয়োগ করেন ভোলা খাদ্য অধিদফতর। গত অর্থবছরের তুলনায় এই অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হবে।


দাবি করছেন- পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ওয়েবসাইটের তথ্য, আঞ্চলিক খাদ্য দফতরে টেন্ডার দাখিলের সুযোগ না রাখা, উপজেলা ও খাদ্যগুদামে কোনো টেন্ডার নোটিশ না রাখা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কোনো টেন্ডার বক্স না রাখা এবং পুনরায় কোন রি-টেন্ডারের সুযোগ না রাখা সহ বিজ্ঞপ্তির পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ।


তাদের মধ্যে মের্সাস ফারিয়া এন্টারপ্রাইজের সত্তাধীকারী মোঃ ফারুক বলেন, খাদ্য কর্মকর্তা তাহসীনুল হক জেলা খাদ্য অফিসে সিন্ডিকেট করে সরকারি টাকা লুটপাট করার জন্যই আমাদের ট্রেজারি চালান থাকার পরেও টেন্ডার ফরম দেয়া হয় নাই। শুধু নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারদের দিয়ে লোক দেখানো টেন্ডার দাখিল করেছেন। আমরা এই অনিয়মের জন্য বিচারের বিভাগের কাছে যাবো।


এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তাহসীনুল হকের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছেন তা ভিত্তিহীন। দরপত্র আহবান সবার জন্য উম্মুক্ত ছিল।


এই দরপত্রে সরকারের কয়েক কোটি টাকা ব্যয় বেশি হচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে মূল্যস্ফীতি বেশি হওয়ার কারণে আমরা জমাকৃত দরপত্রের উপর ভিত্তি করেই যাচাই বাচাই প্রক্রিয়ার জন্য বিভাগীয় খাদ্য কর্মকতার বরাবরে সুপারিশ করেছি। সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেয়া হবে।


বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রেজা মোঃ মহসীনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ যদি আমারা বরাবরে কোনো অভিযোগ দাখিল করে তাহলে যাচাই বাছাই করে যদি কোনো অসংগতি প্রকাশ পায় তাহলে রি-টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা আবার দরপত্র আহবান করবো। তাছাড়া কোনো অনিয়ম থাকলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।


বিবার্তা/শাহীন/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]et

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com