ফজলি আম আসলে কার? মিলল জবাব!
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২২, ০৮:১১
ফজলি আম আসলে কার? মিলল জবাব!
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বেশ কয়েকদিন ধরেই প্রশ্ন ঘুরছে— ফজলি, তুমি কার? মানে, ফজলি আম কার নিয়ে বিতর্ক-বিবাদ। লড়াই চলছিল দুই জেলার মধ্যে— রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ফজলি আমের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পাওয়া নিয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলো। এতে ফজলি আমের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বত্বে ভাগ বসাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ।


গত ২৪ মে, মঙ্গলবার সকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) পূর্বনির্ধারিত শুনানি শেষে বিকেল ৪টায় এ সিদ্ধান্ত জানায়। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিষয়ক সংস্থা প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডাব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে অধিদপ্তর কাজ করে। পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) জনেন্দ্র নাথ সরকার নতুন এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।


এখন থেকে ফজলি আম পরিচিত হবে ‘রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম’ হিসেবে। এর মাধ্যমে ফজলি আমের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) স্বত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান হলো। ফজলি আমকে এবার ‘রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আম’ হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে শুনানি শেষে এই তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার। আগামী রবিবার (২৯ মে) অনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে।


এর আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ফজলি আম রাজশাহীর বলে স্বীকৃতি পায়। এই স্বীকৃতির জন্য ২০১৭ সালের ৯ মার্চ আবেদন করা হয়েছিল। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্বীকৃতি মিলেছিল। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন বা ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ১০ নম্বর জার্নালে (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন-২০১৩-এর ১২ ধারা অনুসারে তা প্রকাশ করে। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পক্ষ থেকে ফজলিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দাবি করে এর বিরোধিতা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির আয়োজন করে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর।


এর আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর ফজলি আমকে রাজশাহীর জিআই পণ্য হিসেব স্বীকৃতি দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর। এতে আপত্তি জানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশন। এ নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় দুই পক্ষের শুনানি হয়। শুনানিতে অংশ নেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন। তিনি জানান, তারা তিনজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের ছয়জন ছিলেন। সকালে শুনানিতে দুই পক্ষই নিজেদের পক্ষে দালিলিক প্রমাণপত্র উপস্থাপন করে। বিকেলে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তিনি আরো জানান, রাজশাহী বিভাগের নাম বলে জিআইয়ে ‘রাজশাহী’ শব্দটি আগে থাকবে। তারপর একটি হাইফেন দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাম থাকবে। এটি ‘রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম’ হিসেবে জিআই পাবে।


রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন বলেন, ফজলি আম ঘিরে দুটি জেলার যে দাবি ছিল, সেটির সুরাহা করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতরের রেজিস্ট্রারের অধিদফতরে শুনানি হয়।সবদিক বিবেচনায় ফজলিকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আম হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে অধিদফতর।


এই রায়ে কোনও পক্ষের আপত্তি থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতরের শরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনও পক্ষের আপত্তি না থাকলে দুই মাস পর ফজলি আমের নতুন জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন বা ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) গেজেটে প্রকাশিত হবে।


মঙ্গলবার রাজশাহীর পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম। এদিন বেলা ১১টায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতরের রেজিস্ট্রারের সভাপতিত্বে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রায় ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, আগামী রবিবার (২৯ মে) এসংক্রান্ত সনদ ইস্যু করা হবে।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com