বাঁকা বন; রহস্য যখন
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২২, ১০:২৭
বাঁকা বন; রহস্য যখন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রথম দর্শনে মনে হবে জাদুর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। রূপকথার আশ্চর্য এক বন। জাদুর রাজ্য নাই হোক, রহস্যের বন তো অবশ্যই। কারণ, গাছ শরীর বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তাও আবার এক বনের সব গাছ, এমন কি সচরাচর বা কখনো হতে দেখেছেন? এমনটাই সত্যি হয়ে আছে পোল্যান্ডের গ্রাইফিনোতে।


১৯৩০ সালে লাগানো প্রায় ৪০০টি পাইন গাছ মাটি থেকেই শরীর বাঁকা করে দাঁড়িয়ে আছে। সবগুলো গাছ আবার নির্দিষ্টদিকে বাঁকানো। বিচিত্র এই পাইন গাছগুলোর জন্য এই বনকে বাঁকা বন বা বাঁকানো জঙ্গল বলা হয়।


বাঁকানো জঙ্গলটিতে সব মিলিয়ে পাইনগাছ আছে ৪০০টির মতো। আর সব গাছই মাটির সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণ তৈরি করে বেঁকে আছে। তবে মাটি থেকে কিছু ওপরে ওঠার পরই আবার স্বাভাবিকভাবে সোজা হয়েই বেড়ে উঠেছে গাছগুলো। অনেকটাই ইংরেজি বর্ণ জে-এর মতো করে। আর বেশির ভাগ গাছই বাঁকানো দক্ষিণমুখী করে।


এই বাঁকানো জঙ্গলটি আসলে মস্ত এক অরণ্যেরই অংশ। মজার ব্যাপার হলো, জঙ্গলের বাকি অংশের পাইনগাছগুলো কিন্তু একদমই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হল, বনের এই প্রান্তের গাছগুলো বাঁকা হওয়ার পেছনে কারণ কী। একেক গবেষক ব্যাখ্যা দিয়েছেন একেকভাবে। ধারণা করা হয়, গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল ১৯৩০ সালে। গাছগুলোর বয়স যখন আট থেকে ১০ বছর, তখন যে কারণেই হোক বেঁকে যায়। অনেকের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই জায়গার ওপর দিয়ে ভারী ট্যাংক বা অন্যান্য যানবাহন চলাচলের ফলেই বেঁকে যায় গাছগুলো। কেউ বলছেন, এই এলাকার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গাছগুলোর এই দশা। অনেকেই তো আবার গাছগুলোর অদ্ভুত আকৃতির পেছনে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের আগন্তুকদের কারসাজিও দেখছেন।


তবে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যাটি হল, বাঁকা বনের গাছগুলোর এই আকারের পেছনে হাত আছে মানুষেরই। এখানকার অধিবাসীরাই কৃত্রিমভাবে গাছগুলোকে এভাবে তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে তারা এগুলো দিয়ে সহজেই নৌকা বা ঘরের আসবাব বানাতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করায় এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় তাদের। তাই আর সম্ভবত গাছগুলো কাটা হয়নি। ফলে এখনো রহস্যই রয়ে গেছে পোল্যান্ডের এই বাঁকানো গাছের জঙ্গল।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com