পাথরও চলে, অবাক বিস্ময়!
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ১০:০৬
পাথরও চলে, অবাক বিস্ময়!
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

রহস্যাবৃত চলমান পাথর 'ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া'। আবার এটিকে বলা হয় 'চলমান পাথর' উপত্যকা। এই উপত্যকার পাথরগুলো দেখলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে নিজে নিজেই স্থান পরিবর্তন করে। পাথরগুলিকে চলমান অবস্থায় কেউ কখনো দেখেনি, তবুও পাতলা কাদার স্তরে থেকে যাওয়া ছাপ থেকে পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তন নিশ্চিত হওয়া যায়।


চলমান পাথর বলে বিবেচ্য কিছু কিছু পাথরের ওজন কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত হয়, এই ভারী ভারী পাথরগুলো কীভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়, সে রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি। পাথরগুলোর কোনো কোনোটি কয়েক বছর ধরে চলে। সরল পথে, কখনো বাঁকানো পথে পরিভ্রমণ করে। এমনও হয় দুটি পাথর সমান্তরালে কিছুদূর পর ঠিক বিপরীত দিকে তাদের দিক পরিবর্তন করে।



পাথরের ট্রেইলে রেখে যাওয়া সূক্ষ্ম ছাপ থেকে বোঝা যায় পাথরগুলো এমন সময়ে স্থান পরিবর্তন করে যখন উপত্যকায় পাতলা কাদামাটির আস্তরণ থাকে। মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর দ্বারা পাথরের স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আশেপাশের কাদায় তাদের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া, ডেথ ভ্যালিতে এমন বিশ্বয়কর ঘটনার রহস্য উম্মোচন হয়নি এখনও।



ক্যালিফোর্নিয়ার রেসট্র্যাক প্লায়া, ডেথ ভ্যালিতে এমন বিশ্বয়কর ঘটনাটি বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে ১৯৪৮ সালে। ১৯৫৫ সালে এম. স্ট্যানলী প্রথমবারের মতো মত প্রকাশ করেন যে, রেস প্রায়া, ডেথ ভ্যালিতে বন্যার পর সৃষ্ট বরফের কারণে পাথর স্থান পরিবর্তন করে। বছরের কোনো কোনো সময় প্রায়া ভ্যালি ৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়, রাতে তাপমাত্রা হীমাঙ্কের নিচে নেমে আসে। ১৯৭৬ সালে রবার্ট শার্প এবং ডুইট ক্যারে, এম স্ট্যানলী'র আইস-সিট মতবাদে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা পাথরের চলার পথের ধরন ও জ্যামিতিক বিশ্লেষণ করে একাধিক ট্র্যাকের মাঝে সম্পর্ক দেখতে পান যেটি বরফ খণ্ডের দ্বারা ঘটা সম্ভব নয়। তারা মত প্রকাশ করেন যে, বছরের নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট আবহাওয়ায় বাতাসের কারণে পাথরগুলো সরে যায় যেটি প্রতি বছর বা দুই বছর অন্তর ঘটে থাকে। ১৯৯৫ সালে জন বি. রেইড এবং হ্যাম্পশায়'র কলেজের ভূ-তাত্ত্বিকগণ শার্প-ক্যারে মতবাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। ১৯৮০'র দশকের শেষ হতে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তারা সাতটি ড্যাথ ভ্যালি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে স্ট্যানলির আইস-সিট মতবাদকে সমর্থন করেন।


আধুনিক জিপিএস ট্র্যাকিংনির্ভর স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তনের সময় গতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও তাদের স্থান পরিবর্তনের রহস্য এখনো আবৃতই রয়ে গেছে। বিশেষ করে আপস্ট্রিমে পাথরের স্থান পরিবর্তনের সঠিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com