কাতার বিশ্বকাপে যা প্রথম
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:৫৫
কাতার বিশ্বকাপে যা প্রথম
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ফুটবল বিশ্বকাপে যা আগে ঘটেনি সেসব ঘটল কাতার আসরে। ফুটবলের ২২তম আসরে এমন কিছু অঘটন ঘটেছে, যা ফুটবল বিশ্বকাপে আগে ঘটেনি। এবার কিছু ঘটনা প্রথমই ঘটল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবলের মহারণ শুরু হয়েছে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে।


যা ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথম। এর আগে বছরের মাঝমাঝি সময়ে এই আসর জমে উঠতো। ১০০ বছরের মধ্যে যা এবার প্রথম। যেখানে একটি শহরকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্টেডিয়াম। তাই অনকে খেলোয়াড় এবং দলের জন্য বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে প্রথম তো হবেই। কারণ খেলোয়াড়দের রেকর্ড ভাঙার কীর্তিও প্রথম মাঠেই ঘটে। একুশ শতকে জন্ম নেয়া প্রথম খেলোয়ার এবারের আসরে গোল করেছেন।


বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম সোমবার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ইরানের বিরুদ্ধে ৩৫ তম মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথম একুশ শতকে জন্ম নেয়া এই মিডফিল্ডার গোল করেছিলেন। তাকে প্রজন্মের প্রতিভা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।


জুড বেলিংহাম আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ মঞ্চে তার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। এই মিডফিল্ডার ভেবেছিলেন লুক শ'র ক্রসে লেগে ডিফেন্ডার হোসেইন হোসেইনির জন্য তার লক্ষ্য মিস হবে। ১৯ বছর বয়সী মাঝমাঠের এই তারকা ফুটবলার তার জাত চিনিয়েছেন। যেখানে ফুটে উঠেছে গতি এবং সৃজনশীলতা। ইংরেজ দর্শকরা ‘হে জুড’গেয়ে বেলিংহামের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন।


আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সৌদি আরবের জয়। টানা ৩৬ ম্যাচে যাদের জয় ছিল, তারাই হেরে বসল। যা প্রথম কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে। সময় আসে, মানুষ আসে ফুটবল বিশ্বকাপে অঘটন ঘটানোর জন্য আসে সালেম আল দাওসারিরা। চার বছর আগে, রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অ্যারেনায় এক বিরল রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে, তিনি মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তা ইনজুরি অবস্থায় দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে জান। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফেভারিট আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরেকটি জয়। এই স্ট্রাইকার সেই ম্যাচে বীরত্বের পুনরাবৃত্তি করেছেন। যা তাকে বিশ্বকাপে ব্যাক-টু-ব্যাক জয় দেয়ার জন্য তৈরী করেছে সৌদি আরব। কাতার বিশ্বকাপে বড় অঘটনের সাক্ষী সৌদি আরবের জয়।


লুকা মদ্রিচ প্রথম ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড় যিনি চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। পুরোনো ওয়াইনের মতই দাপুটে হয়ে উঠছেন লুকা মিদ্রিচ! এমন কি ৩৭ বছর বয়সেও দলের জন্য অপরিহার্য হয় পড়েছেন এই তারকা ফুটবলার। ২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার অভিষেক হয়েছিল। গেল বুধবার সে তার দেশকে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।


লুকা মদ্রিচই প্রথম যিনি তিন ভিন্ন দশকে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ফিফা বিশ্বকাপ প্রথম খেলোয়ড় হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, এই ছোট্ট ম্যাজিশিয়ান জানেন, মাঠে কৌশলগত সচেতনতা এবং সঠিকভাবে পাল্টা আক্রমণ খেলার গতি ঠিক রেখে কিভাবে বল পাশ করতে হয়। যাইহোক তার প্রাথমিক শক্তির জায়গা হলো আঁটসাঁট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধারণ পেরিফেরাল দৃষ্টি যার মাধ্যমে সে ওপেন ডিফেন্স স্লাইস করতে পারে।


রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপের লুকা মদ্রিচ একাই ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার বীরত্বের জন্য গোল্ডেন বল পেয়েছিলেন। লিওলেন মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আধিপত্যে ভাগ বসিয়ে ওই আসরে ব্যালন ডি'অরের মালিক হয়েছিলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাকার পর প্রথম মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে সম্মানজনক পুরস্কার জিতেছিলেন। কতার আসরে ক্রোয়েশিয়ার অভিনব সম্ভাবনা আছে। ভক্তরা তাকিয়ে আছেন মদ্রিচের পায়ের জাদুর দিকে।


কাতার বিশ্বকাপে স্পানিশের দলের খেলেছেন সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গাভি। কোস্টারিকার বিপক্ষে যখন মাঠে নামনে তখন বয়স ছিল ১৮ বছর ১১০দিন। ওই ম্যাচে গোল দিয়ে সর্বকনিষ্ঠ এই ফুটবলার রেকর্ড গড়েছিলেন। তার লক্ষ্য পিকাসোর পেইন্টিংয়ের থেকে কম ছিলনা। যার পুরোটাজুড়ে নান্দনিকতা।


আলভারো মোরাতা সাহায্য আর গাভির গোল খুবই চমৎকার ছিল। বার্সার এই মাঝমাঠের খেলোয়াড়ের বয়স কম হলেও তার পারফরম্যান্স একজন অভিজ্ঞ সৈনিকের চেয়ে কম নয়। বিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে নিজের মেলে ধরেছেন এই তরুণ। কোপা আমেরিকায় ২০২২ সালে তার অভিষেক হয়েছিল। তখন অনেই তাকে দেখে তাদের ভ্রু কুচকে ছিলেন। তবে বার্সার এই তারকা কোস্টারিকার বিপক্ষে গোল করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন।


পাঁচটি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন মেসি। লিওলেন মেসির পায়ের কারিকুরিতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ঘুমন্ত আর্জেন্টিনা জেগে উঠেছিল। শনিবার রাতে লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা চিরচেনারুপে ফিরেছে। ম্যাচের শেষ তিন মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে গোল করেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। মেসি আলাদা করার কারণ এটি। বিশ্বকাপের ৫টি আসরে এমন কাজের জন্য প্রথম হয়েছেন লিওলেন মেসি। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ও এমন কীর্তি গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই তারকা ফুটবলার। তখন তার বয়সছিল ১৮ বছর ৩৫৭দিন।


জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং এখন কাতারসহ চারটি মহাদেশের পাঁচটি দেশে সহায়তা করেছেন ছোট্ট এই ম্যাজিশিয়ান। এবারের আসর তার শেষ বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার হয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে কোয়াটার ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন মেসির দল। কিলিয়ান এমবাপে প্রথম খেলোয়াড় যিনি ২৪ বছর বয়সে ৮ গোল করেছেন। এমবাপে দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের করা রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। সর্বকনিষ্ঠ এই খেলোয়াড়ের বয়স ২৩ বছর ৩৪৯দিন। একাধিক বিশ্বকাপে ৪ গোল করা প্রথম ফরাসি ফুটবলার হয়ে উঠেন তিনি।


তিনি বলেছেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপে বুঁদ হয়ে আছি। এটি আমার স্বপ্নের প্রতিযোগিতা। আমি এই প্রতিযোগিতা ঘিরেই পুরো মৌসুমের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বিশ্বকাপ জেতার জন্য নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করেছি, নিজের জন্য আমি এটাকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, যদিও এটি এখনও অনেক দূরে।’ ‘একমাত্র লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপ জেতা, বাকি সব গৌণ।’ কোয়ার্টার-ফাইনালে আগামী ১০ ডিসেম্বর এমবাপে-জিরুদদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। মরুর বুকে কাতার বিশ্বকাপে এই অঘটনগুলো ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোকে।


সূত্র: লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল ডট কম।


বিবাতা/মাজহারুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com