চট্টগ্রামকে ৬ উইকেটে হারালো খুলনা
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৪৯
চট্টগ্রামকে ৬ উইকেটে হারালো খুলনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আসরের প্রথম দুই ম্যাচে হাসেনি মুশফিকুর রহিমের ব্যাট। তবু মিনিস্টার ঢাকার বিপক্ষে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করেছিল তার দল খুলনা টাইগার্স। কিন্তু চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে পরের ম্যাচে আর জিততে পারেনি তারা। ফলে এক জয় ও এক পরাজয়ে শেষ হয় ঢাকার প্রথম পর্ব।


শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম পর্বে রানে ফিরলেন মুশফিকু, জয়ে ফিরলো তার দলও। স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে খুলনা টাইগার্স। আগে ব্যাট করে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ছিল ১৪৩ রান। যা ৭ বল হাতে রেখেই টপকে গেছে মুশফিকের দল।


দলকে জয়ে ফেরানোর ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন খুলনার অধিনায়ক। চার নম্বরে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩০ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। যেখানে ছিল চারটি চারের সঙ্গে একটি ছয়ের মার। তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ৪৭ বলে ৫৮ রান করা ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারের হাতে।


চট্টগ্রামের করা ১৪৩ রানের জবাবে খুলনার শুরুটা খুব একটা আশা জাগানিয়া ছিল না। করোনামুক্ত হয়ে দলে ফেরা সৌম্য সরকার আউট হয়ে যান দ্বিতীয় ওভারেই। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আন্দ্রে ফ্লেচার ও রনি তালুকদার মিলে যোগ করেন ঠিক ৫০ রান। তবে রানের গতি তেমন বাড়েনি।


ইনিংসের অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ার আগে রনি করেন ১৮ বলে ১৭ রান। অপরপ্রান্তে ফ্লেচারও তুলনামূলক বেশি ডট খেলতে থাকায় দশ ওভার শেষে খুলনার সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৬৪ রান। পরের তিন ওভারে তাদের আরও চেপে ধরে চট্টগ্রাম। ফলে শেষ ৭ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬৬ রানে। এর মাঝেই ৪৩ বলে ফিফটি পূরণ করেন ফ্লেচার।


সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণের শুরু। রেজাউর রহমান রাজার করা ১৪তম ওভারে একটি করে চার-ছয়ের মারে ১৪ রান তুলে নেন মুশফিক। মেহেদি হাসান মিরাজের করা পরের ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান ফ্লেচার। তবে পরের বলে আবারও ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন ৫৮ রান করা ফ্লেচার।


ক্যারিবীয় ওপেনারের উইকেট হারালেও দমে যাননি মুশফিক। শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার সেকুগে প্রসন্নাকে নিয়ে মাত্র ৪.২ ওভারে ৪৫ রান যোগ করেন খুলনার অধিনায়ক। দলের জয়ের জন্য যখন বাকি ১ রান, তখন সাজঘরে ফেরেন ১৫ বলে ২৩ রান করা প্রসন্ন। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক মুশফিক।


এই ইনিংসের মাধ্যমে বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুটটাও নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন মুশফিক। তবে ম্যাচসেরার পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ৪৭ বলে ৫৮ রান করা ফ্লেচারকে।


এর আগে মিরপুরের মতো সাগরিকায়ও চট্টগ্রামকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করতে একদমই সময় নেননি এই ম্যাচেই প্রথম সুযোগ পাওয়া নাবিল সামাদ। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই চট্টগ্রামের ক্যারিবীয় ওপেনার কেনার লুইসকে ফিরিয়ে দেন এ বাঁহাতি স্পিনার।


ফুল লেন্থের ডেলিভারি মারবো না ঠেকাবো করতে করতে সোজা কভারে দাঁড়ানো ফরহাদ রেজার হাতে তুলে দেন ১ রান করা কেনার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামাল দেন আরেক ওপেনার উইল জ্যাকস ও তিন নম্বরে নামা আফিফ হোসেন ধ্রুব। এ দু’জনের কল্যাণে পাওয়ার প্লে'তে ৪৬ রান তুলে নেয় চট্টগ্রাম।


ইনিংসের নবম ওভারে আক্রমণে এসেই খেলার ধারার বিপরীতে জুটি ভাঙেন থিসারা পেরেরা। তার স্লোয়ার ডেলিভারে অফসাইডে খেলতে গিয়ে প্লেইড অন হন ২৩ বলে ২৮ রান করা উইল জ্যাকস। পরের ওভারেই সেকুগে প্রসন্নকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির রহমান।


মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম। তাদের বিপদ আরও বাড়ে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও অল্পেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরলে। শেখ মেহেদি হাসানের পরা করা ১৩তম ওভারে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে প্রসন্নার হাতে ক্যাচ দেন ১০ বল থেকে ৬ রান করা মিরাজ।


চট্টগ্রাম অধিনায়ককে আউট করে পকেট থেকে স্টিকজাতীয় একটি জিনিস বের করে ভিন্নরকম এক উদযাপন করেন শেখ মেহেদি। অপরপ্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে চট্টগ্রামের স্কোরবোর্ডটা ভদ্রস্থ রাখছিলেন আফিফ। প্রসন্নকে কাউ কর্নার দিয়ে কিংবা কামরুল রাব্বিকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে দমে না যাওয়ার আভাসই দিয়েছিলেন আফিফ।


মনে হচ্ছিল, এবারের আসরে প্রথম ফিফটি করেই ফেলবেন তিনি। কিন্তু তা করতে পারেননি। থিসারা পেরেরার স্লোয়ার কার্যকরী ভূমিকা রাখায় আরেক মিডিয়াম পেসার ফরহাদ রেজাকে ১৫তম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে আনেন মুশফিক। সাফল্য পেতে মাত্র তিন বল লাগে তার। স্লটে পাওয়া ডেলিভারি সোজা চালিয়েছিলেন আফিফ। কিন্তু লং অন বাউন্ডারিতে বেশ খানিকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ক্যাচে ৪৪ রান করা আফিফের বিদায়ঘণ্টা বাজান মেহেদি।


আফিফ আউট হওয়ার আগের ওভারে চট্টগ্রাম ইনিংসে বড় ধাক্কা লাগে আগের তিন ম্যাচে ঝড় তোলা বেনি হাওয়েলের উইকেটে। থিসারার স্লোয়ারে পরাস্ত হয়ে ফিরত ক্যাচ দেন হাওয়েল। সাজঘরে ফেরার আগে ৫ রান করতে সক্ষম হন তিনি। এরপর আরও একবার হতাশ করেন শামীম পাটোয়ারী। থিসারার তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে মাত্র ২ রান করেন শামীম।


দলীয় ১০২ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর ইনিংসের বাকি দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ নাইম ইসলাম। তার সঙ্গে দারুণ ব্যাট করেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও। এ দুজন মিলে নবম উইকেট জুটিতে মাত্র ১৪ বলে ২৭ রান যোগ করেন। একটি করে চার-ছয়ের মারে ৬ বলে ১২ রান করেন শরিফুল। নাইমের ব্যাট থেকে আসে দুই চার ও এক ছয়ের মারে ১৯ বলে ২৫ রান।


খুলনার পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন থিসারা। এছাড়া একটি করে উইকেট গেছে বাকি পাঁচ বোলার নাবিল, মেহেদি, ফরহাদ, প্রসন্না ও কামরুল রাব্বির ঝুলিতে।


বিবার্তা/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com