বান্দরবানে ৭ খাদ্যগুদামে টেন্ডার ছাড়াই চলছে লোড-আনলোডের কাজ
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:২৮
বান্দরবানে ৭ খাদ্যগুদামে টেন্ডার ছাড়াই চলছে লোড-আনলোডের কাজ
মো. আবুল বাশার নয়ন, বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বান্দরবানে খাদ্য বিভাগকে ম্যানেজ করে খাদ্যগুদামে টেন্ডার ছাড়াই শস্য লোড-আনলোডের কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত তিনমাস ধরে মেয়াদ বাড়িয়ে শস্য লোড-আনলোডের কাজ চালিয়ে আসছে খাদ্য বিভাগ। এই ধারাবাহিকতা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে।


মূলত খাদ্য গুদামে শস্য লোড-আনলোড কার্যক্রমের জন্য দুই বছর মেয়াদি ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে থাকে খাদ্য বিভাগ। কিন্তু তাদের সেই দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয় না! জেলা কর্মকর্তার আস্থাভাজন হলেই ঘুরে ফিরে সেসব ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য মূলত এমন গড়িমসির আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের। বর্তমানে একই পন্থায় ওই ঠিকাদারদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে কাজে বহাল থাকার পায়তারা চলছে।


এই অবস্থায় মেয়াদ বৃদ্ধি না করে যারা সর্বনিম্ন দর দাখিল করেছেন তাদেরকে চুক্তির জন্য আহ্বান করার দাবি জানান অভিযোগকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। চুক্তি না করলে তাদেরকে আগামীতে খাদ্য বিভাগে কালো তালিকাভুক্ত করারও অনুরোধ জানানো হয়।


এদিকে, আপত্তি ও অভিযোগের পরও বান্দরবানের ৭টি এলএসডির (স্থানীয় খাদ্য গুদাম) শ্রম ও হস্তার্পন ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। এতে করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে পেশাদার ঠিকাদারদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ জেলা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণে এভাবে গড়িমশি করা হচ্ছে। যদিও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (পিপিআর) বিধি অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর পর দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে।


জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ (অবশিষ্ট সময়) ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের খাদ্যশস্য, খাদ্যদ্রব্য, খালিবস্তা ত্রাণ ও অন্যান্য দ্রব্য/পণ্য সামগ্রীর শ্রম নিয়ন্ত্রণ কাজের জন্য গত ২৬ জুলাই উম্মুক্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তিতে ৪৭৫ দরপত্র সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়ে মাত্র ১৩৭টি। ২২ আগস্ট দরপত্র খোলা হয়। জানা যায়, যাচাই বাছাই শেষে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার দিকে এগুচ্ছে জেলা অফিস।


এই বিষয়ে জানতে বিবার্তা প্রতিনিধি একাধিকবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) কানিজ জাহান বিন্দুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ আছে, জেলা খাদ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। বেশ কিছুদিন ধরে চলে আসা খাদ্য বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতির দায় এড়াতে তিনি এমন আচরণ করছেন।


এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক হীরা লাল তংচঙ্গ্যার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবার্তা প্রতিনিধিকে বলেন, এলএসডি লোড-আনলোডের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় পার হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনাে উত্তর না দিয়ে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অভিযোগে জানা যায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (পিপিআর) ২০০৬ ও ২০০৮ এ উম্মুক্ত দরপত্রের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বিধিমালা অনুযায়ি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আদুই রঞ্জন তংচঙ্গ্যা বিবার্তাকে বলেন, হয়তো ঠিকাদারদের মধ্যে কোন্দলের কারণে নানা অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আগের ঠিকাদারদের দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


বিবার্তা/নয়ন/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24[email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com