পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২২, ২১:৪৭
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ
রেজাউল ইসলাম তুরান, খুলনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন উৎসব হতে যাচ্ছে বাংলার মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর। এই উৎসব বন্যাকবলিত এলাকা বাদে প্রত্যেক জেলায় হবে। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পৃথিবীর অন্যতম খরস্রোতা পদ্মা নদীর দীর্ঘ পথযাত্রা মুহূর্তে শেষ হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সূচিত হবে এক নতুন যুগের। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বসবাসরত সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নই নয়; এটি বিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জের নাম।


পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর পিছিয়ে থাকা খুলনা ও তার আশপাশের অঞ্চলের জনগণের জন্য অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাল্টে যাবে জীবনযাত্রার মান। উত্তরাঞ্চলের মতো দক্ষিণাঞ্চলেও আসবে মৎস্য, কৃষি ও পর্যটন ব্যবসায় নতুন নতুন সম্ভাবনা। বাড়বে শিল্প প্রতিষ্ঠান। হ্রাস পাবে বেকারত্ব। পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত-হিমায়িত মৎস্য ও পাট শিল্পের রপ্তানি বাড়বে। প্রাণিসম্পদ খাতে পদ্মা সেতুর প্রভাব হবে ইতিবাচক। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুগ্ধ ও মাংসশিল্প বিকশিত হবে। গরু মোটাতাজাকরণ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে যাবে। অনেক দুগ্ধ খামার গড়ে উঠবে।



পায়রা, ভোমরা ও মোংলা সমুদ্র বন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সেতু চালু হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিশ্বনন্দিত সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন শিল্পে অবারিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। একইভাবে পদ্মা সেতুতে রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি তো হবেই। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে। বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের এই বিরল দৃষ্টান্ত ইতিহাসে কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে। এমন নানা উক্তি এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।



অপরদিকে ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে খুলনাঞ্চলের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। আগে ভাগে করা হয়েছে পরিবহন বুকিং। ঐতিহাসিক এ অনুষ্ঠান হাতছাড়া করতে চান না অনেকেই। স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মহানগরীর প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে গেট নির্মাণ, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ আলোকসজ্জা, শহীদ হাদিস পার্কে ডিজিটাল ও প্যানা বোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে খুলনাঞ্চলে বর্তমান সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের প্রচার-প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


পদ্মা সেতু বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ সেতু। এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম সেতু এটি। সেতুর উপরে চলবে গাড়ি, নিচে রেল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্ত হবে ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে ও রেলওয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হতে শুরু করে পদ্মা সেতুর কাঠামো। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে বসানো হয় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করা হবে।


রহমান শেখ নামের একজন ব্যবসায়ী বিবার্তাকে বলেন, পদ্মা সেতু যেভাবে দক্ষিণাঞ্চলকে ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে, ঠিক সেভাবে আমাদের মনোবলকে অনেক দৃঢ় করেছে। আগে ফেরিতে চলাচল করার কারণে ঢাকায় যেতে দক্ষিণাঞ্চলের লোকদের ৮/১০ ঘণ্টা সময় লেগে যেত, সেটা এখন মাত্র ৪ ঘণ্টায় সম্ভব হবে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি এ অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য অতি সহজে পরিবহন করা যাবে। কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবে।


খুলনার ট্রাকচালক কামাল মোল্লা বিবার্তা প্রতিনিধিকে বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে গাড়ি নিয়ে অনেক কষ্টে নদী পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করি। ঘাট পার হতেই জীবন শেষ হয়ে যায়। আগামী ২৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী সেতু খুলে দেবেন। এখন আর আমাদের কষ্ট থাকবে না।


খুলনার প্রবীণ শিক্ষক ও নাগরিক নেতা অধ্যাপক জাফর ইমাম বিবার্তাকে বলেন, পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প পদ্মা সেতুর দ্বারা এগিয়ে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অমূল পরিবর্তন হবে। সেতু নির্মাণের কারণে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। সেই সাথে বাড়বে পায়রা বন্দরের গুরুত্বও। পদ্মার এপারে গড়ে উঠবে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেতু উদ্বোধনের পর ওই সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান বাড়বে, ও বেকারত্ব কমবে। হবে আর্থ সামাজিক উন্নতি। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।


খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী আমিনুল হকের সাথে কথা হয় বিবার্তা প্রতিনিধির। তিনি বলেন, পদ্মা আমাদের স্বপ্নের ও গর্বের সেতু। এটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বেনাপোল, ভোমরা, মোংলা এবং পায়রা এই চারটি পোর্টের আমদানী করা সমস্ত মালামালই স্বল্প ব্যয়ে গন্তব্যে পৌছাবে। এই অঞ্চলের যত শাক-সবজি, মাছ স্বল্প সময়ে ঢাকায় পৌঁছাবে।



কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বলা হয় খাদ্যভাণ্ডার। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাতেই বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব পণ্যের একটি বড় অংশ রাজধানীতে নেয়া হয়। পদ্মা সেতু চালু হলে কৃষিপণ্য বিপণন সহজ হবে। একইসাথে কৃষকরাও উপকৃত হবেন। এই সেতুর কল্যাণে পাট রপ্তানিও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী বিবার্তাকে জানান, খুলনা থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পাট রপ্তানি করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাট কিনে খুলনায় নিয়ে আসা হয়। এই পাট মোংলা বন্দর হয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। পাট কিনে আনার সময় পদ্মা নদী পাড়ি দিতে হয়। আবার খুলনার পাটকলে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য রাজধানীতে নেয়া হয়। এতে যে সময়ের অপচয় হয়, তার আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। বিশ্ববাজারে পাটের অবস্থান ভালো করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।



খুলনা চিংড়ি বণিক সমিতির সভাপতি শেখ আবু জাফর বিবার্তা প্রতিনিধিকে বলেন, রাজধানীতে চিংড়ি পাঠাতে পদ্মায় ফেরির যানজটের কারণে অনেক সময় দুই দিনও দেরি হয়। তখন চিংড়িতে দেয়া বরফ ফুরিয়ে যায়। এতে চিংড়িতে ব্যাকটেরিয়া জন্মে। সেতু চালু হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। সকালে পাঠানো চিংড়ি বিকেলে রাজধানীতে বিক্রি করতে পারব।


বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এস হুমায়ুন কবীরের বিবার্তার প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি হয়। এসব চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা খুলনা ও চট্টগ্রামে। অনেক সময়ে খুলনা থেকে চট্টগ্রামে চিংড়ি আনা-নেয়া করতে হয়। তখন ফেরিঘাটে অনেক কালক্ষেপণ হয়ে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তবে পদ্মা সেতু চালু হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।


মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. তোফাজউদ্দীন আহমেদ বিবার্তাকে বলেন, মাছ জরুরি খাদ্যপণ্য। নির্দিষ্ট সময় পর এটি নষ্ট হয়ে যায়। পদ্মা সেতু চালু হলে মাছের বিপণন ও বাজারজাতকরণ সহজ হবে। এতে জেলে, মৎস্য চাষি ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবেন।



ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন খুলনার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আযম ডেভিড এই প্রতিনিধিতে বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। যার রহস্যকে ঘিরে মানুষের মধ্যে রয়েছে অসীম কৌতুহল। পদ্মা সেতু চালু হলে সেই রহস্যের সন্ধানে ছুটে আসবেন পর্যটকরা। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে খুলনার পর্যটন শিল্পের বিপ্লব ঘটবে।


অর্থনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বিবার্তাকে বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রচুর ফসল উৎপাদন করতে পারলেও পর্যাপ্ত দাম পান না। এর মূল কারণ হলো, রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়া। তাই পদ্মা সেতু চালু হলে যাতায়াতের আর সমস্যা থাকবে না। এতে কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা সহজ হবে, এর সঙ্গে জড়িতরাও লাভবান হবেন।


বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ মোহাম্মাদ আলীর সাথে কথা হয় বিবার্তা প্রতিনিধির। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি হবে। মোংলা বন্দর, পায়রা বন্দর ব্যবহারের গুরুত্ব বেড়ে যাবে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।


মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মাদ মূসা বিবার্তাকে বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দর ভূমিকা রাখছে। উত্তরাঞ্চলের অনেক আমদানিকারকও এখন এ বন্দর ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে এ বন্দর। যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের সুফল পাওয়া যাবে।


তিনি বলেন, আগের থেকে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সক্ষমতা আমদানিকারকরা ব্যবহার করতে পারলে এর আগে বন্দরে যে রেকর্ড হয়েছে সেটি ছাড়িয়ে যাবে।


খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বিবার্তাকে বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবলের কারণে নিজস্ব অর্থায়নে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ সেতু এতদাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে যা আমাদের সকলের জন্য আনন্দের। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণ দেশের মানুষের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার অমরকীর্তি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে সিটি মেয়র উল্লেখ করেন।


খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী এই প্রতিবেদককে বলেন, নিন্দুকের নিন্দা আর নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করে উন্নয়নের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। সেতুটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিল্প নগরী খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে উঠবে। বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। বিশেষ করে সেতুর সাথে রেললাইন থাকায় মালামাল পরিবহণ সহজতর হবে।


তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে শুধু যে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ উপকৃত হবে তা নয়। বরং সমগ্র দেশের মানুষ এর সুফল পাবে। এসব নানা কারণে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের সময় মানুষের মাঝে যেমন আনন্দ উৎসবের সৃষ্টি হয়েছিলো পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘিরে এই জনপদের সাধারণ মানুষের মাঝে ঠিক তেমন আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে।



বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বিবার্তা প্রতিনিধিকে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে দেশের মানুষ এখন উৎসবমুখর আবেশে রয়েছে। উদ্বোধনের দিন সেখানে উপস্থিত হয়ে আমরা কালের সাক্ষী হয়ে থাকতে চাই। খুলনা বিভাগ থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এক লাখ মানুষ নিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাই।


খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান খান বিবার্তা প্রতিবেদককে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনই নয়, বৈচিত্র্য আসবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে একদিকে যেমন দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগসূত্র তৈরি হবে, ঠিক তেমনি এই সেতু ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।


তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর খুলনাঞ্চলের ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে অন্যতম কৃষিখাতে পরিবর্তন। এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রচুর ফসল উৎপাদন করতে পারলেও পর্যাপ্ত দাম পান না। এর মূল কারণ হলো, রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়া। তাই পদ্মা সেতু চালু হলে যাতায়াতের আর সমস্যা থাকবে না। এতে কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা সহজ হবে, এর সঙ্গে জড়িতরাও লাভবান হবেন।


বিবার্তা/তুরান/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com