স্থগিত হওয়া বিএনপির কর্মসূচি কবে নাগাদ শুরু?
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৮
স্থগিত হওয়া বিএনপির কর্মসূচি কবে নাগাদ শুরু?
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো এবং তার মুক্তির দাবিতে সম্প্রতি দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে বিএনপি। কিন্তু ওমিক্রন সংক্রমণের কারণে সরকারি বিধিনিষেধ জারি হলে বিএনপির কর্মসূচিতে তার প্রভাব পড়ে। বন্ধ করে দিতে হয় তাদের ৩২টি জেলার সমাবেশ কর্মসূচি। বিএনপির কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই সরকারের এই বিধিনিষেধ দলের নেতারা এমন দাবি করলেও তাদের কর্মসূচি স্থগিতের সাথে এই বিধিনিষেধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তারা। আর কবে নাগাদ সেই কর্মসূচি শুরু করবেন সুনির্দিষ্ট করে কেউই তা বলতে পারছেন না।


প্রথম দফায় নানা প্রতিকূলতার ভিতরেও ২৮ জেলায় সমাবেশ করেছে দলটি। এতে সারাদেশের নেতাকর্মীরাও বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় দফায় ৩৯ জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ৭ জেলায় সমাবেশ করার পর বিধিনিষেধের কারণে বাকি জেলার কর্মসূচি পুনর্নির্ধারিত করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।


বিগত ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানো এবং ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবি আদায়ের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই কোণঠাসা ছিলো বিএনপি।


গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলো দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। কোনো সিদ্ধান্তেই অনড় থাকতে পারেনি দলটির নেতারা। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে দীর্ঘ বিরতির পর নড়েচড়ে বসে বিএনপি। রাজপথে সরব হয় তারা। আশাতীত সাড়াও পান নেতারা।


দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা এবং মুক্তি দাবি পাশাপাশি ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে নানা তৎপরতা শুরু করেছে দলটি। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রক্রিয়া শুরুও করেছে। আন্দোলনে রেশ ধরে রাখতে এবং এক দফা দাবি আদায়ের রূপরেখা ঠিক করতে লন্ডন থেকে সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষনেতাদের সাথে নিয়মিত কথা বলছেন তিনি।


চলমান বিভিন্ন কর্মসূচি যখন দেশব্যাপী বিস্মৃতি ঘটাতে দলটির শীর্ষনেতারা নেমেছে যখন মাঠে নেমেছে, তখন ওমিক্রন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সরকার কর্তৃক বিধিনিষেধ জারিকে এই চলমান আন্দোলনে একটি হোচট বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।


বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকার বিধিনিষেধের কথা বলছেন, অথচ বিধিনিষেধের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া ‘একতরফাভাবে’ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার।


তারা বলছেন, জেলার সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মী জনগণের মধ্যে যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত না থাকলে আন্দোলনের গতি স্তিমিত হতে পারে। তাই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দলটির সিংহভাগ নেতাকর্মীরা।


১৪ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে সব সমাবেশ স্থগিত করার কথা জানান। ২২ তারিখ পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি বিএনপি।


২০ জানুয়ারি দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ তারিখের জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীর যে আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল তাও স্থগিত করে দেন।


এবিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বিবার্তাকে বলেন, আমাদের কর্মসূচি বিধিনিষেধের কারণে স্থগিত করেছি, বিষয়টি তেমন না। করোনা সংক্রামণ বেড়ে যাওয়ায় আমরা কর্মসূচিগুলো সাময়িক স্থগিত করেছি। মানুষের জন্য রাজনীতি। সংক্রামণ হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের পূর্ব নির্ধারিত জেলা সমাবেশ শুরু হবে।


কর্মসূচি পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসূচি পরিবর্তন হবে কিনা তা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে, সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। যেকোনো সময় যেকোনো কঠিন কর্মসূচি আসতে পারে, যার জন্য বিএনপির নেতাকর্মী ও দেশবাসী প্রস্তুত।


এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিবার্তাকে বলেন, আন্দোলন নতুন করে শুরু করার কিছু নেই, চলমান আছে। প্রশ্নটা হলো স্বাস্থ্যবিধি। আজ যে কেউ অসুস্থ হতে পারে। সবার ওপরে জনগণ। আমরা দলের পাশাপাশি জনগণের কথাও ভাবি। আমরা আন্দোলনে জনগণকে মাঠে নামাতে পেরেছি। সরকার পতন আন্দোলনে রাজপথে নামার জন্য জনগণও গভীর আগ্রহ নিয়ে প্রহর গুনছে।


কর্মসূচি পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে থেকে কৌশল নির্ধারণ করে কিছুই হয় না। অপেক্ষা করুন, দেখতে পারবেন। মাত্রতো ৪টা জেলায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হয়েছে, করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধি না পেলে এতোদিনে হয়ত দেশের প্রতিটি জেলায়ই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হতো। সামনে এমন ভয়ানক আন্দোলন হবে যা দেখার জন্য হয়ত আওয়ামী লীগ কখনই প্রস্তুত ছিলো না।


দলটির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা কর্মসূচি স্থগিত করিনি। তারিখটা পুনঃনির্ধারণ করছি। আমরা ইতিমধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলার নেতাদের পুনঃনির্ধারিত তারিখে সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছি।


তিনি বলেন, যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক ও অকার্যকর। কিন্তু তারপরও জনস্বার্থ এবং প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে সমাবেশগুলোর তারিখ পুনঃনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন কর্মসূচি নেয়া হলে তা আপনাদের জানানো হবে বলে জানান তিনি।


সার্বিক বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিবার্তাকে বলেন, আমরা এখনো আন্দোলনের মাঠে আছি। করোনার কারণে আমরা এই কর্মসূচিগুলো সীমিত করেছি। কবে নাগাদ আবার আগের কর্মসূচিগুলো শুরু হবে তা নির্ভর করছে করোনার ভয়াবহতার ওপর।


কর্মসূচি পরিবর্তন প্রসঙ্গে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে, করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমলে একটি রিসিডিউল হবে। যেহেতু বিধি-নিষেধের কারণে জেলার সমাবেশগুলো সমাপ্ত করতে পারি নাই, তাই আগে আমাদের চিন্তা হলো বাকি জেলার সমাবেশগুলো সমাপ্ত করা। আমরা চাই আসন্ন সরকার পতন আন্দোলন শুধু রাজধানীতে নয়, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নেও সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলন হবে। জেলা সমাবেশ শেষ করে পরবর্তী কর্মসূচি দলের স্থায়ী কমিটি ও অপারাপর রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


বিবার্তা/বিপ্লব/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com