তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত: হত্যা মামলার আসামি পেলেন নৌকা
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩৬
তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত: হত্যা মামলার আসামি পেলেন নৌকা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিলাল আহমদ। অথচ, তিনি একটি আলোচিত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আলোচিত একাধিক হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। অন্যদিকে, ইউনিয়নের তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী অন্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে বিলাল আহমদকে নৌকার মনোনয়ন দেয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররে মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে লীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে তৃণমূলের মতামত নেয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভোট হয়। এতে, রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আকবর চৌধুরী কোহিনুর পান ১৩ ভোট এবং সভাপতি বিলাল আহমদ পান ৭ ভোট। কিন্তু, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকা যাচাই করে গত রবিবার রাতে বিলাল আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাল আহমদ কানাইঘাটের বাবুর্চি জামাল আহমদ হত্যা মামলার আসামি। এ মামলায় তিনি কারাভোগ করেছেন। একই মামলায় তার বড় ভাই হেলাল আহমদ অন্যতম প্রধান আসামি। মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।


বিলালের বাবা সিকান্দার আলী ওরফে ছইল মিয়া ২০০১ সালে চাঞ্চল্যকর ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলার আসামি ছিলেন। হাওরের রাঙামাটি বিল দখল করে রাখার এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন মাছ মারতে গেলে সেখানে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করেন সিকান্দার ও তার ছেলেরা। এই মামলায় কারাভোগের পর তিনি মারা যান। এক ভাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।


স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক সহসভাপতি বলেন, বিলাল অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। কাঠালবাড়ি হাওরের টিলায় বাড়ি নির্মাণ করে হাওরকেন্দ্রিক সবধরনের অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমনকি, গরু চুরি-জমি খলের সঙ্গেও তারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।


তিনি আরো বলেন, ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কহিনূরকে বিজয়ী ঘোষণার পর সেখানেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন বিলাল আহমদ। এমনকি, স্থানীয় একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে দেখে নেয়ার হুমকিও দেন। মূলত, টাকা ও গায়ের জোরে বিলাল আওয়ামী লীগে পদ পেয়েছেন। তার পরিবারের কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। তিনি নিজেও একজন অশিক্ষিত লোক।


ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমদ বলেন, তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্তে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ পারিবারের অধিকাংশ লোকই অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কহিনূর একজন শিক্ষিত ও ভদ্র লোক। তৃণমূলে জনপ্রিয় এ লোককে বাদ দেয়া ঠিক হয়নি।


সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, আমরা তৃণমূলের মতামত নিয়ে কেন্দ্রে তালিকা প্রেরণ করেছি। নেত্রী হয়তো জ্যেষ্ঠতার বিচারে বা বর্তমান চেয়ারম্যানকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূলের মতামত খুব একটা পরিবর্তন হয় না। তবে, এ ক্ষেত্রে আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা দেখিয়ে থাকি।


তবে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিলাল আহমদ বিবার্তাকে বলেন, আমার দলের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।


বিবার্তা/সোহেল/খলিল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com