শিরোনাম
ওই আকাশে কত তারা!
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৮, ১৮:৫১
ওই আকাশে কত তারা!
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সংখ্যায় কোনটা বেশি - আকাশের তারা নাকি সমুদ্রসৈকতের বালুকণা?


"মহাবিশ্বের তারার মোট সংখ্যা পৃথিবীর বালুকণার চেয়ে বেশি" - এমন দাবি করেছেন একজন অ্যামেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আশির দশকের নিজের জনপ্রিয় টিভি শো ''কসমস''-এ তিনি এ কথা বলেছিলেন।


কিন্তু এটা কতটা সত্যি? এটা কি আসলে গণনা করা সম্ভব? আমরা এখন সেটাই মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করব।


ছায়পথের সংখ্যা
অধ্যাপক গ্যারি গিলমোর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, যিনি মহাবিশ্বের তারা গুণে চলেছেন অনেক বছর যাবত।


যুক্তরাজ্যের চালানো প্রকল্প 'গাইয়া'র নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। আমাদের মহাবিশ্বে কত তারা আছে, তা গণনার জন্য গাইয়া দল এখন তাদের ডাটা ব্যবহার করে মিল্কি-ওয়ে বা ছায়াপথের একটি বড় ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ইউরোপীয় মহাকাশযান, যেটি এখন আকাশের মানচিত্র তৈরির কাজ করছে।


অধ্যাপক গিলমোর বলছেন, প্রতিটি তারার পরস্পরের দূরত্ব অনুযায়ী পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ২০০ কোটির চেয়ে বেশি তারা রয়েছে। অর্থাৎ ইউরোপের অংশে যদি মোট তারার এক শতাংশ থাকে, তাহলে আমাদের ছায়াপথে হয়ত সব মিলে ২০ কোটি তারা আছে।


কিন্তু এ তো কেবল একটি ছায়াপথের হিসাব।


সার্বজনীন চিত্র
সৌভাগ্যজনকভাবে, মহাবিশ্বে আমাদের ছায়াপথ একটি টিপিক্যাল বা সাধারণ ধরনের। বেশিরভাগ ছায়াপথে আমাদের ছায়াপথের মতোই তারা থাকে। অধ্যাপক গিলমোর বলছেন, সে কারণে আমরা একে গড় হিসাব তৈরির কাজে লাগাতে পারি। অর্থাৎ যদি মোট ছায়াপথের সংখ্যা ধারণা করা যায়, তাহলে তারার সংখ্যা বের করা সম্ভব।


জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য সেটা হয়ত বড় সমস্যা নয়।


মহাবিশ্বে যদি ১০,০০০ ছায়াপথ থাকে, মনে রাখতে হবে একেকটিতে হয়তো ২০,০০০ কোটি করে তারা আছে।


এবার সাগরতীরের অংক
শুরুতেই ধরে নিতে হবে, বিশ্বের সব সাগরের তীরে ঠিক কি পরিমাণ বালু থাকে। এজন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা পরিমাপ করতে হবে। সেজন্য সাগরের তীরের হিসাব করলে হবে না, হিসাব করতে হবে উপকূলীয় এলাকার পরিমাপের।


এ নিয়ে অবশ্য বিশেষজ্ঞরা একমত হতে পারেন না। কারণ, উপকূলীয় এলাকার মাপ বাড়ে-কমে, স্থির থাকে না। তারপরেও বিবিসি একজনের সঙ্গে কথা বলেছে, যিনি একটি সংখ্যা জানিয়েছেন।


তিনি হচ্ছেন উপকূল নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ডেল্টারসের গবেষক জেনাডি ডনসিটস। তিনি বলেন, পুরো পৃথিবীর উপকূলের পরিমাপ করা দুঃসাধ্য কাজ। ওপেন স্ট্রীট ম্যাপের মতো ফ্রি ম্যাপ ব্যবহার করে কম্পিউটার ডেটার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, বরফাচ্ছন্ন এলাকাসহ উপকূলীয় এলাকার দৈর্ঘ্য ১১ লাখ কিলোমিটারের মতো, যার মধ্যে তিন লাখ কিলোমিটার এলাকা বালুময় সৈকত।


এখন যদি তারার সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করতে হয়, তাহলে দেখা যাবে, মহাবিশ্বে তারার সংখ্যা ১০ সেক্সটিলিয়ন, যেখানে বালুকণার সংখ্যা হবে চার সেক্সটিলিয়ন।


তাহলে এটি ঠিকই যে, মহাবিশ্বে বালুকণার চেয়ে তারার সংখ্যা বেশি। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/হুমায়ুন/কামরুল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com