নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মানতে হবে যেসব শর্ত
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩২
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মানতে হবে যেসব শর্ত
ধর্ম ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একজন সাহাবি মসজিদে এসে নামাজ আদায় করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের এক কোনায় অবস্থান করছিলেন। সাহাবি এসে তাকে সালাম দিলেন। নবীজি (সা.) তাঁকে বললেন, যাও তুমি আবার নামাজ আদায় কোরো। কেননা তুমি (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করোনি। সাহাবি ফিরে গেলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর নবীজি (সা.)-কে সালাম করলেন। তিনি বললেন, তোমার প্রতিও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করোনি। তৃতীয়বার সাহাবি বললেন, আমাকে অবগত করুন।


তখন নবীজি (সা.) বললেন, যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে তার আগে ভালোভাবে অজু করবে। অতঃপর কেবলার দিকে ফিরবে এবং তাকবির দেবে। কোরআনের যতটুকু তোমার কাছে সহজ মনে হয় তা পাঠ করবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে এবং রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে এবং সিজদা থেকে ধীরস্থিরভাবে সোজা হয়ে বসবে। আবার ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে এবং সিজদা থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর পুরো নামাজ এভাবে আদায় করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬)


নামাজ (সালাত) ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে দ্বিতীয় রোকন৷ নামাজ প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন, নারী পুরুষ নির্বিশেষে, প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ বা অবশ্যকরণীয়। একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে হয় যা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে। এটি মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন অবশ্যকরণীয় একটি ধর্মীয় কাজ। তবে প্রতিদিন আবশ্যকরণীয় বা ফরজ ছাড়াও বিবিধ নামাজ রয়েছে যা সময়ভিত্তিক বা বিষয়ভিত্তিক।


নামাজ একটি সুনির্দিষ্ট প্রকৃতির ইবাদত যার পদ্ধতি ‘ইসলামী শরী‘আতে পরিপূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে। নামাজ ‘তাকবিরে তাহরিমা’ দ্বারা শুরু হয় ও ‘সালাম ফিরানো’ দ্বারা শেষ হয়’।


কিছু শর্ত পাওয়া না গেলে নামাজ হবে না। নামাজে যা পালন করা জরুরি সেগুলো আলোচনা করা হলো-


১. তেলাওয়াত শুদ্ধ হতে হবে। কোরআনের সুরা ও আয়াতের অক্ষর, বাক্যগুলো বিশুদ্ধ উচ্চারণ হতে হবে। তেলাওয়াত বিশুদ্ধ না হলে নামাজ হবে না। আর ভুল তেলাওয়াতের জন্য গুনাহগার হতে হবে।


২. ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতেহার সঙ্গে সুরা মিলাতে হবে। সুরা মিলানো ওয়াজিব।


৩. কমপক্ষে তিন আয়াত বা তিন আয়াতের সমপরিমাণ বড় এক আয়াত তেলাওয়াত করতে হবে।


৪. বিতর, সুন্নাত ও নফল নামাজের ক্ষেত্রে প্রত্যেক রাকাতেই সুরা ফাতেহার সঙ্গে সুরা মিলাতে হবে।


৫. ফজর, মাগরিব, এশা, জুমা, বিতর নামাজ জামাতে পড়াকালীন, দুই ঈদের নামাজে সুরা উচ্চস্বরে তেলাওয়াত করতে হবে।


৬. সুরা ফাতেহার সঙ্গে যে সুরা মেলানো হয় তা প্রত্যেক রাকাতের জন্য আলাদা আলাদা সুরা তেলাওয়াত করা উত্তম।


৭. ধীরে ধীরে কেরাতের নামাজে সুরাগুলো মুখে উচ্চারণ করে তেলাওয়াত করতে হবে; মুখ বন্ধ করে, জিহ্বা না নাড়িয়ে মনে মনে পড়া যাবে না। এমনভাবে পড়তে হবে যাতে নিজ কানে তেলাওয়াতের আওয়াজ আসে। কেরাত শেষ হওয়ার আগে তেলাওয়াত করতে করতে রুকুতে যাওয়া মাকরূহ বা নিষিদ্ধ।


৮. ফরজ নামাজে সুরা ফাতেহার সঙ্গে মিলানো সুরা বা আয়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোরআনের ক্রমধারা ঠিক না রাখা মাকরূহ। ভুলে আয়াত বা সুরা আগে/পিছে পড়লে মাকরূহ হবে না। ক্রমধারা অর্থ হচ্ছে- প্রথম রাকাতে সুরা ইখলাস (কুল হুয়াল্লাহু আহাদ) পড়া আর দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাউছার (ইন্না আ’ত্বাইনা) পড়া।


৯. ফরজ নামাজে একই সুরার অনেক আয়াত একত্রে পড়া এবং দুই আয়াতের কম ছেড়ে দ্বিতীয় রাকতে সামনে থেকে পড়া মাকরূহ। আবার কেউ যদি দুই সুরা এভাবে পড়ে যে, মাঝখানে ৩ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী সুরা পড়ে তবে তাও মাকরূহ।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com