শেখ হাসিনা: মাদার অব হিউম্যানিটি
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৪২
শেখ হাসিনা: মাদার অব হিউম্যানিটি
ডা. মুরাদ হাসান
প্রিন্ট অ-অ+

‘তিনি জেগে থাকেন বলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকে, তিনি জেগে থাকেন বলেই আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি’। এই বাংলাদেশের সকল দুর্বিপাক-দুর্যোগে সকল জনগণের আপনজনের মতো পাশে থাকেন এই প্রজাতন্ত্রের অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। এই বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের খোঁজ খবর রাখেন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অভিভাবক নয়, একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিকের অভিভাবক। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এই বিষয়টি একাধিকবার বলেছেন, যা সবাই অবগত আছেন। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি নিজের মানুষ মনে করেন তা একাধিকবার তিনি প্রমাণও করেছেন।


একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব পরিমন্ডলেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। বিশ্বের যে কোন দেশের মানবিক প্রয়োজনে তিনি যেমন সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন, ঠিক তেমনি ধনী দেশগুলোর আগ্রাসী নীতি কিংবা দূর্বল দেশের প্রতি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধেও তিনি থাকেন উচ্চকন্ঠ। যেখানে ধনী দেশগুলো তাদের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য আপোস-মীমাংসা করে চলেন, একজন উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা থাকেন মানবিক নীতিতে অটল। নিজ দেশের স্বার্থের হিসাবের উপরে গিয়ে মানবতার পাশে দাঁড়ানোই তাঁর লক্ষ্য। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে আশ্রয় দিয়ে অপার মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।ব্রিটিশ মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’(মানবতার জননী) বলে আখ্যায়িত করেছে।


ইতোমধ্যে সারা বিশ্বব্যাপী তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে পরিচিতি লাভ করেছেন। অধিকন্তু, বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সমস্যা সমাধানের আলোকবর্তিকা হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তিতে নোবেল জয়ীদের ভূমিকা যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখনও বিশ্বের মানচিত্রে শান্তির পতাকা হাতে মানবতার পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর উদারতা ও মানবকিতা দেখে প্রশংসা করেছেন বিশ্ব নেতারা।


৭৫ এর পর দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। সরকারে দায়িত্ব নেয়ার পরেই পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অশান্ত, রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেই উদ্যোগের সফলতা লাভ করে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর। পার্বত্য চুক্তিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনগণ ও উপজাতিদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করে এবং শান্তিবাহিনী ও সরকারের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা বিদ্রোহের অবসান ঘটায়। দুই দশক স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চাকা বন্ধ ছিল এখানকার মানুষদের। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় পার্বত্য এলাকা তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পায়; সমসাময়িক কালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সফল রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি আমাদের দেশের জন্য এক বিরল অর্জন হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণে শেখ হাসিনার ইউনেস্কো পুরস্কার প্রাপ্তি ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অনন্য অবদানের স্বীকৃতি। চুক্তির পর পুরো পার্বত্যাঞ্চল জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ যথেষ্ট বেগবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।


বাংলাদেশ-ভারতের মধ্য বিরাজমান আরেকটি অমীমাংসিত বিষয় ছিলো ছিটমহল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৬৮ বছর পর ছিটমহলবাসীর বন্দী জীবনের অবসান ঘটিয়ে সেখানে বসবাসরত মানুষকে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেন। ১৯৪৭ সালের পর ২০১৬ সালে এসে স্বাধীন দেশের নাগরিকত্ব পায় ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই মানবতার মেলবন্ধন রচিত হয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মিলিটারি শাসন তথা সামরিকতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটান।


এছাড়াও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা একাত্তর-পঁচাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও খুনীদের বিচার করে আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মসহ বর্তমান প্রজন্মের নিকট বহুল কাঙ্খিত ছিলো। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত, অনুন্নত দরিদ্র দেশটি আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে রূপান্তরের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গড় আয়ু, জিডিপি ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে বহু উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। এসব কারণে বিশ্ব নেতৃত্বে অনেক এগিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। বলা যায়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তার গুরুত্ব এখন অপরিসীম।


নিজ দেশে পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ী-বাঙালী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ছিটমহলবাসীর নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া, সর্বশেষ নারী-শিশুসহ ১০ লক্ষাধিক বিতাড়িত-নির্যাতিত রোহিঙ্গার আশ্রয় ও সেবা দেয়া, তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি সহযোগিতা চাওয়ার মতো দৃষ্টান্ত তিনি রেখে যাচ্ছেন। আমরা বাংলাদেশ আপামর জন সাধারণ আশাবাদী যে মানবতার কল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করবেন।


বিশ্বের ইতিহাসে বাংলাদেশ গৌরবের জায়গায় যে নামটা সর্বাগ্রে উচ্চারণ করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির পেক্ষাপট ও মানবিকতার বিবেচনায় যে নামটি উচ্চারিত হয় সেটিও বঙ্গবন্ধুর রক্ত-আদর্শের উত্তরসূরী, তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। যিনি দাতা দেশগুলোর রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার কল্যাণে দাবী জানিয়ে আসছেন। তাই তো তিনি আজ বিশ্বব্যাপী অসহায় মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছেন।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বড় সন্তান শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিন আজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার রেকর্ড তাঁর। তিনি এর মধ্যে ১৯ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে ফেলেছেন। এ সময় তিনি নিম্ন আয়ের বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন, বলা যায় একটি জাতির পরিচয় বা ভাগ্য করেছেন তিনি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ক্ষুধা, মঙ্গা পীড়িত দেশ আজ বিশ্বের বুকে সম্মানের আসীন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি তিনি সুস্থ থাকলেই তাঁর সুদক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা উন্নত বিশ্বের কাতারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।
“শুভ জন্মদিন বাঙালির আশার বাতিঘর, মানবতার মা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।”


লেখক:
ডা. মুরাদ হাসান
সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী।


বিবার্তা/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com