`রাজনীতিতে নারীর গতিরোধ'
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৩২
`রাজনীতিতে নারীর গতিরোধ'
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নারী ভোটারের সংখ্যা ৫১%। সে হিসেবে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে নারী এবং পুরুষের সংখ্যা সমান থাকার কথা। যদিও বাস্তবে তা নেই।


সেজন্য রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে আনতে ২০০৮ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল সমূহকে সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।


১২ বছর সময় পেলেও রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী কোটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সত্য, তবুও আরপিও আরোপিত অধ্যাদেশের জন্যই আমরা (নারীরা) রাজনীতিতে অনেকটাই এগিয়ে আসতে পেরেছি।


এই আইনটি আমাদের (নারীদের) রাজনীতিতে এগিয়ে আসার সহায়ক সিঁড়ি হিসেবে কাজ করেছে। নারীদের এগিয়ে আনতে সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থা থাকার কারণে ব্যাপক সংখ্যক নারীমুখ আমরা রাজনীতির মাঠে দেখতে পাই। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলাসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক নারীরা সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছে এবং বিজয়ী হয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে পারছে।


কিছু দিন আগে গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারলাম রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নেয়ার জন্য জারীকৃত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা তুলে দেয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।


সাথে সাথেই আমরা (নারীরা) আরপিও এ্যাক্টটি যাতে কোনভাবেই বাতিল করা না হয় সেজন্য প্রতিক্রিয়া জানাই। কিছুদিন পর শুনতে পেলাম নির্বাচন কমিশন আরপিও অধ্যাদেশ আইন সংশোধন করে ৫ বছর বৃদ্ধি করার জন্য প্রস্তাব রেখে আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়া পাঠিয়েছে।


কমিশন থেকে রোপম্যাপ তৈরী করে দেয়ায় আমরা (নারীরা) একধরনের স্বস্তিতে ছিলাম। এজন্য যে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলে রাজনৈতিক দলগুলো তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে। রাজনীতির মাঠে আমরা (নারীরা) আরো এগিয়ে আসতে পারো।


কিন্তু সম্প্রতি নারীদের রাজনীতিতে গতিরোধ করতে পেলাম আরেকটি উদ্বেগজনক খবরের। সেটা হলো নির্বাচন কমিশন নাকি ৫ বছর সময়সীমার বদলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ৩৩℅ নারী কোটা বাস্তবায়ন করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মতামত হলো সময়সীমা নির্ধারণ করে না দিলে কোন দলই হয়তো দ্রুত এই আইনটি বাস্তবায়নে উৎসাহ দেখাবে না।


আরোপিত অধ্যাদেশের জন্য আমরা নারীরা ১২ বছরে যতটা এগিয়ে আসতে পেরেছি, অধ্যাদেশে সময়সীমা উল্লেখ না করলে উল্টো পিছিয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে এবং স্তিমিত হতে পারে রাজনীতিতে নারীর এগিয়ে চলার গতি ।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে আনার জন্য কোটা ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও কোটা ব্যবস্থা দিয়ে নারীদের প্রমোট করা হয়েছে। তার মানে এই নয় এখনই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে।


তাই আমি একজন নারী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ রাখবো নারীদের এগিয়ে চলার জন্য সহায়ক আইনটিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়া পাঠানো হোক। সেই সাথে অতি দ্রুত আইনটি পাশ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।


তানিয়া সুলতানা হ্যাপি
সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ
01714378892
[email protected]


বিবার্তা/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com