ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন মঙ্গলবার: কারা আসছেন নেতৃত্বে?
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭:২৮
ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন মঙ্গলবার: কারা আসছেন নেতৃত্বে?
মহিউদ্দিন রাসেল ও সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন। ইতিমধ্যে এ সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে পদপ্রত্যাশীরাও শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। কারা আসছেন নেতৃত্বে? কোন এলাকা পাচ্ছে প্রাধান্য? সংকটকালীন সময়ে কার কী অবদান? কার পারিবারিক ঐতিহ্য কী? এসব নানা আলোচনায় সরগরম এখন ছাত্রলীগের রাজনীতি।


৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন।


ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতার ফরম জমা দিয়েছেন ২৫৪ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫৮ জন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনার শামস-ই-নোমান। পদপ্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহ এবং জমা দেয়া শুরু হয়েছিল গত ৩০ নভেম্বর, যা শেষ হয় ৩ ডিসেম্বর। ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রেজাউল করিম সুমন, নির্বাচন কমিশনার আশরাফুল ইসলাম টিটন ও শামস-ই-নোমান এই নির্দেশ দিয়েছিলেন ২৯ নভেম্বর।


এর আগে আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী ছাত্রলীগের এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে ৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ৯ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ২১ নভেম্বর, সোমবার বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ।


মূলত, ৪ নভেম্বর (শুক্রবার) ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার তা ৩ তারিখের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বর করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাওয়ার কথা ছিল। যার কারণে সম্মেলন পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর নেয়া হয়। কিন্তু ওই সফর বাতিল হওয়ায় সম্মেলনের তারিখ ৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে।


এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যেন ঘুম নেই পদপ্রত্যাশীদের। সম্মেলনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, পদপ্রত্যাশী ও কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ততই বেড়ে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে পদপ্রত্যাশীরাও শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ হাইকমাণ্ডের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তারা সংগঠনের জন্য নিজেদের ত্যাগ ও ইতিবাচক দিকগুলো বিভিন্নভাবে প্রচার করছেন।


নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের এবার নেতৃত্ব নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নেতা বাছাইয়ে নেতৃত্ব দিবেন।


ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বিবার্তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করবেন। এক্ষেত্রে ভালো সংগঠক, সৃজনশীল তারুণ্য ও নেতৃত্বের গুণাবলী আছে এমন ছাত্রনেতারাই প্রাধান্য পাবেন। বির্তকিত কেউ থাকলে বাদ পড়বেন।


বয়সসীমার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।


আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বিবার্তাকে বলেন, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে বিতর্কিত কেউ আসার সুযোগ নেই। ছাত্র সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য, ভদ্র বিনয়ী, মার্জিতদের নেতৃত্বে স্থান দেয়া হবে। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।


এদিকে ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। তার মধ্যে- পারিবারিক পরিচিতি, নিয়মিত ছাত্রত্ব, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও এলাকা। নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি এলাকার বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পেয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন বিভাগের পদপ্রত্যাশীরা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।



ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের ধারাবাহিক আয়োজনের আজ শেষ পর্ব। সম্মেলনে নেতৃত্বের দৌঁড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলোচিত যারা, তাদের নিয়ে।


চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচনায় যারা:


চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন মাজহারুল ইসলাম শামীম (সহ-সভাপতি), মাহমুদুল হাসান তুষার (সহ-সভাপতি), তাহসান আহম্মেদ রাসেল (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), সাদ বিন কাদের চৌধুরী (সাংগঠনিক সম্পাদক), নাজিম উদ্দিন (সাংগঠনিক সম্পাদক), আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন (শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক), তানভীর হাসান সৈকত (উপ-সমাজসেবা সম্পাদক) ও ফয়সাল মাহমুদ (নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক), জয়জিৎ দত্ত (উপসাহিত্য সম্পাদক)।


বরিশাল অঞ্চলের আলোচনায় যারা:


ইয়াজ আল রিয়াদ (সহ সভাপতি), সৈয়দ আরিফ হোসেন (সহ সভাপতি), তিলোত্তমা শিকদার (সহ সভাপতি), আরিফুজ্জামান আল ইমরান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), সোহানুর রহমান সোহান (সাংগঠনিক সম্পাদক), শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান (সাংগঠনিক সম্পাদক), ইমরান জমাদ্দার (ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক), সবুর খান কলিন্স (উপ-বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক), খাদিমুল বাশার জয় (কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ- সম্পাদক)।


উত্তরবঙ্গে আলোচনায় যারা:


সাদ্দাম হোসেন (ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক), রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য ( সহ সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটি), রাকিবুল হাসান রাকিব ( সহ সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটি), হায়দার মোহাম্মদ জিতু ( প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক), আবুল হাসনাত সরদার হিমেল ( গ্রন্থতা ও প্রকাশনা সম্পাদক), আবদুল্লাহ হীল বারী ( গণশিক্ষা সম্পাদক), আল আমিন সিদ্দিক সুজন (ক্রীড়া সম্পাদক), মেহেদী হাসান সানী ( সাংস্কৃতিক সম্পাদক), হাসানুর রহমান হাসু ( সমাজসেবা বিষয়ক উপ সম্পাদক), আহসান হাবীব ( উপ দফতর সম্পাদক ও সাবেক জিএস অমর একুশে হল), মিরাজুল ইসলাম খান শিমুল ( উপ দফতর সম্পাদক)।


খুলনা অঞ্চলের আলোচনায় যারা:


ফরিদা পারভীন (সহ-সভাপতি ), বরিকুল ইসলাম বাধন (সাংগঠনিক সম্পাদক), মো. নাহিদ হাসান শাহিন (মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক),খন্দকার হাবীব আহসান (উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক)।


বৃহত্তর ফরিদপুরের আলোচনায় যারা:


কামাল খান (সহ সভাপতি), রাকিব হোসেন ( সহ সভাপতি), সাগর হোসেন (সহ সভাপতি), শেখ স্বাধীন শাহেদ (সমাজসেবা সম্পাদক), ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত (আইন বিষয়ক সম্পাদক),রনি মোহাম্মদ (কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক), শাহেদ খান (উপ আইন বিষয়ক সম্পাদক),সুজন শেখ (উপ আইন সম্পাদক) শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন ( সাবেক কমিটির উপ দফতর সম্পাদক)। এছাড়া নরসিংদী জেলার ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার হোসাইন আলোচনায় রয়েছেন।


ময়মনসিংহ অঞ্চলের আলোচনায় যারা:


ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সোহান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস,ঢাবির আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শরীফুল হাসান শুভ, ছাত্রলীগের উপ সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক শেখ সাঈদ আনোয়ার সিজার, ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক সুরাপ মিয়া সোহাগ, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপ সম্পাদক রাশিদ শাহরিয়ার উদয় এবং স্কুল ছাত্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক শাকের আহমেদ আল আমিন,সহ সম্পাদক এসএম রাকিব সিরাজী।


সিলেট অঞ্চলের আলোচনায় যারা:


মাহবুব খান (কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), আল আমিন রহমান (কেন্দ্রীয় কমিটির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগ, ঢাবি), মিহির রঞ্জন দাস (আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি), কাজল দাস (সভাপতি, জগন্নাথ হল ছাত্রলীগ, ঢাবি ও সাবেক জিএস জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদ)।


বিবার্তা/রাসেল/সোহেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com