গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট তৈরি করতেই ককটেল বিস্ফোরণ, অভিযোগ রিজভীর
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ২১:৪৬
গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট তৈরি করতেই ককটেল বিস্ফোরণ, অভিযোগ রিজভীর
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট তৈরি করতেই নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।


নয়াপল্টনে যারা জমায়েত করবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্যই এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন সন্ত্রাসের সূত্রপাত করা হয়েছে। আওয়ামী সরকার টিকে থাকার জন্য মরণকামড় দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী মানুষের মনের কথা উপলব্ধি করতে পারছে না। জনগণ এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় শেষ, রক্ষা পাবে বাংলাদেশ’।


রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ মাগরিবের পরপরই নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুস্কৃতিকারিরা। এটি আওয়ামী সরকারের নির্দেশিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ প্রযোজনা। ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিতব্য গণসমাবেশকে বানচাল করার জন্য পুলিশের একটা মাস্টারপ্ল্যান।


বিএনপিকে যেখানে অনুমতি দেয়া হয়েছে সেখানেই সমাবেশ করতে হবে- পুলিশের আইজির এই বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ প্রধান আওয়ামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই কথাবার্তা বলছেন। তিনি কোন ন্যায়নীতি পরোয়া করছেন না। নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী দুঃশাসনের সেবক হিসেবে তিনি কাজ করছেন।


'সেজন্য নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে পরিকল্পিত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গণগ্রেফতারের অভিযান চালানো হচ্ছে। দুঃশাসনকে প্রলম্বিত করতে শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিরোধী দল দমনের এক ভয়ঙ্কর নিপীড়ণ যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাস আর মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘ করেছে শেখ হাসিনার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কারণেই দেশব্যাপী জনমানসে এক শুন্যতাবোধ তৈরি হয়েছে। এরা গুম-খুনের কর্মসূচিকে নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করে মানুষের স্বাধীন কণ্ঠকে স্তব্ধ করে যাচ্ছে। এদের দ্বারাই শেখ হাসিনা দেশের ওপর দখলদারী বজায় রেখেছে।'


রিজভী বলেনন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের কর্মসূচিকে পন্ড করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যে দমননীতি প্রয়োগ করে যাচ্ছে তাতে তারা দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রবঞ্চনা ও কপটতার আশ্রয় নিয়ে একের পর এক অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করে তার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না। প্রতিনিয়ত আগুন সন্ত্রাসের জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এ ধরণের ঘটনা যে সরকারি গোয়েন্দা ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল সেটি ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হচ্ছে।


তিনি অভিযোগ করেন, ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশকে বানচাল করতেই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিএনপি পার্টি অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে ১০ ডিসেম্বর নিয়ে যতই নীল নকশা করা হোক বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে নয়াপল্টনের গণসমাবেশকে সাফল্যমন্ডিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


বিবার্তা/কিরণ/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com