রাজনীতি
ছাত্রলীগের সম্মেলন: চট্টগ্রাম বিভাগে আলোচনায় যারা
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০৮:১১
ছাত্রলীগের সম্মেলন: চট্টগ্রাম বিভাগে আলোচনায় যারা
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর ২০২২ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩ ডিসেম্বর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় তা পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর করা হয়। এদিকে এই জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ও সমর্থকদের এখন প্রধান আলোচ্য বিষয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। কারা আসছেন নেতৃত্বে? নানা সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা।



৪ নভেম্বর, শুক্রবার ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার তা ৩ তারিখের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বর করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাবেন। দেশে ফিরবেন ৩ ডিসেম্বর। যার কারণে সম্মেলনের তারিখ পেছানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ফলে সম্মেলনের তারিখ ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।



এদিকে তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঘুম নেই পদপ্রত্যাশীদের। সম্মেলনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, পদপ্রত্যাশী ও কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ততই বেড়ে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে পদপ্রত্যাশীরাও শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ হাইকমাণ্ডের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তারা সংগঠনের জন্য নিজেদের ত্যাগ ও ইতিবাচক দিকগুলো বিভিন্নভাবে প্রচার করছেন।


নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে এবারও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নেতা বাছাইয়ে নেতৃত্ব দিবেন। সম্মেলনে যোগ্যতা, মেধা ও পারিবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট- এসব বিবেচনায় নিয়ে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেতা বানানো হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা দলে ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর থাকার নির্দেশনা রয়েছে দলের হাইকমান্ডের।



পদপ্রত্যাশীসহ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা- ছাত্রলীগে মেধাবী, শিক্ষার্থীবান্ধব, রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব সম্পন্ন নেতা আসবেন।



এদিকে ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। তার মধ্যে- পারিবারিক পরিচিতি, নিয়মিত ছাত্রত্ব, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও এলাকা। সে হিসেবে নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি এলাকার বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পেয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন বিভাগের পদপ্রত্যাশীরা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের ধারাবাহিক আয়োজনের আজ প্রথমপর্ব, সম্মেলনে নেতৃত্বের দৌড়ে চট্টগ্রাম বিভাগে আলোচিত যারা, তাদের নিয়ে।


সম্মেলনগুলোর ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০০৬-২০১১ পর্যন্ত মাহমুদ হাসান রিপন এবং মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন যথাক্রমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে রিপন ছিলেন উত্তরবঙ্গের আর রোটন চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এরপর ২০১১ সাল থেকে ২০১৮/১৯ পর্যন্ত ছাত্রলীগের ৩টি নতুন কমিটি আসলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কেউ শীর্ষ নেতৃত্বে আসেনি। ফলে অনেকের দাবি, বিগত ৩টি কমিটিতে যেহেতু চট্টগ্রামের কেউ শীর্ষ নেতৃত্বে আসেনি, তাই এবার চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে একজন নেতা আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। ফলে এবারের সম্মেলনে প্রার্থী নির্বাচনে এ অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আলোচনায় যারা:


চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন মাজহারুল ইসলাম শামীম (সহ-সভাপতি), মাহমুদুল হাসান তুষার (সহ-সভাপতি), তাহসান আহম্মেদ রাসেল (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), সাদ বিন কাদের চৌধুরী (সাংগঠনিক সম্পাদক), নাজিম উদ্দিন (সাংগঠনিক সম্পাদক), আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন (শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক), তানভীর হাসান সৈকত (উপ-সমাজসেবা সম্পাদক) ও ফয়সাল মাহমুদ (নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক)।


তবে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে কী আসছে না, তা জানার জন্য আগামী সম্মেলনের পর নতুন কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


কেমন নেতৃত্ব চান আলোচিত পদপ্রত্যাশীরা?


ছাত্রলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কেমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম বিবার্তাকে বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের পথ ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন উপলক্ষ্যে ছাত্রলীগের মধ্যে এক নতুন উৎসব বিরাজমান, সংগঠনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এখন সমস্ত জল্পনা কল্পনা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে, কেমন নেতৃত্ব উপহার পাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তথা তৃণমূল।


তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে ছাত্রলীগে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থেকে যারা রাজনীতি করেছে, যারা ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি-জামাতের নাশকতা মোকাবিলা করেছে, যারা হেফাজতের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে প্রতিরোধ করেছে, কোটা আন্দোলনে যারা শিবিরের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যাদের পারিবারিক আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা মোকাবেলা করতে সক্ষম, তাদের মধ্য থেকেই যেনো নেতৃত্ব আসে।


শামীম বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণতা, দক্ষতা, সাহসীকতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। আশাকরি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে একটি সময়োপযোগী কমিটি উপহার দিবেন।


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষার বিবার্তাকে বলেন, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মনেপ্রাণে লালন করেন, ধারণ করেন এবং জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে দক্ষতা, বিচক্ষণতার সাথে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন, এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি। তাছাড়া যাদের দীর্ঘদিন সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং একইসাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার যোগ্যতা রাখেন, তেমন নেতৃত্বই আমরা চাই।


ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহম্মেদ রাসেল বিবার্তাকে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার দর্শনকে যারা বুঝতে পারবে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল নেতাকর্মীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারবে এবং বঙ্গবন্ধু তনয়ার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে- এমন নেতৃত্বই আমরা কামনা করছি। এছাড়া কর্মীদের আবেদনকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন কমিটি দিলে তারা নব উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা পাবে।


ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের আদর্শের সংগঠন। কাজেই আগামীতে ছাত্রলীগে যে নেতৃত্ব আসবে, সেই নেতৃত্ব অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। এমন নেতৃত্ব বাংলার ছাত্রসমাজ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করে। যে নেতৃত্ব জঙ্গিবাদ বিরোধী ও সাম্প্রদায়িকতাকে ধূলিসাৎ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন ‍নেতৃত্ব আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদসহ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কাজেই যে নেতৃত্ব আসবে তারা ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলবে এবং একইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চলার পথকে মসৃণ রাখার জন্য বিচক্ষণতার সাথে কাজ করবে।


ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ লিমন বিবার্তাকে বলেন, ছাত্রলীগের ৩০তম কাউন্সিলের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি, যেই নেতৃত্ব সময়োপযোগী এবং যুগোপযোগী। যেই নেতৃত্বের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে। যেই নেতৃত্ব সৃজনশীলতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করার জন্য মননশীল। অর্থাৎ আমি এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি- যে সৎ, যোগ্য ও সৃজনশীল হবে। সর্বোপরি আমি বলতে চাই একুশ শতকের যে চ্যালেঞ্জ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য যুগোপযোগী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হয়ে আগামী দিনের লড়াই সংগ্রামে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে পারে অর্থাৎ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে, এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি।


বিবার্তা/রাসেল/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com