ঢাবিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় ছাত্রদল
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৭
ঢাবিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় ছাত্রদল
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যুগপৎ আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই জাতির সামনে তুলে ধরবে দলটি। তবে আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণার আগে তারা রাজপথে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়। ইতিমধ্যে দলটি সেটা দেখাচ্ছেও। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির 'ভ্যানগার্ড' খ্যাত ছাত্রদলকে ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাস্পাস নিজেদের দখলে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। কারণ দলটি মনে করছে, ঢাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে সেই আন্দোলন কখনও সফল হবে না। এজন্য তাদের ছাত্র সংগঠন সস্প্রতি সময়গুলোতে ক্যাম্পাসমুখী হতে চেষ্টা করছে এবং ঢাবির আশপাশের অলি-গলিতে নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক অবস্থান নিচ্ছে।


দলটি বলছে, ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরবময় ভূমিকা রাখে এই ‘ছাত্র সংসদ’। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করেছে ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। তাই বিএনপি মনে করছে, আন্দোলন সফল করতে ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তারা, আন্দোলন গড়ে তুলতে ঢাবিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।



তারা বলছে, ছাত্রদের জন্যই দেশে সব আন্দোলন সফল হয়েছে। আর এবারও যে পরিবর্তন হবে, ছাত্রদলের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে এবং দূর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে।



ছাত্রদলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল দেশের বৃহৎ একটি ছাত্র সংগঠন। রাজনীতি করতে হলে সংগঠনটিকে ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাস্পাসমুখী হতে হবেই। সেজন্য সম্প্রতি সময়ে সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। আর অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে আগে ক্যাম্পাসে যেতে হবে। তাই নতুন কমিটি গঠনের পর তারা ঢাবির উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এরআগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাদের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের অন্য একটি কর্মসূচি থাকার কারণে সেটা হয়নি।


জানতে চাইলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা বিবার্তাকে বলেন, ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা সুস্থ হলে তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা। বৈঠকে পর তারা আবারও ঢাবি ক্যাম্পাসে যাবেন। ওই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করলে তার দাঁত ভাঙা জবার দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ছাত্রদল সেদিন ক্যাম্পাসে যাবে।


জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বিবার্তাকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল করার জাগায় না। কারণ এটা আওয়ামী লীগের বাবার জায়গা না। আর আমাদেরও না। আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম করছি। কারণ নতুন কমিটি ঢাবির উপাচার্য এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই কাজ শুরু করেন।


এদিকে এক দশকের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে তেমন কোন সুবিধা করতে পারছে না দেশের বৃহৎ ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তবে ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই সময় ঢাবিতে ছাত্রদলের রাজনীতি দৃশ্যমান ছিল। আর নির্বাচনের পরে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা কিছুদিন ক্যাম্পাসে গেলেও পরবর্তীতে তারা আর ঢাবি কেন্দ্রিক হতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কর্মীরা সব সময় সশস্ত্র অবস্থায় থাকেন। যার ফলে আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও চর্চা- সেটা ঢাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলো করতে পারছে না।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ওই দিন ঢাবি উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এই হামলা হয়।


এবিষয়ে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বিবার্তাকে বলেন, ক্যাম্পাসে সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। কিন্তু ছাত্রলীগ যদি সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় তাহলে আমরা চুপচাপ বসে থাকব না। কারণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রক্ত দিতে জানেন। আর রক্ত দিতে প্রস্তুতও আছে। সুতরাং আমরা শুধু মার খাবো, এটা ভাবলে সঠিক হবে না। এজন্য যদি নিজেদের শক্তি জানান দিতে হয়, তার জন্য ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে।


কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বিবার্তাকে বলেন, ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা করেছে। এর কোন বিচার আমরা পাই নাই। বিষয়টি মিডিয়ায় এসেছে। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করে করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। সুতরাং আমাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন আমরা করে যাব।


জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বিবার্তাকে বলেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি পূরণের জন্য আমরা কাজ করছি। সুতরাং আমাদের দাবি আদায়ের জন্য কাম্পাসে যেতেই হবে। আর আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। তাই পড়াশোনা করার জন্যও আমাদের ক্যাম্পাসে যেতে হবে। এর পাশাপাশি আমরা রাজনীতি ও জ্ঞান চর্চা করব।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, ক্যাম্পাসে আমরা রাজনৈতিক চর্চা শুরু করতে চাই। সব ছাত্র সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে আমরা রাজনীতি করব। কিন্তু আমাদের সেটা করতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দরা ক্যাম্পাসে যেতেই আমাদের ওপর ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা করে। কিন্তু আমরা কোন বিশৃঙ্খলা চাই না। কারণ আমরা একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। আর আমরা অবশ্যই ক্যাম্পাসে ফিরে যাব। কারণ আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন না।


বিবার্তা/ কিরণ/ রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com