আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সাফল্য
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:২৩
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সাফল্য
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

গত ১৫ বছর কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অব্যাহত সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সকল রাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসারে সচেষ্ট রয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করেছিলেন-' সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়'। বঙ্গবন্ধুর এই নীতিই বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অঙ্গীকারের কথা বলা রয়েছে। অন্যদিকে সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দক্ষতার কারণে সমূদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। আর রোহিঙ্গা সঙ্কটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চোখে মানবতার উজ্জ্বল উদাহরণ।


বিশ্ব পরিস্থিতিতে মূল্যবোধভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদারে করার কূটনৈতিক মনোভাবের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তৎপরতা এসব সাফল্য ও অর্জনের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আর গত এক যুগে অর্জিত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছে।



বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্বশীল, দুরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির প্রচেষ্টার কারণেই বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং বিশ্বশান্তিতে পরিচিতি লাভ করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দারিদ্র দূরীকরণে বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে।



জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপক অবদান আমরা দেখছি। আর এই ব্যাপক অবদান বলা যায় যে, বাংলাদেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে সাফল্য- সেই সাফল্যের বড় ক্ষেত্র হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে- বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়গুলো যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে ভারতের সাথে আমরা গভীর সম্পর্ক করতে পেয়েছি।


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনীতির মূলনীতির জন্যই কিন্তু বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করছে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যে মূল বৈশিষ্ট্য দেখি, বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখবে। একই সঙ্গে বন্ধত্বও বজায় রাখা। সম্প্রতি মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্তে গোলাগুলি এবং মর্টার নিক্ষেপের করছে। বাংলাদেশ কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে তার সমস্যার সমাধান করছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে সবচেয়ে বড় উপহার, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ভাবমূর্তি, বড় ধরণের স্বীকৃতি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বিবার্তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, উনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার দেশ পরিচালনায় খুঁটিনাটি সবকিছু জানেন। ফলে একটি দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক কিভাবে পরিচালনা করতে হয় এবং রক্ষা করতে হয়- সেটা ওনার চেয়ে এখন বাংলাদেশের খুব মানুষই দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুব ভালো কাজ করতে পারছেন না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী খুব ব্যালেন্স করে বৈদেশিক কূটনৈতিকদের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন।



এদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস, আওয়ামী লীগ সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের এটি একটি বড় অর্জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জন্মের ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মতো সফলতা দেখিয়েছে।



এই দূরদর্শী নেতৃত্বেই কারণেই শেখ হাসিনার পেয়েছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পদক।করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সফলতার জন্য ২০১৯ সালে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দেয়া হয়। ওই বছরেই শেখ হাসিনাকে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পদক পান। এরআগে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট- শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পর্যায়ের পদক পান। আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও মানবিকতার জন্য আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৮ সালে স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


অর্জন


উন্নয়নশীল একটি দেশ হয়েও বাংলাদেশ সারা বিশ্বের নিকট ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র দূরীকরণে তার ভূমিকা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মন্তব্য হচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের।


এবিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বিবার্তাকে বলেন, আমরা যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছি। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলা হয়। আর কালজয়ী কতগুলো সিদ্ধান্ত, যেমন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া। এই যে ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে উন্নয়নের বড় ভূমিকা রেখেছে। আর বিশ্বের জলবায়ু কূটনীতিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা করে আছি।


নারী ও শিশু উন্নয়নে অর্জন


জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১’ বাংলাদেশের নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। আর ‘জাতীয় শিশু নীতি-২০১১’ প্রণয়নের মাধ্যমে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে সুরক্ষিত করা হয়েছে। দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল স্থাপন করা হয়েছে। দুঃস্থ, এতিম এবং অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাউথ–সাউথ এওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে।


জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বিবার্তাকে বলেন, আমরা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না, সামাজিক এবং নারী যে ক্ষমতায়ন-এখানে একটা বড় ধরণের অগ্রগতি সাধন করতে পেয়েছি। যেটা বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সব সময় বলেন।


ডিজিটাল বাংলাদেশ


আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে দেশের ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। আর তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। দেশের প্রতিটি উপজেলাকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।


কৃষিতে কৃতিত্ব এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন


কৃষিখাতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে। প্রায় ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম আবিষ্কার করেছেন পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং। সারাবিশ্বে আজ পর্যন্ত মাত্র ১৭টি উদ্ভিদের জিনোম সিকুয়েন্সিং হয়েছে। তার মধ্যে ড. মাকসুদ করেছেন ৩টা। তার এই অনন্য অর্জন বাংলাদেশের মানুষকে করেছে গর্বিত।


প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নয়ন


বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশের শ্রমিক কর্মরত আছে। বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ স্থাপন করেছে অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বল্প সুদে অভিবাসন ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক স্থাপন করে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে এর শাখা স্থাপন করা হয়েছে। আর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু জনগণকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। যার ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণকেও এ সেবা গ্রহণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে হয়রানি ছাড়াই স্বল্প ব্যয়ে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোতে শ্রমিকরা যেতে পেরেছে।


জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ


বর্তমান সংঘাত-পীড়িত বিশ্বে শান্তিরক্ষায় অনন্য ও অগ্রণী নাম বাংলাদেশ। নেতৃত্ব, দক্ষতা, ত্যাগ ও প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বীর ও সাহসী শান্তিরক্ষীগণ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে আসীন করেছেন আস্থা ও বিশ্বাসের উচ্চতর মর্যাদায়।


এবিষয়ে জানতে চাইলে ড. দেলোয়ার হোসেন বিবার্তাকে বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণে লক্ষ্য করি, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের অর্জন কিংবা বাংলাদেশ সম্পর্কে বলেননি। উনি সেখানে বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যে যে বর্তমানে যুদ্ধ, অস্ত্র প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধরণের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের ক্ষতি হচ্ছে, বিশের করে মানবতা এবং শান্তি বিপন্ন হচ্ছে- সেটার বিরুদ্ধে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সোচ্চার। ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অর্জন হচ্ছে, একদিকে যেমন আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে পেয়েছি। অন্যদিকে বাংলাদেশের যে মূল স্লোগান, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। সেটাকে বাস্তবায়ন করা এবং বাংলাদেশ দেখিয়েছে যে, বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।


শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অর্জন


বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পাশাপাশি প্রসার ঘটেছে আবাসন, জাহাজ, ঔষুধ, ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পের। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যোগ হয়েছে জাহাজ, ঔষুধ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী। বাংলাদেশের আইটি শিল্প বহির্বিশ্বে অভূতপূর্ব সুনাম কুড়িয়েছে।


মন্দা মোকাবিলায় সাফল্য


মন্দার প্রকোপে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত ছিল বাংলাদেশ তখন বিভিন্ন উপযু্ক্ত প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে মন্দা মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথ ধারার বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ।


অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বিবার্তাকে বলেন, মিয়ানমারের সাথে আমাদের যে সমস্যা ছিল, সেই সমস্যার সমাধান করতে পেয়েছি। আর ২০০৯-১০ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বড় অগ্রগতি হয়েছে। সেই অগ্রগতির ধারায় আজকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যতম সফল নেতা। আর গত ১৫ এবং ২০ বছরের যদি একটা পরিসংখ্যান আমরা দেখি তাহলে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে যে অগ্রগতি সম্পন্ন করে আরো সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার যে লক্ষ্য, ইতিমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হতে যাচ্ছি। এছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের অনেকগুলো সংস্থায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ সক্রিয়।


তিনি বলেন, ৭০-৮০ দশকে বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের যে দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হয়েছিলো, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। কিন্তু এখন বাংলাদেশ বিভিন্ন অগ্রগতির জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের যে মানবতার অঙ্গীকার- এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সহায়তা করেছে।


ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বিবার্তাকে বলেন, বড় শক্তি যারা, যেমন আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান, চীন এবং ভারত- এদের সবার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী একটি ব্যালেন্স করে চলার নীতিতে আছেন। আর বাংলাদেশের যে মূলনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর যে পররাষ্ট্রনীতি- সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। সেটা উনি (প্রধানমন্ত্রী) ফলো করছেন।


তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মিয়ানমার ইস্যুতে খুব পরিস্কার যে, প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত সহনশীল। কারণ মিয়ানমার যে ধরণের উস্কানি দিচ্ছে, সেগুলো অন্য কোন দেশের সাথে হলে ছোট-খাটো যুদ্ধ হতো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনেক সহনশীল হয়ে এবং অনেক চুপচাপ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।


আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাই।


বিবার্তা/ কিরণ/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com