মেগা প্রকল্প বন্ধের দাবি ফখরুলের
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২২, ১৭:৩৯
মেগা প্রকল্প বন্ধের দাবি ফখরুলের
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মেগা প্রকল্প অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (১৮ মে) বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান ফখরুল।


গত ১৬ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


বর্তমান গণস্বার্থ বিরোধী আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকার তাদের ব্যক্তিগত অর্থের ঝোলা ভর্তি করতে অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। ইতোমধ্যেই দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা এসব প্রকল্পকে জনগণের জন্য ঋণের বোঝা ভারী করার শ্বেত-হস্তী প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার ও ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অন্যতম।


রাশিয়ার কাছ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মাত্র ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য রূপপুর প্রকল্পটি কার স্বার্থে বাস্তবায়ন হচ্ছে জনমনে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আরো অনেক কম খরচে বিকল্প পন্থায় উৎপাদন করা যেত। রাশিয়া ভারতে প্রায় একই ক্যাপাসিটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় বাংলাদেশের অর্ধেক। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বাংলাদেশ এতো বেশি বৈদেশিক ঋণ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য চুক্তি করেছে? তাই আমরা জানতে চাই, এ ঋণ পরিশোধে ২০ বছর সময় লাগবে বলে সরকারিভাবেই জানানো হচ্ছে। কিন্তু ২০২৫ সাল থেকে বাৎসরিক কিস্তি ৫৬৫ ডলার দিতে থাকলে বাংলাদেশকে সুদাসলে কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে তা জনগণকে জানানো হোক।


দুটো রেলপথ প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-যশোর-পায়রা পর্যন্ত নির্মীয়মাণ রেলপথের অর্থনৈতিক ‘ফিজিবিলিটি’ ভবিষ্যতে খুব বেশি আকর্ষণীয় হওয়ার তেমন সুযোগ নাই। ফলে ভবিষ্যতেও রেলপথটি ‘আন্ডার-ইউটিলাইজড’থেকে যাবে। অতএব, ওই প্রকল্পের সম্ভাব্য আয় দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা চীনা ঋণের অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির সুদাসলে কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। একই অবস্থা চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ প্রকল্প নিয়ে। এ রেলপথও অদূরভবিষ্যতে ‘আন্ডার ইউটিলাইজড’ থাকা ছাড়া গত্যন্তর নেই। এ রেলপথের আয় দিয়ে কখনই প্রকল্পটির ঋণের কিস্তি শোধ করা যাবে না। এ সকল প্রকল্প অনতিবিলম্বে বন্ধ করা হোক।


গত ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে চাপে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স আয়ে ঘাটতির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অসহনীয় হয়ে উঠছে জিনিসপত্রের দাম। মনে হচ্ছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে উঠবে।


তিনি বলেন, দেশকে রক্ষার জন্য মানুষকে বাঁচানোর জন্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এ মুহূর্তে সার্বজনীন ঐক্যের মাধ্যমে রাজপথে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলে অনতিবিলম্বে এ সরকারকে হঠানোর কোন বিকল্প নেই।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/কিরণ/এসএফ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com