'জনগণের কাছে এই সরকারের কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই'
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩৮
'জনগণের কাছে এই সরকারের কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই'
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সহযোগিতায় কোভিড-টেস্টের ভুয়া সনদপত্র কেলেঙ্কারি, করোনা চিকিৎসার নামে ভুয়া হাসপাতাল চালু, মাস্ক, পিপিই সরঞ্জাম, সেনিটাইজার খরিদ-টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির মহোৎসব-এতসব অপকর্ম করে জনগণের কাছে এই সরকারের কোনই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।


আজ শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


রিজভী বলেন, সরকার শুরু থেকেই কোভিড-নাইন্টিন পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা করে ফেলেছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আতঙ্ক ও ভীতির সুযোগে ত্রাণ বিতরণের নামে সারাদেশে দুর্নীতি ও লুটপাট করছে ক্ষমতাসীনরা। এরপর করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ভারত থেকে টিকা আমদানি ও ক্রয় নিয়ে নিশিরাতের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম এক উপদেষ্টার মালিকানাধীন বেক্সিমকোর অতিমাত্রায় তৎপরতা, চুক্তি, বেক্সিমকোর তৎপরতার সঙ্গে সরকারের রহস্যজনক আর্থিক লেনদেনের যোগসাজশ-সব মিলিয়ে টিকা সম্পর্কেও জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।


তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স তার প্রতিবেদনে বলেছে-‘ভারত করোনাভাইরাস ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে’ অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ভারত যদি দেখে এটা নিরাপদ তখন তারা ভারতের জনগণকে এই ভ্যাকসিন দেবে। ভারত নিজেরাই এর পরীক্ষা শুরু করবে আগামী মার্চ থেকে। ওই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকারের ছাড়পত্র পাওয়ায় বহু বিশেষজ্ঞ বিস্মিত।


বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারতে টিকা গ্রহণের পর চারদিনে মারা গেছে তিন জন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ছয় শত। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিতর্কিত কোভ্যাক্সিন টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকদের বড় অংশ। তারা বলেছেন, ’কোভ্যাক্সিন নিয়ে আমরা সন্দিহান ও সংশয়ী।


তিনি বলেন, গত এক যুগে ভারতের সঙ্গে ভক্তি-চুক্তি কিংবা যা কিছুই হয়েছে জনগণকে কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। বরং কেউ প্রশ্ন তুললেও তাকে ‘আবরারের’ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। সুতরাং রক্তের বন্ধন বা স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতির 'জোর কিংবা জেরে' সরকার যে ধরনের টিকাই আমদানি করুক এটি 'ভালো কি মন্দ' সেটি এই নিশিরাতের সরকারই ভালো জানে। সুতরাং উপহার পাওয়া টিকা যদি 'কোভিশিল্ড' হয় তাহলে সেই টিকা সর্বপ্রথম 'রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী' ও মন্ত্রী পরিষদ নিতে পারেন। নিতে পারেন উচ্চ পর্যায়ের আমলা ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা। তাহলে মানুষের মনে সংশয় নিরসন হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও তাই হয়েছে।


তিনি আরো বলেন, সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, এই উপহার 'মোদী-হাসিনা শক্তিশালী সম্পর্কের ফল'। সেই হিসেবেও 'রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী' সবার আগে এই টিকা পাওয়ার দাবিদার। তাছাড়া সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটাতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারাই এগিয়ে এসে কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। আমেরিকায় প্রকাশ্যে করোনা টিকার ডোজ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গোটা বিষয়টি ক্যামেরাবন্দি করে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় সংবাদমাধ্যমে। তাঁকে দেখে ভ্যাকসিন নিতে এগিয়ে এসেছেন তিন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন। প্রকাশ্যে টিকা নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও এবং হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।


প্রতিষেধক নিয়ে ব্রিটেনবাসীর সংশয় দূর করতে রাজপ্রাসাদে বসে টিকা নিয়ে নজির গড়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ।


পৃথিবীর দেশে দেশে রাস্ট্র ও সরকারপ্রধানরা যেভাবে টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে মানুষকে আস্থা ও ভরসা দিচ্ছেন ও আশ্বস্ত করছেন আপনারাও সেই পথ অনুসরণ করুন। তাদের মতো আপনারাও সাহসী পদক্ষেপ নিন। আপনারা আগে টিকা নিলে জনগণ ভরসা পাবে।


বিবার্তা/জাহিদ/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com