সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশা করা ভুল: নজরুল
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৩১
সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশা করা ভুল: নজরুল
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরি থেকে অব্যাহতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। ঢাবির বর্তমান প্রশাসন প্রকৃতপক্ষে সরকারেরই একটি প্ল্যাটফর্ম সুতরাং এই সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশা করা ভুল।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাবির অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে অব্যাহতির প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।


সমাবেশ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ওয়াহিদুজ্জামান এপোলোকে চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।সেইসাথে সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের হাতে তরুণী ধর্ষণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পেশাজীবীরা।


নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোর্শেদ হাসান খান চারটা ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন। মেট্রিক ও ইন্টারে বোর্ড স্ট্যান্ড করেছেন। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে! এভাবে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেননা।


তিনি বলেন, বর্তমান ভিসি তো আজ্ঞাবহ। তাদের কাছে সুবিচার পাওয়ার কোনো কারণ নেই। নজরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন ভঙ্গ করে যাদের চাকরি খেয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল করতে হবে। এখন না হলেও একদিন তাদের পুনর্বহাল হবেই ইনশাআল্লাহ।


তিনি বলেন, দেশে নানামুখী সংকট চলছে। আমরা করোনার কারণে একটা মাস্ক পরি। কিন্তু সরকারের আরো মাস্ক পরা দরকার। তারা নানা ভাইরাসে আক্রান্ত। এধরনের ভাইরাস থেকে বাঁচতে সবার উচিত দুর্নীতি বিরোধী মাস্ক পরা।


বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে নারী নির্যাতন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা এখন তিন নাম্বার ভাইরাস। এজন্যও তাদের মাস্ক পরা উচিত। তবে তারা বাঁচতে পারবেন।


তিনি বলেন, শহীদ জিয়া সম্পর্কে নাটক প্রচারিত হচ্ছে একজন আওয়ামী লীগের এমপির টিভিতে। কিন্তু বলবো- আপনাদের বড় বড় ওস্তাদরা অপপ্রচার করে কি কোনো লাভ হয়েছে? আপনারা ভয় পান বলেই এসব করছেন। আসলে তারা জিয়া, খালেদা ও তারেকের ফোবিয়ায় ভুগছেন। এজন্য চিকিৎসা দরকার।


নজরুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিবিদদের নিরুৎসাহিত করা গণতন্ত্র ও দেশের সুষ্ঠু রাজনীতির জন্য খারাপ। বিএনপি তো একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেছে।


বিএসপিপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ডা. জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধন ও পেশাজীবী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন , নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাবির সাবেক প্রোভিসি ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, বিএনপির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলামসহ পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।


সমাবেশে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা এই সরকার তথা আওয়ামী লীগের সেবা আর চাইনা। আপনি জনগণের মতামত নিন গদি থেকে নেমে যান। জনগণ তাদের পথ বেছে নিবে। তিনি বলেন, এই সরকারের হাতে কেউ নিরাপদ নন। আজকে দেশের কোথাও মা বোনেরা নিরাপদ নন। এই সরকার ইতিহাস নিজেরাই বিকৃতি করছে। ড. মোর্শেদ প্রবন্ধ লিখেছেন। সেটা পছন্দ নাই হতে পারে। আপনারাও লিখেন। তাই বলে চাকরি খাবেন এই অধিকার কে দিয়েছে?


শওকত মাহমুদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে কলংক লেপন করেছে। তাহলেতো যারা ড. মোর্শেদের বিরোধিতা করেছে ভবিষ্যতে সবারই চাকরি খেতে হবে। জিয়া সম্পর্কে যারা নাটক বানাচ্ছে তাদের জন্ম তো তখন হয়নি। জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবেনা।



রুহুল আমিন গাজী বলেন, ডঃ মোর্শেদের চাকরি থেকে অব্যাহতি অন্যায়। আজ তাদের সোনার ছেলেরা ধর্ষণ করছে। এভাবে পার পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সবাই আজ ঐক্যবদ্ধ। কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।


ইউসুফ হায়দার বলেন, কেবল নৈতিক স্খলন হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি যায়। কিন্তু মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও বাকস্বাধীনতার জন্য চাকরি যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে অন্যয়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ঢাবি প্রশাসন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।


কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ড. মোর্শেদ জাতির একজন হীরার টুকরো। তাকে নিবন্ধ লেখার কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা অন্যায় এবং বিধি বহির্ভুত। যত ষড়যন্ত্রই করুন জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। তিনি কতো বড়ো নেতা ছিলেন তার জানাযা নামাজে প্রমাণিত হয়েছে।


বিবার্তা/জাহিদ/আবদাল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com