‘বাংলাদেশ-ভারত মানুষে মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে’
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:০১
‘বাংলাদেশ-ভারত মানুষে মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপ নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, দুদেশের সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভালো থাকলেও মানুষে মানুষে এখনো দূরত্ব রয়ে গেছে। ফেনী নদীর পানি, তিস্তা চুক্তি ও এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে বিরূপ মনোভাব রয়েছে। এ দূরত্ব কমিয়ে আনা দরকার। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।


সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের হোয়াইট হাউজ রেস্টুরেন্টে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।


ত্রিপুরা রাজ্যের স্পিকার রেবতি মোহন দাসসহ ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে সার্ক কালাচারাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। সার্ক কালচারাল সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুজন দে'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরার বিজেপির বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা, আগরতলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রণব সরকার, আসামের সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. সৌমিন ভরাদিয়া, সুনীল শুভ রায়, ভোরের ডাক সম্পাদক কেএম বেলায়েত হোসেন ও মনতাজুল করিম।


জি এম কাদের বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে ভারতের যে সমস্যা ছিল তা মিটে গেছে। তাদের নির্মূল করা হয়েছে। এখন দুদেশের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। কিন্তু‘সম্প্রতি ফেনী নদীর পানি ভারত নিলে এদেশের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেখা গেছে তারা পানি নিচ্ছে খুবই কম পরিমাণ। আবার এনআরসি নিয়েও বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে আতংক রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এনআরসি আমাদের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। ভারত আমাদের তিস্তা নদীর ন্যয্য হিস্যা দিচ্ছেনা। এটা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। এভাবে মানুষে মানুষে যে দূরত্ব রয়েছে তা দূর করা প্রয়োজন। এক দেশ আরেক দেশের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। সম্পর্কের বন্ধন আরো দৃঢ় করতে হবে।


অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার স্পিকার রেবতি মোহন দাস বলেন, ত্রিপুরার ৮০ ভাগ সীমান্ত বাংলাদেশের সাথে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অনেক মানুষ ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশে এসে আমরাও দলমত নির্বিশেষে আথিতেয়তা পেয়েছি। বাংলাদেশ আমাদের সৎ প্রতিবেশী। আমাদের বন্ধন আত্মীয়তার।


তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনুপ চেটিয়াসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করেছে। এতে আমাদের সমস্যা দূরীভুত হয়েছে। এখন ফেনী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। এ সম্পর্ক আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগামীতেও যেকোনো প্রয়োজনে আমরা একে অপরের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেব।


সভাপতির বক্তৃতায় সৈয়দ আবু হাসেন বাবলা বলেন, দুদেশের সম্পর্ক অনেক গভীর। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অনেক সহায়তা করেছে। আমরাও ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছি। আমরা একে অপরের পরিপূরক। আমরা যেভাবে ভারতের সহায়তায় এগিয়ে এসেছি, তাদেরও সেভাবে এগিয়ে আসা উচিত। আমরা তিস্তার পানি পাওয়ার আশা করছি।


তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা ভারতের চেয়েও অনেক ভালো পরিবেশে রয়েছে। এখানে হিন্দুদের সংখ্যালঘূ হিসেবে দেখা হয় না, আমাদের সম্পর্ক ভাইয়ের মত।


বিবার্তা/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com