অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে 'বাওয়াছড়া'
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১১:২০
অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে 'বাওয়াছড়া'
পর্যটন ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

দূর থেকে শোনা যায় ঝরনার রিমঝিম শব্দ। পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহ পাখির কলতান কার না মন জুড়ায়।


মিরাসরাইয়ের রূপের পসরার অন্যতম এক অনুষঙ্গ হল বাওয়াছড়া লেক। ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ার কলকল ধ্বনি, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহে অতিথি পাখিদের কলতান। এমন পরিবেশে কার না মন জুড়াবে। যেকোন পর্যটক মুগ্ধ হবেন বাওয়াছড়া দেখে। সে যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।


চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর গ্রামে ছোট কমলদহ বাজারের কাছে বাওয়াছড়া লেক অবস্থিত। ছোট কমলদহ বাজার থেকে লেকে দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। বারমাসি ছড়ার নিকট অবস্থানের কারণে লেকটিকে বাওয়াছড়া লেক নামে ডাকা হয়। নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহ যেন প্রকৃতির লীলাখেলা। দুই পাশে থাকা বনাঞ্চলের জীব বৈচিত্র্যে দেখতে পাবেন লাল আর নীল রঙের ফড়িঙের মিছিল! রয়েছে একটি ঝিরিপথ। যত দূর পর্যন্ত ঝিরিপথ গেছে তত দূর পর্যন্ত মনমাতানো ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন শোনা যায়। চলার পথে শোনা যায় হরিণের ডাক। অচেনা পাখিদের ডাক, ঘাসের কার্পেট বিছানো উপত্যকার সাথে।


এখানে সকালের মিষ্টি রোদ আলো ছড়ায় আর অস্তগামী সূর্য লালিমা মেখে দেয় দিগন্ত জুড়ে। স্বর্ণালি স্বপ্নের মতোই তখন পুরো লেক সোনালী রূপ ধারণ করে। তাই পড়ন্ত বিকেলে এখানে এক মোহনীয় সময় পার করতে পারবেন। অবশ্য অনেকে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাওয়াছড়া পাহাড়ের পাদদেশে ক্যাম্পিং করেন। জ্যোৎস্না রাতের রূপালী আভার সাথে ঝর্ণার নূপুর ধ্বনি এক অপার্থিব রাতের সৃষ্টি করে এখানে।


পশ্চিমে অজগরের মতো রেললাইন, পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশ, সারি সারি গাছ আর দু'পাশে থাকা বনাঞ্চলের দিকে তাকালে হয়তো সহজেই দেখা যাবে অনেক জীববৈচিত্র্য। শেষ বিকালে সূর্যের লালরশ্মিতে ঝরনা আর লেকের পানিতে স্বর্ণালী রোধের বর্ণালী চিত্র পরিবর্তনের চোখধাঁধানো সৌন্দর্যে যে কেউ মুগ্ধ হবে। আর এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন শত-শত প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসছে বাওয়াছড়ায়।


মেঘের মতো উড়ে আসা শুভ্র এ পানি আলতো করে ছুঁয়ে দেখলেই এর শীতল পরশ মুহূর্তে ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। অঝোরে পাহাড়ের এ ‘কান্না’ যে কারো মনে নাড়া দেবে। যেন একটু ছুঁয়ে হাত বুলিয়ে যাই! লেকে ছোট্ট একটি নৌকা আছে, সেই নৌকায় লেকে মনের আনন্দের ঘুরে বেড়ান পর্যটকরা।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে এর অবস্থান। সবুজ শ্যামল আঁকাবাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে বারমাসি ছড়ার মুখে তাই লেকটির নামকরণ করা হয়েছে বাওয়াছড়া লেক। এর মধ্যে সামান্য পথ ছাড়া বাকি পথ গাড়িতে যাওয়া যায়।


যত দূর পর্যন্ত ঝিরিপথ গেছে তত দূর পর্যন্ত তাদের মনমাতানো ঝিঁঝি পোকার গুঞ্জন শোনা যায়। চলার পথে শোনা যায় হরিণের ডাক। অচেনা পাখিদের ডাক, ঘাসের কার্পেট বিছানো উপত্যকার সঙ্গে। এই লেকের ঝরনার পানিতে গোসল করার লোভ সামলানো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহ। এ যেন প্রকৃতির লীলাখেলা।


কীভাবে যাবেন?


দেশের যে কোনো জায়গা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার ছোট কমলদহ বাজারের দক্ষিণ পাশে নেমে মাত্র দেড় কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে প্রকল্পের অবস্থান।


সড়কের মূল প্রবেশ মুখে প্রকল্পের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। যে কোন ছোট গাড়ি নিয়ে প্রকল্প পর্যন্ত যাওয়া যাবে।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com